সময়: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের থাকার সুযোগ নেই: জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১০:৫৪:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫
  • / ২৪৭ Time View

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের থাকার সুযোগ নেই।” তিনি দাবি করেছেন, জনগণ পরিবর্তন চায়, আর সেই পরিবর্তনের ধারায় আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

বুধবার (৫ নভেম্বর) সকালে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জামায়াত আমির এ মন্তব্য করেন। এটি ছিল দলের সর্বোচ্চ পদে টানা তৃতীয়বার নির্বাচিত হওয়ার পর তার প্রথম সিলেট সফর।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আদায় করে ছাড়ব। যদি নির্বাচন না হয়, তবে দেশে নানান ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। জাতির স্বার্থে নির্বাচন অবশ্যই হতে হবে, তবে সেটি হতে হবে জনগণের অংশগ্রহণমূলক।”

জোটবদ্ধ রাজনীতিতে না ফেরার ঘোষণা

নির্বাচনী জোট নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা কোনো জোট করার সিদ্ধান্ত নেইনি। জামায়াত কোনো জোটে যাচ্ছে না, স্বাধীনভাবেই রাজনৈতিক কর্মসূচি চালাবে।” তার ভাষায়, “জনগণের আস্থা ও অংশগ্রহণই আমাদের মূল শক্তি। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা জাতীয় পরিবর্তনের আন্দোলন গড়ে তুলতে চাই।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জামায়াতের এই অবস্থান তাদের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পুনর্গঠনের ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা হিসেবেও এটি দেখা যেতে পারে।

আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে মন্তব্য

আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে জামায়াত আমির স্পষ্ট বক্তব্য দেন—“আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের থাকার সুযোগ নেই।” তার মতে, জনগণের ক্ষোভ, প্রশাসনের ওপর অতিরিক্ত প্রভাব খাটানো এবং রাজনৈতিক দমননীতির কারণে আওয়ামী লীগ ধীরে ধীরে জনআস্থা হারিয়েছে। “এই জাতি আজ পরিবর্তন চায়, জবাবদিহিতা চায়, আর সেটিই আওয়ামী লীগের জন্য রাজনীতিতে টিকে থাকা কঠিন করে তুলেছে,” বলেন তিনি।

প্রবাসীদের প্রতি শ্রদ্ধা আহ্বান

নিজের সাম্প্রতিক বিদেশ সফর প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, “বিদেশে প্রবাসীদের সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়েছে। তারা বুকভরা উষ্ণতা ও ভালোবাসা নিয়ে এগিয়ে এসেছেন। আমি আপ্লুত। তাদের আকাশসমান প্রত্যাশা এই জাতির প্রতি। তারা জাতি গঠনে অবদান রাখতে চান, কিন্তু আমরা এখনও তাদের যথাযথ সম্মান দিতে পারিনি।”

তিনি বলেন, “প্রবাসীরা আমাদের দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি। তাদের সীমাহীন অবদান থাকা সত্ত্বেও আমরা অনেক সময় তাদের মর্যাদা দিতে ব্যর্থ হই। এটি জাতির জন্য লজ্জার বিষয়।”

সাংগঠনিক কর্মসূচি সিলেট সফর

জানা গেছে, সিলেটে পৌঁছে ডা. শফিকুর রহমান জেলা ও মহানগর জামায়াত আয়োজিত পৃথক সাংগঠনিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। সফরের অংশ হিসেবে তিনি স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করবেন।

তার সফরকে কেন্দ্র করে জামায়াতের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। দলের কেন্দ্রীয় এক নেতা জানান, “আমিরে জামায়াতের এই সফর সাংগঠনিক পুনর্গঠনের নতুন ধাপ। তিনি তৃণমূল পর্যায়ে কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করতে চান।”

প্রেক্ষাপট

উল্লেখ্য, ডা. শফিকুর রহমান সম্প্রতি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের জন্য তৃতীয়বারের মতো আমির নির্বাচিত হয়েছেন। পেশায় তিনি একজন চিকিৎসক এবং দীর্ঘদিন ধরে দলটির শীর্ষ নেতৃত্বে যুক্ত রয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার এই বক্তব্য ও সফর বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে, কারণ বিএনপি, জামায়াতসহ বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলো ইতিমধ্যে ২০২৬ সালের নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। আগামী নির্বাচনে জামায়াতের ভূমিকা—এককভাবে নাকি বৃহত্তর বিরোধী ঐক্যের অংশ হিসেবে—তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে এখন জোর আলোচনা চলছে।

সব মিলিয়ে ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্য আবারও ইঙ্গিত দিচ্ছে—বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের মেরুকরণ ও নতুন বাস্তবতার সূচনা হতে যাচ্ছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের থাকার সুযোগ নেই: জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

Update Time : ১০:৫৪:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের থাকার সুযোগ নেই।” তিনি দাবি করেছেন, জনগণ পরিবর্তন চায়, আর সেই পরিবর্তনের ধারায় আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

বুধবার (৫ নভেম্বর) সকালে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জামায়াত আমির এ মন্তব্য করেন। এটি ছিল দলের সর্বোচ্চ পদে টানা তৃতীয়বার নির্বাচিত হওয়ার পর তার প্রথম সিলেট সফর।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আদায় করে ছাড়ব। যদি নির্বাচন না হয়, তবে দেশে নানান ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। জাতির স্বার্থে নির্বাচন অবশ্যই হতে হবে, তবে সেটি হতে হবে জনগণের অংশগ্রহণমূলক।”

জোটবদ্ধ রাজনীতিতে না ফেরার ঘোষণা

নির্বাচনী জোট নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা কোনো জোট করার সিদ্ধান্ত নেইনি। জামায়াত কোনো জোটে যাচ্ছে না, স্বাধীনভাবেই রাজনৈতিক কর্মসূচি চালাবে।” তার ভাষায়, “জনগণের আস্থা ও অংশগ্রহণই আমাদের মূল শক্তি। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা জাতীয় পরিবর্তনের আন্দোলন গড়ে তুলতে চাই।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জামায়াতের এই অবস্থান তাদের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পুনর্গঠনের ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা হিসেবেও এটি দেখা যেতে পারে।

আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে মন্তব্য

আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে জামায়াত আমির স্পষ্ট বক্তব্য দেন—“আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের থাকার সুযোগ নেই।” তার মতে, জনগণের ক্ষোভ, প্রশাসনের ওপর অতিরিক্ত প্রভাব খাটানো এবং রাজনৈতিক দমননীতির কারণে আওয়ামী লীগ ধীরে ধীরে জনআস্থা হারিয়েছে। “এই জাতি আজ পরিবর্তন চায়, জবাবদিহিতা চায়, আর সেটিই আওয়ামী লীগের জন্য রাজনীতিতে টিকে থাকা কঠিন করে তুলেছে,” বলেন তিনি।

প্রবাসীদের প্রতি শ্রদ্ধা আহ্বান

নিজের সাম্প্রতিক বিদেশ সফর প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, “বিদেশে প্রবাসীদের সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়েছে। তারা বুকভরা উষ্ণতা ও ভালোবাসা নিয়ে এগিয়ে এসেছেন। আমি আপ্লুত। তাদের আকাশসমান প্রত্যাশা এই জাতির প্রতি। তারা জাতি গঠনে অবদান রাখতে চান, কিন্তু আমরা এখনও তাদের যথাযথ সম্মান দিতে পারিনি।”

তিনি বলেন, “প্রবাসীরা আমাদের দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি। তাদের সীমাহীন অবদান থাকা সত্ত্বেও আমরা অনেক সময় তাদের মর্যাদা দিতে ব্যর্থ হই। এটি জাতির জন্য লজ্জার বিষয়।”

সাংগঠনিক কর্মসূচি সিলেট সফর

জানা গেছে, সিলেটে পৌঁছে ডা. শফিকুর রহমান জেলা ও মহানগর জামায়াত আয়োজিত পৃথক সাংগঠনিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। সফরের অংশ হিসেবে তিনি স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করবেন।

তার সফরকে কেন্দ্র করে জামায়াতের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। দলের কেন্দ্রীয় এক নেতা জানান, “আমিরে জামায়াতের এই সফর সাংগঠনিক পুনর্গঠনের নতুন ধাপ। তিনি তৃণমূল পর্যায়ে কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করতে চান।”

প্রেক্ষাপট

উল্লেখ্য, ডা. শফিকুর রহমান সম্প্রতি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের জন্য তৃতীয়বারের মতো আমির নির্বাচিত হয়েছেন। পেশায় তিনি একজন চিকিৎসক এবং দীর্ঘদিন ধরে দলটির শীর্ষ নেতৃত্বে যুক্ত রয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার এই বক্তব্য ও সফর বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে, কারণ বিএনপি, জামায়াতসহ বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলো ইতিমধ্যে ২০২৬ সালের নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। আগামী নির্বাচনে জামায়াতের ভূমিকা—এককভাবে নাকি বৃহত্তর বিরোধী ঐক্যের অংশ হিসেবে—তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে এখন জোর আলোচনা চলছে।

সব মিলিয়ে ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্য আবারও ইঙ্গিত দিচ্ছে—বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের মেরুকরণ ও নতুন বাস্তবতার সূচনা হতে যাচ্ছে।