নভেম্বরে দেশে ফিরছেন তারেক রহমান: প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি
- Update Time : ০৯:২৮:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫
- / ১৬৯ Time View

আগামী নভেম্বরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে গুলশানে নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য জানান।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “দলীয় প্রস্তুতি ও বৃহত্তর রাজনৈতিক সমন্বয়ের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। বড় জোট গঠনের প্রক্রিয়াও চলছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-সহ আরও কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে এই মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না, চূড়ান্তভাবে কোনো জোট হবে কি না।”
তিনি আরও জানান, বিএনপি এখন নির্বাচনের পূর্ণ প্রস্তুতি নিচ্ছে। “চলতি অক্টোবর মাসের মধ্যেই ২০০ আসনে বিএনপির একক প্রার্থীদের ‘গ্রিন সিগন্যাল’ দেওয়া হবে,” বলেন সালাহউদ্দিন। “এতে প্রার্থীরা নিজেদের এলাকাভিত্তিক প্রস্তুতি ও প্রচারণা শুরু করতে পারবেন।”
আরপিও সংশোধন নিয়ে আপত্তি
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের বিষয়ে বিএনপির অবস্থান পরিষ্কার করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আরপিওর কিছু ধারায় বিএনপি নীতিগতভাবে সম্মত ছিল। বিশেষ করে ২০(১) উপধারায় বলা হয়েছিল, জোটবদ্ধ দলগুলো চাইলে অন্য রাজনৈতিক দলের প্রতীকে নির্বাচন করতে পারবে—এটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে যে পরিবর্তনগুলো করা হয়েছে, তাতে ছোট রাজনৈতিক দলগুলো জোটে অংশ নিতে নিরুৎসাহিত হবে।”
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি আইন সরকার একতরফাভাবে কেন পাস করল? এতে গণতান্ত্রিক ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ছোট দলের রাজনীতিকরা সুযোগ হারাবে, যা বহুদলীয় রাজনীতির চেতনার পরিপন্থী।”
বিএনপি এই বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে নির্বাচন কমিশন ও সরকারকে চিঠি দেবে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, “আমরা শক্তিশালী সংসদ ও বহুদলীয় গণতন্ত্র চাই। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে আরপিও পুনর্বিবেচনা করতে হবে।”
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ঘিরে প্রস্তুতি
দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে নতুন করে উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি দেশে ফেরার পর গুলশান-২ নম্বর সড়কের ১৯৬ নম্বর বাড়িতে অবস্থান করবেন। ১৯৮১ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তৎকালীন সরকার তাঁর স্ত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বাড়িটি বরাদ্দ দেয়।
সম্প্রতি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বাড়িটির নামজারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এবং সংক্রান্ত কাগজপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে খালেদা জিয়ার হাতে হস্তান্তর করেছে। বাড়িটি দীর্ঘদিন ধরে ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশের কাছে লিজে দেওয়া ছিল। জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি চলতি বছরের শুরুতে বাড়িটি ছেড়ে দেয়, এরপর সেখানে রং, সংস্কার ও নিরাপত্তা জোরদারসহ বিভিন্ন প্রস্তুতিমূলক কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
বাড়িটির পাশেই ফিরোজা নামের অন্য একটি বাড়িতে বর্তমানে বসবাস করছেন খালেদা জিয়া। ফলে তারেক রহমান দেশে ফেরার পর মায়ের কাছাকাছি অবস্থান করবেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন গতি
বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের দেশে ফেরা বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন গতি আনতে পারে। বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্বের সংকটে ভুগছে; তাই তার প্রত্যাবর্তন দলীয় কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দেশে ফেরার পর তিনি নির্বাচনপূর্ব কৌশল, জোট গঠন ও প্রার্থী চূড়ান্তকরণে সরাসরি নেতৃত্ব দেবেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমরা চাই, জনগণের ভোটে একটি গ্রহণযোগ্য সরকার গঠিত হোক। তারেক রহমান দেশে ফিরে দলের নেতৃত্বে মাঠে থাকলে বিএনপি আগের চেয়ে অনেক বেশি সংগঠিত হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। আমরা সেই পরিবর্তনের ধারক হতে চাই—গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জনঅধিকারের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে চাই।”
রাজনৈতিক মহলে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু একটাই—নভেম্বরে তারেক রহমানের ফেরা শুধু বিএনপির রাজনীতিতেই নয়, জাতীয় রাজনৈতিক সমীকরণেও একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা ঘটাবে কি না।










