সময়: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সালাউদ্দিন কাদের, কামরুজ্জামান ও মীর কাসেম আলীকে মিথ্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে: মির্জা ফখরুল

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৮:২৪:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫
  • / ১৭৯ Time View

33 20251025234022

 

33 20251025234022

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন যে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের নামে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতা মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, মীর কাসেম আলী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীকে মিথ্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

শনিবার রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে দৈনিক নয়া দিগন্ত-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।

ফখরুল বলেন, “শেখ হাসিনার শাসনামলে বিএনপির বিশ হাজারেরও বেশি নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। সাবেক নেতা ইলিয়াস আলীসহ প্রায় এক হাজার সাতশো জনকে গুম করে ফেলা হয়েছে। আলেম-ওলামা, জামায়াতের নেতা, সালাউদ্দিন কাদের, কামারুজ্জামান ও মীর কাসেম আলীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসির দড়িতে ঝোলানো হয়েছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকারের সময় মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে খর্ব করা হয়েছে। গণমাধ্যম, রাজনৈতিক বিরোধী দল এবং সাধারণ নাগরিকরা ভয় ও দমননীতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “বিগত স্বৈরাচারী শাসনামলে সাংবাদিকরা ভয়াবহ দমন-পীড়নের মুখে পড়েছিলেন। তবুও তারা সত্য প্রচারে অটল ছিলেন। আমরা সেই সাহসী সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।”

তিনি আরও বলেন, “দেশের মানুষ একটি স্বাধীন, গণতান্ত্রিক ও জনগণের ইচ্ছায় পরিচালিত বাংলাদেশ চায়—যা কোনো বিদেশি শক্তির প্রভাবাধীন নয়।”

১৯৭৫ সালের বাকশাল শাসনের সময় সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণের দুঃসময় স্মরণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, “তখন সাংবাদিকরা বেকার হয়ে পড়েছিলেন, অনেকেই রাস্তায় হকারি করতে বাধ্য হন। পরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানই সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনেন, বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন।”

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। সংস্কার সনদে স্বাক্ষরিত দলগুলোর ঐক্যের মাধ্যমে আমরা একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এই লড়াইয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”

তিনি আরও আহ্বান জানান, সকল রাজনৈতিক দলকে জনগণের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করতে, যাতে আগামী নির্বাচন সত্যিকারের মুক্ত ও ন্যায্য হয়, এবং বাংলাদেশ আবারও গণতান্ত্রিক চেতনায় ফিরে আসে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সালাউদ্দিন কাদের, কামরুজ্জামান ও মীর কাসেম আলীকে মিথ্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে: মির্জা ফখরুল

Update Time : ০৮:২৪:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫

 

33 20251025234022

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন যে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের নামে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতা মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, মীর কাসেম আলী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীকে মিথ্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

শনিবার রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে দৈনিক নয়া দিগন্ত-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।

ফখরুল বলেন, “শেখ হাসিনার শাসনামলে বিএনপির বিশ হাজারেরও বেশি নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। সাবেক নেতা ইলিয়াস আলীসহ প্রায় এক হাজার সাতশো জনকে গুম করে ফেলা হয়েছে। আলেম-ওলামা, জামায়াতের নেতা, সালাউদ্দিন কাদের, কামারুজ্জামান ও মীর কাসেম আলীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসির দড়িতে ঝোলানো হয়েছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকারের সময় মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে খর্ব করা হয়েছে। গণমাধ্যম, রাজনৈতিক বিরোধী দল এবং সাধারণ নাগরিকরা ভয় ও দমননীতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “বিগত স্বৈরাচারী শাসনামলে সাংবাদিকরা ভয়াবহ দমন-পীড়নের মুখে পড়েছিলেন। তবুও তারা সত্য প্রচারে অটল ছিলেন। আমরা সেই সাহসী সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।”

তিনি আরও বলেন, “দেশের মানুষ একটি স্বাধীন, গণতান্ত্রিক ও জনগণের ইচ্ছায় পরিচালিত বাংলাদেশ চায়—যা কোনো বিদেশি শক্তির প্রভাবাধীন নয়।”

১৯৭৫ সালের বাকশাল শাসনের সময় সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণের দুঃসময় স্মরণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, “তখন সাংবাদিকরা বেকার হয়ে পড়েছিলেন, অনেকেই রাস্তায় হকারি করতে বাধ্য হন। পরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানই সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনেন, বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন।”

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। সংস্কার সনদে স্বাক্ষরিত দলগুলোর ঐক্যের মাধ্যমে আমরা একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এই লড়াইয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”

তিনি আরও আহ্বান জানান, সকল রাজনৈতিক দলকে জনগণের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করতে, যাতে আগামী নির্বাচন সত্যিকারের মুক্ত ও ন্যায্য হয়, এবং বাংলাদেশ আবারও গণতান্ত্রিক চেতনায় ফিরে আসে।