নবম জাতীয় পে-স্কেল: চিকিৎসা ও শিক্ষা ভাতা বাড়ছে কয়েকগুণ, সর্বনিম্ন বেতন হতে পারে ৩৫ হাজার টাকা
- Update Time : ০২:১১:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫
- / ৫৭৬ Time View

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটাতে যাচ্ছে সরকার। নবম জাতীয় পে-স্কেল ঘোষণার প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গঠিত নতুন পে কমিশন ইতোমধ্যেই বেতন কাঠামো, ভাতা বৃদ্ধি ও আর্থিক সুবিধা পুনর্বিন্যাসের প্রাথমিক খসড়া প্রণয়ন করেছে। দ্রব্যমূল্যের লাগামছাড়া বৃদ্ধির এই সময়ে কমিশনের বিশেষ নজর রয়েছে চিকিৎসা ভাতা ও শিক্ষা ভাতা—এই দুই মৌলিক ও মানবিক খাতের ওপর।
চিকিৎসা ভাতা: বৃদ্ধি আসছে কয়েক ধাপে
বর্তমানে একজন সরকারি কর্মচারী মাসে মাত্র ১,৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পান। এই পরিমাণ দীর্ঘদিন অপরিবর্তিত থাকায় কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ জমে উঠেছে। নতুন পে-স্কেলে এই ভাতাটি দ্রুতই বাড়তে যাচ্ছে বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে।
বিভিন্ন সরকারি কর্মচারী সংগঠন থেকে কমিশনের কাছে যে প্রস্তাবগুলো দেওয়া হয়েছে, তা থেকে নিম্নরূপ তিনটি সম্ভাব্য কাঠামো উঠে এসেছে—
১. প্রথম প্রস্তাব: চিকিৎসা ভাতা বর্তমান ১,৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২,৫০০ টাকা করার প্রস্তাব।
২. দ্বিতীয় প্রস্তাব: বর্তমান বাজারে ওষুধ, চিকিৎসা ও চিকিৎসাসামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ায়, অনেক সংগঠন ৫,০০০ টাকা থেকে ৬,০০০ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা ভাতা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে।
৩. তৃতীয় প্রস্তাব (সর্বোচ্চ প্রস্তাব): কর্মচারীর মূল বেতনের ১০ শতাংশ হিসেবে চিকিৎসা ভাতা নির্ধারণের দাবি উঠেছে, যাতে ভাতাটি পদের মর্যাদা ও আয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
এছাড়াও কমিশন শুধু চাকরির সময়কালীন চিকিৎসা সুবিধা নয়, বরং অবসর-পরবর্তী সময়ে চিকিৎসা সেবার আওতা বাড়ানো ও মেডিকেল বিমা চালুর দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে। এর ফলে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও সরকারের স্বাস্থ্যসুবিধার আওতায় থাকবেন।
সর্বনিম্ন বেতন ৩৫ হাজার টাকার প্রস্তাব
নতুন পে-স্কেল আলোচনায় সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন বেতন। পে কমিশনের খসড়া প্রস্তাবে সর্বনিম্ন বেতন ৩৫,০০০ টাকা করার সুপারিশ রয়েছে। একই সঙ্গে, বিভিন্ন কর্মচারী ফেডারেশনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৪০
এ প্রস্তাব অনুযায়ী, নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি গ্রেডভিত্তিক বৈষম্য হ্রাসের দিকেও নজর রাখা হবে।
শিক্ষা, টিফিন ও অন্যান্য ভাতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা
শুধু চিকিৎসা নয়—সন্তানদের শিক্ষা ভাতা, টিফিন ভাতা এবং গৃহভাড়া ভাতা-ও বাড়ানোর প্রস্তাব এসেছে।
বর্তমানে একজন কর্মচারী তার সন্তানের জন্য প্রতি মাসে অল্প পরিমাণ শিক্ষা ভাতা পান, যা বর্তমান শিক্ষা ব্যয়ের তুলনায় অপ্রতুল। কমিশন সেই পরিমাণ দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত বাড়ানোর কথা বিবেচনা করছে।
বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের সরকারি কর্মচারীদের জন্য টিফিন ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাবও গুরুত্ব পাচ্ছে।
বৈষম্য দূর করে নতুন কাঠামো
বর্তমান অষ্টম পে-স্কেলে বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে বৈষম্য ও অসামঞ্জস্যতার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। নবম পে কমিশন সেই অভিযোগের ভিত্তিতে একটি “সামঞ্জস্যপূর্ণ ও বাস্তবসম্মত বেতন কাঠামো” তৈরি করতে চায়, যাতে সকল পর্যায়ের কর্মচারী ন্যায্য সুবিধা পান।
কবে ঘোষণা আসতে পারে?
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, পে কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে জমা দেওয়া হবে। এর পরপরই দ্রুত গেজেট প্রকাশ ও নতুন পে-স্কেল কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, নতুন স্কেল কার্যকর হলে এটি শুধু বেতন বৃদ্ধিই নয়, বরং একটি সমন্বিত সামাজিক সুরক্ষা কাঠামো হিসেবে কাজ করবে, যেখানে কর্মচারীদের মৌলিক চাহিদাগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে ন্যায্য জীবনমান নিশ্চিত করা হবে।










