জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধসহ ৫ দফা দাবিতে মাঠে নামছে জামায়াত
- Update Time : ১১:২৭:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / ১৩২ Time View

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের উত্তাপ ছড়াতে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ। আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে দলটি নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মগবাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ৫ দফা দাবিকে সামনে রেখে দলটি ধারাবাহিক কর্মসূচি চালাবে এবং গণআন্দোলনের মাধ্যমে এ দাবিগুলো আদায় করবে।
ঘোষিত ৫ দফার মধ্যে উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো হলো—
১. জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে আগামী জাতীয় নির্বাচন আয়োজন।
২. জনগণের আসল ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে আনুপাতিক প্রতিনিধি (পিআর) পদ্ধতি চালু।
৩. নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব দলের জন্য সমান সুযোগ ও সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি।
৪. বর্তমান ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের’ জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা।
৫. ‘স্বৈরাচারী শক্তির দোসর’ জাতীয় পার্টি ও ক্ষমতাসীন ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা।
জামায়াত নেতারা বলেন, এ দাবিগুলো শুধু দলের স্বার্থে নয়, বরং দেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য। তাহের আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে এককভাবে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরেছে এবং বিরোধী দলগুলোর ওপর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে।
ঘোষণার পরপরই এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীতে বড় ধরনের বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার জামায়াতে ইসলামীসহ সাতটি রাজনৈতিক দল এ কর্মসূচিতে অংশ নেবে। যদিও তিন দিনের এই অভিন্ন কর্মসূচি প্রতিটি দল আলাদাভাবে পালন করবে। জামায়াতের বাইরে যেসব দল এতে যুক্ত রয়েছে, তারা হলো—ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘদিন রাজনৈতিক ময়দানে সীমিত কার্যক্রম চালানো জামায়াত নতুন করে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে এবং এ পাঁচ দফা দাবি তুলে তারা আসন্ন নির্বাচনে নিজেদের অবস্থান সুস্পষ্ট করছে। অন্যদিকে, জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম বন্ধের দাবি মূলত সরকার ও তার শরিকদের রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলার কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।










