বিআইএ কমিটিকে ‘স্বৈরাচারী’ আখ্যা দিয়ে পদত্যাগ করলেন ফারইস্ট ইসলামী লাইফের চেয়ারম্যান ফকরুল ইসলাম, মেয়াদপূর্তি দাবিদারদের চরম ভোগান্তি
- Update Time : ০৫:২৪:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫
- / ৩২১ Time View

বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ)-এর নির্বাহী কমিটিকে “স্বৈরাচারী ও অগণতান্ত্রিক” বলে অভিযোগ এনে কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. ফকরুল ইসলাম। আজ বুধবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর মতিঝিলে অবস্থিত বিআইএ কার্যালয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দেন।
পদত্যাগপত্রে ফকরুল ইসলাম উল্লেখ করেন, “বিআইএ বর্তমানে এমনভাবে পরিচালিত হচ্ছে যা সংস্থাটির গঠনতন্ত্র ও নীতিমালার পরিপন্থী। এর নির্বাহী কমিটি নিয়মবহির্ভূত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে এবং সদস্যদের মতামতকে উপেক্ষা করছে। এই স্বেচ্ছাচারী আচরণের কারণে আমার পক্ষে এই কমিটিতে থাকা নৈতিকভাবে সম্ভব নয়।”
তিনি অভিযোগ করেন, বিআইএ’র বিভিন্ন উপকমিটি ও সাবকমিটি গঠন করা হচ্ছে গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে এবং কেবলমাত্র নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষার উদ্দেশ্যে। তাঁর মতে, “যেখানে গঠনতন্ত্রের বিধান অমান্য করে স্বজনপ্রীতি ও পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেখানে গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের সুযোগ থাকে না।”
ফকরুল ইসলাম আরও উল্লেখ করেন যে, বিআইএ নির্বাহী কমিটির গত ২১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ২২৫তম সভায় তিনি গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলেন। কিন্তু সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না পেয়ে তিনি সভা থেকে ওয়াকআউট করেন। পরবর্তীতে কোনো গঠনমূলক পরিবর্তন বা ব্যাখ্যা না আসায় তিনি অবশেষে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনরত ফকরুল ইসলাম বলেন, “বিআইএ’র মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন যদি স্বচ্ছতা ও নৈতিক মানদণ্ড বজায় না রাখে, তাহলে গোটা ইন্স্যুরেন্স খাতের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হবে। আমি নীতিগত অবস্থান থেকে এমন একটি অনৈতিক কাঠামোর অংশ হতে পারি না।”
অন্যদিকে, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের অভ্যন্তরীণ সংকটের কারণে বর্তমানে কোম্পানিটির হাজারো পলিসিহোল্ডার ও মেয়াদোত্তীর্ণ দাবিদার (maturity claimers) ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেকেই তাদের মেয়াদপূর্তির অর্থ সময়মতো পাচ্ছেন না। আর্থিক অনিশ্চয়তার পাশাপাশি কোম্পানির পরিচালনা বোর্ডে চলমান দ্বন্দ্ব ও বিভক্তির কারণে এই ভোগান্তি আরও তীব্র হয়েছে।
বীমা খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিআইএ’র নেতৃত্বের এই সংকট গোটা শিল্পখাতের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তারা মনে করেন, যেভাবে প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে সংগঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, তা শুধু সদস্যদের নয়— সাধারণ বীমাগ্রহীতাদের স্বার্থকেও ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
একজন সাবেক বীমা নিয়ন্ত্রক বিশেষজ্ঞ মন্তব্য করেন, “বিআইএ’র মূল কাজ হওয়া উচিত সদস্যদের মধ্যে ঐক্য ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করা, কিন্তু বাস্তবে তা উল্টো দিকেই যাচ্ছে। এই ধরনের স্বেচ্ছাচারী আচরণ ইন্স্যুরেন্স সেক্টরের প্রতি জনগণের আস্থা আরও কমিয়ে দিচ্ছে।”
ফারইস্ট ইসলামী লাইফের চেয়ারম্যানের পদত্যাগের পর এখন প্রশ্ন উঠেছে— বিআইএ কি নিজেদের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নতুন করে নেতৃত্ব পুনর্গঠন করবে, নাকি বিদ্যমান নেতৃত্বই স্বেচ্ছাচারী ধারা অব্যাহত রাখবে? একইসঙ্গে পলিসিহোল্ডারদের দাবি নিষ্পত্তিতে কোম্পানিটি কী ব্যবস্থা নিচ্ছে, তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৭৫ লাখ বীমাগ্রহীতা সক্রিয় আছেন। তাদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলোর হলেও, সংগঠনগত সংকট ও প্রশাসনিক স্বৈরাচার এই খাতকে নতুন এক অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
বীমা খাতের বিশ্লেষকরা মনে করেন, ফকরুল ইসলামের পদত্যাগ কেবল ব্যক্তিগত প্রতিবাদ নয়, বরং এটি গোটা ইন্স্যুরেন্স খাতের নৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দুরবস্থার একটি প্রতীকী প্রতিবাদ।











