সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশসহ ৯ দেশের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করল সংযুক্ত আরব আমিরাত

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০২:৫৭:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ৩২৩ Time View

3e666c5c7f8bd4e699d058eb8911fae9 68ce634bc7473

3e666c5c7f8bd4e699d058eb8911fae9 68ce634bc7473

সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) বাংলাদেশসহ নয়টি দেশের নাগরিকদের জন্য পর্যটন ও কর্ম ভিসায় অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এই নির্দেশনা কার্যকর হবে। মূলত শ্রমিক, পর্যটক ও ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীরা এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বেন।

ভিসা হলো সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথি। সাধারণত বাংলাদেশসহ বিশ্বের বহু দেশের নাগরিক কাজ, ব্যবসা বা পর্যটনের উদ্দেশ্যে ইউএই-তে প্রবেশ করেন। বিশেষ করে শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরেই বড় একটি অংশ জুড়ে আছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘোষণার ফলে নতুন করে শ্রম ভিসা বা পর্যটন ভিসার আবেদন করা আর সম্ভব হবে না।

অভিবাসন দপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, যে নয়টি দেশ এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছে সেগুলো হলো—আফগানিস্তান, লিবিয়া, ইয়েমেন, সোমালিয়া, লেবানন, বাংলাদেশ, ক্যামেরুন, সুদান এবং উগান্ডা।

কেন এই নিষেধাজ্ঞা?

সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিস্তারিত কারণ প্রকাশ করেনি। তবে কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে যে সম্ভাব্য কারণগুলো উঠে এসেছে, তা হলো—

  1. নিরাপত্তা উদ্বেগ: মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি সবসময়ই স্পর্শকাতর। সন্ত্রাসবাদ বা আন্তর্জাতিক অপরাধচক্র থেকে নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টি একটি বড় কারণ হতে পারে।
  2. ভূরাজনৈতিক সম্পর্ক: কিছু দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েন বা আঞ্চলিক রাজনৈতিক জটিলতা নিষেধাজ্ঞার নেপথ্যে থাকতে পারে।
  3. স্বাস্থ্য জননিরাপত্তা: কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে আমিরাত কঠোর ভ্রমণ নীতি অনুসরণ করছে। জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের কৌশলও এই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।

কারা এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বেন না?

যেসব নাগরিক ইতিমধ্যেই বৈধ ভিসা নিয়ে আমিরাতে অবস্থান করছেন বা বসবাসের অনুমতিপত্র (রেসিডেন্স পারমিট) অর্জন করেছেন, তাদের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না। অর্থাৎ বর্তমানে যারা কাজ করছেন বা বসবাস করছেন, তারা স্বাভাবিকভাবেই তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবেন।

প্রভাব ও তাৎপর্য

এই নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কারণ বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী প্রতি বছর মধ্যপ্রাচ্যে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান। রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম বড় উৎস, যার একটি বড় অংশ আসে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। তাই নতুন ভিসা বন্ধ হয়ে গেলে স্বল্পমেয়াদে কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হতে পারে।

তবে এই নিষেধাজ্ঞা সাময়িক বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি পর্যালোচনা শেষে ইউএই সরকার হয়তো ভবিষ্যতে তা শিথিল করতে পারে। কূটনৈতিক মহল মনে করছে, দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বাংলাদেশসহ ৯ দেশের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করল সংযুক্ত আরব আমিরাত

Update Time : ০২:৫৭:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

3e666c5c7f8bd4e699d058eb8911fae9 68ce634bc7473

সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) বাংলাদেশসহ নয়টি দেশের নাগরিকদের জন্য পর্যটন ও কর্ম ভিসায় অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এই নির্দেশনা কার্যকর হবে। মূলত শ্রমিক, পর্যটক ও ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীরা এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বেন।

ভিসা হলো সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথি। সাধারণত বাংলাদেশসহ বিশ্বের বহু দেশের নাগরিক কাজ, ব্যবসা বা পর্যটনের উদ্দেশ্যে ইউএই-তে প্রবেশ করেন। বিশেষ করে শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরেই বড় একটি অংশ জুড়ে আছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘোষণার ফলে নতুন করে শ্রম ভিসা বা পর্যটন ভিসার আবেদন করা আর সম্ভব হবে না।

অভিবাসন দপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, যে নয়টি দেশ এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছে সেগুলো হলো—আফগানিস্তান, লিবিয়া, ইয়েমেন, সোমালিয়া, লেবানন, বাংলাদেশ, ক্যামেরুন, সুদান এবং উগান্ডা।

কেন এই নিষেধাজ্ঞা?

সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিস্তারিত কারণ প্রকাশ করেনি। তবে কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে যে সম্ভাব্য কারণগুলো উঠে এসেছে, তা হলো—

  1. নিরাপত্তা উদ্বেগ: মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি সবসময়ই স্পর্শকাতর। সন্ত্রাসবাদ বা আন্তর্জাতিক অপরাধচক্র থেকে নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টি একটি বড় কারণ হতে পারে।
  2. ভূরাজনৈতিক সম্পর্ক: কিছু দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েন বা আঞ্চলিক রাজনৈতিক জটিলতা নিষেধাজ্ঞার নেপথ্যে থাকতে পারে।
  3. স্বাস্থ্য জননিরাপত্তা: কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে আমিরাত কঠোর ভ্রমণ নীতি অনুসরণ করছে। জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের কৌশলও এই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।

কারা এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বেন না?

যেসব নাগরিক ইতিমধ্যেই বৈধ ভিসা নিয়ে আমিরাতে অবস্থান করছেন বা বসবাসের অনুমতিপত্র (রেসিডেন্স পারমিট) অর্জন করেছেন, তাদের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না। অর্থাৎ বর্তমানে যারা কাজ করছেন বা বসবাস করছেন, তারা স্বাভাবিকভাবেই তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবেন।

প্রভাব ও তাৎপর্য

এই নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কারণ বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী প্রতি বছর মধ্যপ্রাচ্যে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান। রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম বড় উৎস, যার একটি বড় অংশ আসে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। তাই নতুন ভিসা বন্ধ হয়ে গেলে স্বল্পমেয়াদে কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হতে পারে।

তবে এই নিষেধাজ্ঞা সাময়িক বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি পর্যালোচনা শেষে ইউএই সরকার হয়তো ভবিষ্যতে তা শিথিল করতে পারে। কূটনৈতিক মহল মনে করছে, দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে।