সমঝোতা হলে ১০০ আসন ছাড়তে প্রস্তুত জামায়াত: মিয়া গোলাম পরওয়ার
- Update Time : ০৭:৩৫:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫
- / ২০২ Time View

ইসলামী সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐক্যমতের ভিত্তিতে সমঝোতা হলে জামায়াতে ইসলামী আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সর্বোচ্চ ১০০টি আসন ছাড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। শুক্রবার (৩ অক্টোবর) খুলনায় ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত সদস্য পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, “আমরা ইতোমধ্যেই ৩০০ আসনের প্রাথমিক বাছাই সম্পন্ন করেছি। তবে রাজনৈতিক বাস্তবতা হলো—যাদের সঙ্গে আমাদের ঐক্য হবে, তাদের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছতে হলে কিছু আসন আমাদের ছেড়ে দিতেই হবে। আমিরে জামায়াত আমাকে এ বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। এমনও হতে পারে, সমঝোতার ভিত্তিতে শেষ পর্যন্ত ১০০টি আসন ছাড়তে হবে। তবে আমাদের ন্যূনতম লক্ষ্য থাকবে—কমপক্ষে ২০০ আসনে আমরা ইনশাআল্লাহ সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো।”
তিনি আরও বলেন, “এককভাবে কিংবা জোটগতভাবে নির্বাচন—যেভাবেই হোক, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে সংগঠনের শক্তি বৃদ্ধি এবং জনগণের কাছে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা প্রতিষ্ঠা করা। তাই এখন থেকেই প্রত্যেক কর্মীকে নির্বাচনী এলাকায় সক্রিয় হতে হবে। আপনারা ঠিক করে ফেলুন কখন এলাকায় ফিরবেন, কিভাবে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াবেন। ইউনিয়ন, উপজেলা ও গ্রামের তৃণমূল পর্যায়ে যে সংগঠনগত যোগসূত্র রয়েছে, তা আরও মজবুত করতে হবে।”
পরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে মিয়া গোলাম পরওয়ার বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে বলেন, “আমরা ঐকমত্য কমিশনে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি চেয়েছিলাম। কিন্তু একটি বড় রাজনৈতিক দলের বাধার কারণে সেই প্রক্রিয়া এখনো বাধাগ্রস্ত। তারা মৌলিক সংস্কার চায় না। তাদের ধারণা—ক্ষমতায় পৌঁছেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে। এ কারণেই ডাকসু, জাকসু নির্বাচনে তারা কিছু ফল পেয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সংস্কারের বিকল্প নেই।”
জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা আরও জানান, তাদের দল শুধু নির্বাচনের প্রস্তুতিই নিচ্ছে না, বরং সমান্তরালে আন্দোলনের জন্যও সংগঠনকে প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। তার ভাষায়, “রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে পারে। তাই আমাদেরকে একসঙ্গে দুই ধরনের প্রস্তুতি রাখতে হবে—একদিকে নির্বাচন, অন্যদিকে আন্দোলন।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খুলনা মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি আরাফাত হোসেন মিলন এবং সঞ্চালনা করেন সেক্রেটারি রাকিব হোসাইন। এছাড়া বক্তব্য রাখেন খুলনা জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা এমরান হোসাইন, মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এবং নড়াইল জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান বাচ্চু।
বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের এই ঘোষণা মূলত সমমনাদের সঙ্গে কৌশলগত সমঝোতার অংশ। কারণ রাজনৈতিক মেরুকরণের এই সময়ে এককভাবে নির্বাচনে যাওয়া দলটির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই তারা সম্ভাব্য জোট সহযোগীদের আস্থা অর্জনের জন্য আগেভাগেই নমনীয় অবস্থান প্রদর্শন করছে।










