সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এই সংবিধান রাখলে জুলাইযোদ্ধাদের ফাঁসি দেওয়া যাবে : ব্যারিস্টার ফুয়াদ

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১১:৫৮:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১৫১ Time View

আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন, বর্তমান সংবিধান অপরিবর্তিত থাকলে জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া সম্ভব হতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, “চাইলে কয়েকদিন পর আমাদের সবাইকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেওয়া যাবে।”

মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) এক আলোচনায় ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, তারা গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষে কাজ করেছেন এবং কমিশনের মিটিংয়েও অংশ নিয়েছেন। তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সংবিধানের ৭(ক) ধারা অনুসারে এই ধরনের কর্মকাণ্ড ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতার’ আওতায় পড়তে পারে। ফলে যদি পরবর্তী সংসদ এই ঘটনাগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন বা র‍্যাটিফাই না করে, তবে আইনগতভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থেকে যাবে।

ফুয়াদ বলেন, “এই সংবিধান যেমন আছে, তাতে এনসিপি বা জুলাই আন্দোলনের সক্রিয় অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধেও রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করা সম্ভব। তাই যদি এই সংবিধান অক্ষুণ্ণ থাকে, তাহলে এনসিপির সবাইকেও ফাঁসি দেওয়া সম্ভব।”

তিনি বলেন, “এই পরিস্থিতি থেকে বের হতে হলে ‘জুলাই সনদ’কে সাংবিধানিক মর্যাদা দিতে হবে এবং সংবিধানকে সেই আলোকে পুনর্ব্যাখ্যা করতে হবে। অন্যথায় রাষ্ট্রীয় আইন প্রয়োগের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিশোধের সুযোগ থেকে যাবে।”

ব্যারিস্টার ফুয়াদ আরও বলেন, “আমরা যে পরিবর্তনের জন্য রাস্তায় নেমেছি, তার বৈধতা স্পষ্ট করতে হবে। নইলে ভবিষ্যতে যে কোনো সময় এই পদক্ষেপগুলোকেই বেআইনি ঘোষণা করা হতে পারে। এতে শুধু জুলাইযোদ্ধারা নয়, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সব অংশগ্রহণকারীরাই বিপদে পড়বে।”

তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, “দেশের স্থিতিশীলতা, আইনি স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এখনই রাজনৈতিক ঐকমত্যে পৌঁছানো প্রয়োজন। এই বিলম্ব যত বাড়বে, ততই আইনি জটিলতা ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা গভীর হবে।”

সংবিধানের ৭(ক) ধারা অনুযায়ী, রাষ্ট্রবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ড বা সংবিধান অবমাননা রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। ফলে ব্যারিস্টার ফুয়াদের এই বক্তব্য চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

এই সংবিধান রাখলে জুলাইযোদ্ধাদের ফাঁসি দেওয়া যাবে : ব্যারিস্টার ফুয়াদ

Update Time : ১১:৫৮:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫

আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন, বর্তমান সংবিধান অপরিবর্তিত থাকলে জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া সম্ভব হতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, “চাইলে কয়েকদিন পর আমাদের সবাইকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেওয়া যাবে।”

মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) এক আলোচনায় ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, তারা গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষে কাজ করেছেন এবং কমিশনের মিটিংয়েও অংশ নিয়েছেন। তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সংবিধানের ৭(ক) ধারা অনুসারে এই ধরনের কর্মকাণ্ড ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতার’ আওতায় পড়তে পারে। ফলে যদি পরবর্তী সংসদ এই ঘটনাগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন বা র‍্যাটিফাই না করে, তবে আইনগতভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থেকে যাবে।

ফুয়াদ বলেন, “এই সংবিধান যেমন আছে, তাতে এনসিপি বা জুলাই আন্দোলনের সক্রিয় অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধেও রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করা সম্ভব। তাই যদি এই সংবিধান অক্ষুণ্ণ থাকে, তাহলে এনসিপির সবাইকেও ফাঁসি দেওয়া সম্ভব।”

তিনি বলেন, “এই পরিস্থিতি থেকে বের হতে হলে ‘জুলাই সনদ’কে সাংবিধানিক মর্যাদা দিতে হবে এবং সংবিধানকে সেই আলোকে পুনর্ব্যাখ্যা করতে হবে। অন্যথায় রাষ্ট্রীয় আইন প্রয়োগের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিশোধের সুযোগ থেকে যাবে।”

ব্যারিস্টার ফুয়াদ আরও বলেন, “আমরা যে পরিবর্তনের জন্য রাস্তায় নেমেছি, তার বৈধতা স্পষ্ট করতে হবে। নইলে ভবিষ্যতে যে কোনো সময় এই পদক্ষেপগুলোকেই বেআইনি ঘোষণা করা হতে পারে। এতে শুধু জুলাইযোদ্ধারা নয়, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সব অংশগ্রহণকারীরাই বিপদে পড়বে।”

তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, “দেশের স্থিতিশীলতা, আইনি স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এখনই রাজনৈতিক ঐকমত্যে পৌঁছানো প্রয়োজন। এই বিলম্ব যত বাড়বে, ততই আইনি জটিলতা ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা গভীর হবে।”

সংবিধানের ৭(ক) ধারা অনুযায়ী, রাষ্ট্রবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ড বা সংবিধান অবমাননা রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। ফলে ব্যারিস্টার ফুয়াদের এই বক্তব্য চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।