অ্যামাজনে চাকরিচ্যুত ১৪ হাজার কর্মী,জানাগেল আসল কারণ
- Update Time : ১০:৪৬:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর ২০২৫
- / ২১৯ Time View

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যামাজনে আবারও বড় পরিসরের ছাঁটাইয়ের ঝড় বয়ে গেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় ১৪ হাজার কর্মীকে চাকরিচ্যুত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল, খরচ কমানো কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির প্রভাবে কর্মসংস্থান হ্রাস—এ দুটি কারণেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) অ্যান্ডি জ্যাসি ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
সংস্কৃতিগত অসামঞ্জস্যই মূল কারণ
অ্যান্ডি জ্যাসি জানিয়েছেন, এই ছাঁটাইয়ের পেছনে মূলত আর্থিক কোনো সংকট নয়, বরং কর্মীদের কোম্পানির সংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারা অন্যতম কারণ। তার ভাষায়,
“এই সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো আর্থিক বা এআই-সম্পর্কিত কারণ নেই। বিষয়টি আসলে আমাদের কোম্পানির সংস্কৃতি, কাজের ধরন এবং লক্ষ্য বাস্তবায়নের গতি বাড়ানোর সঙ্গে সম্পর্কিত।”
তিনি আরও বলেন, অ্যামাজন তাদের সংগঠন কাঠামো ও কাজের সংস্কৃতি নতুনভাবে সাজাচ্ছে, যাতে দক্ষতা বৃদ্ধি, সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি ত্বরান্বিত করা এবং অপ্রয়োজনীয় আমলাতন্ত্র কমানো যায়।
এআই যুগে পুনর্গঠনের চাপ
তবে অ্যামাজনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট বেথ গ্যালেত্তি এক ব্লগ পোস্টে উল্লেখ করেছেন, দ্রুত বিকাশমান এআই প্রযুক্তিও এই ছাঁটাইয়ের একটি পরোক্ষ কারণ। তার মতে,
“ইন্টারনেটের পর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবসা জগতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এনেছে। এর ফলে কিছু কাজ স্বয়ংক্রিয় হয়ে পড়ছে, আবার কিছু দক্ষতার চাহিদা দ্রুত বদলে যাচ্ছে।”
গ্যালেত্তি বলেন, অ্যামাজন বর্তমানে এআই-নির্ভর প্রযুক্তিতে বড় ধরনের বিনিয়োগ করছে, যার ফলে কোম্পানিকে নতুন কাঠামোতে নিয়ে আসা জরুরি হয়ে পড়েছে।
অতীতের বড় ছাঁটাইয়ের ধারাবাহিকতা
২০২২ সালের শেষে অ্যামাজন প্রায় ২৭ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করেছিল, যা ছিল প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে সর্ববৃহৎ ছাঁটাই অভিযান। সেই তুলনায় এবারকার ১৪ হাজার কর্মী ছাঁটাইও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়—বরং এটি কোম্পানির কৌশলগত পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার একটি বড় অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অ্যান্ডি
অ্যান্ডি জ্যাসি বলেন,
“গত কয়েক বছরে অ্যামাজন দ্রুত বড় হয়েছে। এই অতি-বৃদ্ধির ফলে আমাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ধীরগতির হয়ে পড়েছিল। কিন্তু এখন এআই যুগে আমাদের আরও দ্রুত, সুনির্দিষ্ট এবং উদ্ভাবনীভাবে কাজ করতে হবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, নতুন কাঠামোতে প্রতিটি বিভাগকে আরও স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হবে, যাতে তারা বাজার পরিবর্তনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে।
টেক জায়ান্টদের নতুন ট্রেন্ড
শুধু অ্যামাজনই নয়, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে গুগল, মাইক্রোসফট, মেটা এবং আইবিএম—সবাই একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। তাদের লক্ষ্য হলো ব্যবস্থাপনা কাঠামো সরলীকরণ, অকার্যকর প্রক্রিয়া বাতিল, এবং এআই-নির্ভর কাজের গতি বাড়ানো।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি টেক ইন্ডাস্ট্রিতে একটি নতুন বাস্তবতার সূচনা, যেখানে “মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা” (adaptability) এবং “নিরবচ্ছিন্ন শিখন” (continuous learning) হবে কর্মীদের টিকে থাকার মূল চাবিকাঠি।
উপসংহার
অ্যামাজনের এই সিদ্ধান্ত প্রযুক্তি খাতের একটি বৃহত্তর পরিবর্তনের প্রতিফলন। বিশ্বজুড়ে কোম্পানিগুলো এখন এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শুধুমাত্র একটি প্রযুক্তি নয়, বরং পুরো কর্মসংস্থান ও সাংগঠনিক সংস্কৃতিকে পুনর্গঠন করছে।
অ্যান্ডি জ্যাসির নেতৃত্বে অ্যামাজন এখন এমন এক পথে হাঁটছে, যেখানে দক্ষতা, উদ্ভাবন এবং সাংস্কৃতিক সামঞ্জস্যকেই ভবিষ্যতের টেকসই সাফল্যের মূলভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার










