মানিক মিয়া এভিনিউ রণক্ষেত্রে পরিণত, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত বহুজন—আগুন, ভাঙচুর, উত্তেজনা চরমে
- Update Time : ০২:৪১:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫
- / ১০৪ Time View

জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা আজ শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়, যখন ‘জুলাই যোদ্ধারা’ পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। দুপুর ১টা ২৫ মিনিটের দিকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষ দ্রুতই পুরো মানিক মিয়া এভিনিউজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে অন্তত বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে আন্দোলনকারী ছাড়াও কিছু পুলিশ সদস্যও রয়েছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
সংঘর্ষের সময় বিক্ষুব্ধরা পুলিশের কয়েকটি গাড়িতে ভাঙচুর চালায় এবং এমপি হোস্টেলের সামনের সড়কে টায়ার, প্লাস্টিক ও অন্যান্য জিনিসপত্রে আগুন ধরিয়ে দেয়। দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকলে এলাকাজুড়ে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। এতে পুরো এলাকা আতঙ্কের আবহে ছেয়ে যায়, দোকানপাট ও অফিসগুলো দ্রুত বন্ধ হয়ে যায়।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া এভিনিউ এলাকায় পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলছিল। এলাকা এখন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যান চলাচল তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের চলাচলও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলা হয়েছে এবং রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল ছোঁড়ার খবরও পাওয়া গেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দ্রুতই অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, আনসার এবং সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয়। সংসদ ভবনের আশপাশে টহল জোরদার করা হয়েছে এবং কেউ যাতে এলাকায় প্রবেশ বা বের হতে না পারে, সে জন্য প্রধান প্রধান প্রবেশপথে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে।
‘জুলাই জাতীয় সনদ’ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই সংসদ ভবন এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। জুলাই অভ্যুত্থানে আহত ছাত্র-জনতা এবং তাদের পরিবার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও “জুলাই আহত বীর” হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের দাবিতে সকাল থেকে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। তাঁরা তিন দফা দাবি তুলে ধরেন—রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, আর্থিক ক্ষতিপূরণ, এবং আহতদের সন্তানদের জন্য শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা।
দুপুরের দিকে আন্দোলনকারীরা সংসদ ভবনের ১২ নম্বর গেটের সামনে অবস্থান নেন এবং ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গেটটি বন্ধ করে দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে। আন্দোলনকারীরা বারবার গেট খুলে দেওয়ার দাবি জানাতে থাকেন, অন্যদিকে পুলিশ তাঁদের ঠেকাতে লাঠিচার্জ ও জলকামান ব্যবহার করে।
সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুর সাড়ে ১২টার পর থেকে সংসদ ভবনের আশপাশের প্রতিটি মোড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন হতে থাকেন। ক্রমান্বয়ে পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনী, কোস্টগার্ড, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা এসে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে। মানিক মিয়া এভিনিউ, সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা এবং সংলগ্ন সড়কগুলো এখন সম্পূর্ণভাবে নিরাপত্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এদিকে পরিস্থিতি ঘিরে ঢাকাজুড়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। সংসদ এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় আশপাশের সড়কগুলোতে ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে সরে গেছেন। পুলিশ বলছে, আন্দোলনকারীদের সহিংস আচরণের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
দুপুরের পর থেকে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আন্দোলনকারীদের মধ্যে কেউ কেউ জাতীয় পতাকা ও ব্যানার হাতে “জুলাই চুক্তির স্বীকৃতি চাই” শ্লোগান দিতে থাকেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের এই চিত্রে পুরো মানিক মিয়া এভিনিউ এখন এক অনিশ্চিত ও আতঙ্কিত নগর-চিত্রে পরিণত হয়েছে।
চলমান এই সহিংসতায় ঠিক কতজন আহত হয়েছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী ও কিছু পুলিশ সদস্য চিকিৎসা নিচ্ছেন। পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষিতে নাগরিকদের সংসদ ভবন এলাকার দিকে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। পরিস্থিতি যে কোনো সময় আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।










