জুলাই সনদের আইনগত স্বীকৃতি না দিয়ে কারও সেফ এক্সিট নয়: সারজিস আলম
- Update Time : ১০:৫০:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫
- / ১১৭ Time View

এনসিপি (ন্যাশনাল কনসেনসাস পার্টি)-এর মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেছেন, “জুলাই সনদের আইনগত ভিত্তি প্রতিষ্ঠা না করে কোনোভাবেই কারও সেফ এক্সিট বা নিরাপদ প্রস্থান সম্ভব নয়।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সনদ বাস্তবায়ন করা বর্তমান সরকারের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব, কারণ এটি দেশের রাজনৈতিক সংস্কার ও জবাবদিহিমূলক শাসন ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।
সোমবার (১৪ অক্টোবর) রাত আটটার দিকে শেরপুর শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সারজিস আলম বলেন, “জুলাই সনদ হচ্ছে জনগণের ন্যায্য দাবি এবং ভবিষ্যৎ সংস্কারের রূপরেখা। যারা সত্যিকার অর্থে সংস্কার, বিচারিক ধারাবাহিকতা ও রাষ্ট্রীয় পরিবর্তনের পক্ষে কাজ করবে, তাদের সঙ্গে আমরা ইলেকটোরাল অ্যালায়েন্স বা নির্বাচনী জোটে যেতে প্রস্তুত।” তিনি আরও বলেন, “তবে কোনো অবস্থাতেই এনসিপি অন্য দলের প্রতীক বা ব্যানারে নির্বাচন করবে না; আমরা শুধুমাত্র আমাদের নিজস্ব শাপলা প্রতীকেই অংশ নেব।”
সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন—যদি নির্বাচন কমিশন শাপলা প্রতীক বরাদ্দ না দেয়, তাহলে এনসিপির অবস্থান কী হবে? উত্তরে সারজিস আলম বলেন, “আমরা প্রতীক, সংবিধান এবং নির্বাচন আইন বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। তাঁরা কেউই শাপলা প্রতীক বরাদ্দে কোনো আইনগত বাধা দেখতে পাননি। সুতরাং, আমরা বিশ্বাস করি নির্বাচন কমিশন—যা একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান—কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে পক্ষপাতমূলক আচরণ করবে না। আমরা দৃঢ়ভাবে আশাবাদী, আগামী নির্বাচনে এনসিপি শাপলা প্রতীক নিয়েই অংশ নেবে।”
তিনি আরও মন্তব্য করেন, “বাংলাদেশে সংস্কারবিরোধী শক্তিগুলো এখনও সুযোগ খুঁজছে নিজেদের দায় এড়িয়ে নিরাপদ প্রস্থান বা এক্সিটের পথ খুঁজে নিতে। কিন্তু জুলাই সনদের অধীনে সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু না হলে সেই এক্সিটের কোনো নৈতিক বা আইনি ভিত্তি থাকতে পারে না।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আশিকিন আলমসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। এর আগে শেরপুর জেলা ও উপজেলা সমন্বয় কমিটির এক যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন এনসিপির শেরপুর জেলা প্রধান সমন্বয়ক মো. লিখন মিয়া।
এদিকে একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত এনসিপির কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য রিজওয়ানা হাসান বলেন, “উপদেষ্টাদের মধ্যে কেউ যদি সত্যিই সেফ এক্সিট চান, সেটি পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করার দায়িত্ব নাহিদ ইসলামের। কারণ জনগণ জানতে চায়—সংস্কারের দাবিদাররা আসলে কতটা আন্তরিক।”
তিনি আরও যোগ করেন, “জুলাই সনদের বাস্তবায়নই আজকের বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্রের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। এই প্রক্রিয়া রুদ্ধ করা মানে জাতিকে আবারও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেওয়া।”
সারজিস আলমের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়—এনসিপি এখন শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দল নয়, বরং সংস্কারনির্ভর জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে চায়। শাপলা প্রতীক ও জুলাই সনদের প্রতি অবিচল অবস্থানই হবে তাদের আগামী নির্বাচনের মূল ভিত্তি।










