নিউ ইয়র্কে আজ মেয়র নির্বাচন: রেকর্ডসংখ্যক আগাম ভোট, এগিয়ে জোহরান মামদানি
- Update Time : ১০:১২:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর ২০২৫
- / ১১৩ Time View

নিউ ইয়র্কে আজ মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল আলোচিত মেয়র নির্বাচন। ইতোমধ্যেই শহরজুড়ে উত্তাপ ছড়িয়েছে নির্বাচনী প্রচারণা, প্রার্থীদের শেষ মুহূর্তের প্রচার, এবং ভোটারদের আগ্রহে টগবগ করছে নগরী। এবারের নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক আগাম ভোট পড়েছে—যা নিউ ইয়র্ক সিটির ইতিহাসে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বাইরে সবচেয়ে বেশি। নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এবার মোট ৭ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি ভোটার আগাম ভোট দিয়েছেন। শুধুমাত্র রবিবার, আগাম ভোটের শেষ দিনে, এক লাখ ৫১ হাজারেরও বেশি মানুষ ভোট দিয়েছেন।
এই বিপুল ভোটার উপস্থিতিকে বিশ্লেষকরা দেখছেন “পরিবর্তনের ইঙ্গিত” হিসেবে। বিশেষত তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ এ নির্বাচনে ব্যতিক্রমী। গত রবিবারের ভোটে ৩৫ বছরের কম বয়সী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল সবচেয়ে বেশি, যা নিউ ইয়র্কের রাজনৈতিক পরিবর্তনের নতুন স্রোতের প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।
জরিপে এগিয়ে ডেমোক্র্যাট জোহরান মামদানি
উগান্ডায় জন্ম নেওয়া ভারতীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম প্রার্থী জোহরান মামদানি ইতোমধ্যেই জরিপে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে বেশ এগিয়ে আছেন। এমারসন কলেজ/পিআইএক্স ১১/দ্য হিল-এর সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, মামদানি ৫০ শতাংশ সমর্থন নিয়ে শীর্ষে রয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুওমো পেয়েছেন ২৫ শতাংশ ভোট, আর রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্ল্লিওয়ার সমর্থন রয়েছে ২১ শতাংশ ভোটারের।
জরিপ বিশ্লেষকরা বলছেন, মামদানির প্রতি সমর্থন গত মাসের তুলনায় ৭ শতাংশ বেড়েছে, যেখানে কুওমোর জনপ্রিয়তা কমেছে ৩ শতাংশ। কৃষ্ণাঙ্গ ও তরুণ ভোটারদের মধ্যে মামদানির জনপ্রিয়তা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে—বিশেষ করে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের মধ্যে তার সমর্থন ৫০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭১ শতাংশে পৌঁছেছে।
ট্রাম্পের ক্ষোভ ও হুমকি
নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে মামদানিকে ঘিরে শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি মাঠে নেমেছেন মামদানির বিরুদ্ধে। রবিবার সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প তাকে “কমিউনিস্ট” বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, “আমাদের একজন কমিউনিস্ট প্রার্থী আছেন, যার বয়স ৩৩ বছর। তিনি কিছুই জানেন না, জীবনে একদিনও কাজ করেননি।”
ট্রাম্প আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি জোহরান মামদানি জিতে যান, নিউ ইয়র্কের জন্য তা হবে বড় সমস্যা। আমরা নিউ ইয়র্কে আর অত টাকা পাঠাব না। আমরা আমাদের মহান শহরকে ধ্বংস হতে দেব না—আমরা একে ৩০ দিনের মধ্যে অপরাধমুক্ত করব।”
ওয়াশিংটন শহর পরিষ্কারের উদাহরণ টেনে ট্রাম্প দাবি করেন, “আমরা ১২ দিনের মধ্যে সেই শহরকে গুছিয়ে ফেলেছি। কেউ যদি নিউ ইয়র্কের মতো শহরে কমিউনিস্ট মেয়র নির্বাচিত করে, সেটি হবে এক ভয়ানক ভুল।”
মামদানির প্রতিশ্রুতি ও ওবামার ফোনালাপ
জোহরান মামদানি তার নির্বাচনী প্রচারে নিউ ইয়র্কবাসীর জন্য তিনটি মূল প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন—সাশ্রয়ী খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থান। তিনি বলেছেন, “নিউ ইয়র্ক হবে এমন এক শহর, যেখানে সবাই মর্যাদার সঙ্গে বাঁচবে।”
নির্বাচনের আগের দিন শনিবার সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ফোন করে মামদানিকে শুভেচ্ছা জানান এবং বিজয়ের পর পরামর্শদাতা হিসেবে পাশে থাকার আশ্বাস দেন। মামদানির মুখপাত্র বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “ওবামা সাহেব বলেছেন—তুমি জিতলে, আমি তোমার পাশে থাকব। নিউ ইয়র্কের জন্য তোমার ভাবনা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পথ দেখাবে।”
ইহুদি সম্প্রদায়ের বিভক্ত সমর্থন
নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে ইহুদি সম্প্রদায়ের ভেতরেও বিভক্তি দেখা দিয়েছে। প্রভাবশালী ইহুদি নেতাদের একটি বড় অংশ মামদানিকে সমর্থন জানিয়েছে, তবে কিছু শীর্ষস্থানীয় নেতা প্রকাশ্যে কুওমোর পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বিভক্তিই হয়তো নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে ভোটারদের সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখবে।
রেকর্ড ভাঙা আগাম ভোটে উত্তেজনা চরমে
নিউ ইয়র্কের নির্বাচন বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী, মেয়র নির্বাচনে এবার যে রেকর্ডসংখ্যক আগাম ভোট পড়েছে, তা নগর রাজনীতির ইতিহাসে নজিরবিহীন। সাধারণত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এমন প্রবণতা দেখা যায়, কিন্তু মেয়র নির্বাচনে এত আগ্রহ আগে দেখা যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তরুণ প্রজন্মের রাজনীতিতে বাড়তি অংশগ্রহণই এর মূল কারণ।
এখন নজর সবার নিউ ইয়র্ক সিটির ভোটকেন্দ্রগুলোর দিকে—যেখানে আজ সকালে শুরু হবে মূল ভোটগ্রহণ। ভোট শেষে রাতেই প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশের কথা রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে, আগামীকালই জানা যাবে—নিউ ইয়র্কের নতুন মেয়র কি সত্যিই এক তরুণ সমাজতান্ত্রিক জোহরান মামদানি?
সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স, দ্য হিল, সিবিএস নিউজ










