সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাগরাম বিমানঘাঁটি ফেরত না দিলে ভয়াবহ পরিস্থিতির হুমকি ট্রাম্পের

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১১:৫১:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ১৩৯ Time View

1758429290 ed85e0c7ff1f815aa2086832508d52de

1758429290 ed85e0c7ff1f815aa2086832508d52de

আফগানিস্তানের বাগরাম বিমানঘাঁটি ফেরত না দিলে দেশটির জন্য “খারাপ কিছু” অপেক্ষা করছে বলে হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, “বাগরাম বিমানঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্র তৈরি করেছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রকে ফিরিয়ে না দিলে আফগানিস্তানে ভয়াবহ কিছু ঘটতে যাচ্ছে।”

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানায়, ট্রাম্প সেনা পাঠিয়ে আফগানিস্তানকে পুনর্দখল করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি। তিনি দাবি করেন, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে মার্কিন বাহিনী বাগরাম বিমানঘাঁটি ব্যবহার করে আসছিল এবং এর নিয়ন্ত্রণ পুনরায় পেতে যুক্তরাষ্ট্র চেষ্টা চালাচ্ছে। গত শুক্রবারও সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আফগানিস্তানের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর তালেবান দেশটির ক্ষমতা দখল করে নেয় এবং মার্কিন ঘাঁটিগুলোও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে আফগান কর্মকর্তারা নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো উপস্থিতির বিরোধিতা করছেন। এদিকে সাবেক ও বর্তমান মার্কিন কর্মকর্তারা সতর্ক করে জানিয়েছেন, বাগরাম বিমানঘাঁটি পুনর্দখল মানে কার্যত আবার আফগানিস্তানে আক্রমণ শুরু করা, যার জন্য অন্তত ১০ হাজার সেনা ও আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের প্রয়োজন হবে।

অতীতেও পানামা খাল থেকে শুরু করে গ্রিনল্যান্ড পর্যন্ত বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে দখলের আগ্রহ দেখিয়েছেন ট্রাম্প। বাগরাম বিমানঘাঁটি নিয়েও তার আগ্রহ নতুন নয়। তবে এবার তিনি সরাসরি বলেন, “আমরা এটি ফেরত চাই, শিগগিরই চাই। তারা যদি ফেরত না দেয়, তবে আপনারা দেখবেন আমি কী করি।”

একসময় আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বিমানঘাঁটি ছিল বাগরাম। এটি শুধু সামরিক ঘাঁটি নয়, বরং সেখানে বার্গার কিং, পিৎজা হাটের মতো ফাস্টফুড আউটলেট, ইলেকট্রনিক দোকান, এমনকি বিশাল কারাগারও ছিল। দুই দশক ধরে নাইন–ইলেভেন-পরবর্তী যুদ্ধে মার্কিন বাহিনীর অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই ঘাঁটিই।

সূত্র: রয়টার্স

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বাগরাম বিমানঘাঁটি ফেরত না দিলে ভয়াবহ পরিস্থিতির হুমকি ট্রাম্পের

Update Time : ১১:৫১:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

1758429290 ed85e0c7ff1f815aa2086832508d52de

আফগানিস্তানের বাগরাম বিমানঘাঁটি ফেরত না দিলে দেশটির জন্য “খারাপ কিছু” অপেক্ষা করছে বলে হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, “বাগরাম বিমানঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্র তৈরি করেছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রকে ফিরিয়ে না দিলে আফগানিস্তানে ভয়াবহ কিছু ঘটতে যাচ্ছে।”

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানায়, ট্রাম্প সেনা পাঠিয়ে আফগানিস্তানকে পুনর্দখল করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি। তিনি দাবি করেন, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে মার্কিন বাহিনী বাগরাম বিমানঘাঁটি ব্যবহার করে আসছিল এবং এর নিয়ন্ত্রণ পুনরায় পেতে যুক্তরাষ্ট্র চেষ্টা চালাচ্ছে। গত শুক্রবারও সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আফগানিস্তানের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর তালেবান দেশটির ক্ষমতা দখল করে নেয় এবং মার্কিন ঘাঁটিগুলোও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে আফগান কর্মকর্তারা নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো উপস্থিতির বিরোধিতা করছেন। এদিকে সাবেক ও বর্তমান মার্কিন কর্মকর্তারা সতর্ক করে জানিয়েছেন, বাগরাম বিমানঘাঁটি পুনর্দখল মানে কার্যত আবার আফগানিস্তানে আক্রমণ শুরু করা, যার জন্য অন্তত ১০ হাজার সেনা ও আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের প্রয়োজন হবে।

অতীতেও পানামা খাল থেকে শুরু করে গ্রিনল্যান্ড পর্যন্ত বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে দখলের আগ্রহ দেখিয়েছেন ট্রাম্প। বাগরাম বিমানঘাঁটি নিয়েও তার আগ্রহ নতুন নয়। তবে এবার তিনি সরাসরি বলেন, “আমরা এটি ফেরত চাই, শিগগিরই চাই। তারা যদি ফেরত না দেয়, তবে আপনারা দেখবেন আমি কী করি।”

একসময় আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বিমানঘাঁটি ছিল বাগরাম। এটি শুধু সামরিক ঘাঁটি নয়, বরং সেখানে বার্গার কিং, পিৎজা হাটের মতো ফাস্টফুড আউটলেট, ইলেকট্রনিক দোকান, এমনকি বিশাল কারাগারও ছিল। দুই দশক ধরে নাইন–ইলেভেন-পরবর্তী যুদ্ধে মার্কিন বাহিনীর অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই ঘাঁটিই।

সূত্র: রয়টার্স