বিসিএস পরীক্ষার্থীদের স্বার্থে জামায়াতের কর্মসূচিতে পরিবর্তন
- Update Time : ১০:৫১:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / ১৫০ Time View

আসন্ন ৪৭তম বিসিএস পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে জামায়াতে ইসলামী তাদের ঘোষিত যুগপৎ আন্দোলনের কর্মসূচিতে পরিবর্তন এনেছে। নির্বাচনের আগে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন, আনুপাতিক প্রতিনিধি (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচনসহ পাঁচ দফা দাবিকে সামনে রেখে দলটি যে বিক্ষোভ-সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছিল, তা আংশিক সংশোধন করে নতুন সময়সূচি প্রকাশ করেছে।
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ৪৭তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা। সকাল ১০টা থেকে দেশের আটটি বিভাগের শহরে একযোগে শুরু হবে এ পরীক্ষা, যেখানে চার লাখেরও বেশি পরীক্ষার্থী অংশ নেবেন। পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে।
অন্যদিকে, একই সময়ে জামায়াতসহ আরও সাতটি বিরোধী রাজনৈতিক দল যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে সেদিন ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছিল। এতে পরীক্ষার্থীদের যাতায়াত, নিরাপত্তা ও পরীক্ষা পরিবেশ নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়।
এই পরিস্থিতি বিবেচনায় জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে কর্মসূচির সময় পরিবর্তন করেছে। একটি বিজ্ঞপ্তিতে দলটি জানিয়েছে, সকালবেলার কর্মসূচি বাতিল করে বিকেলে সমাবেশ ও বিক্ষোভ করবে। এ লক্ষ্যে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে সব শাখাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে সকালে কোনোভাবেই আন্দোলন-সংক্রান্ত কর্মসূচি না হয়।
সংশোধিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তরগেটে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে জামায়াত। পরদিন অর্থাৎ ১৯ সেপ্টেম্বর বিভাগীয় শহরগুলোতে একই ধরণের কর্মসূচি পালন করা হবে। এর ধারাবাহিকতায় ২৬ সেপ্টেম্বর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ সিদ্ধান্তে একদিকে পরীক্ষার্থীরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারবেন, অন্যদিকে জামায়াত তাদের আন্দোলনকেও অব্যাহত রাখতে পারবে। দলটির এমন পদক্ষেপকে অনেকেই দায়িত্বশীল আচরণ হিসেবে দেখছেন, কারণ সাধারণত রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচির কারণে জাতীয় পরীক্ষা বা জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে ভোগান্তি তৈরি হয়।
এবারের পরিবর্তিত সময়সূচি প্রমাণ করে যে, বিরোধী আন্দোলন চললেও সামাজিক ও জাতীয় স্বার্থকে পাশ কাটানো হয়নি। পরীক্ষার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে অংশ নিতে পারেন এবং রাষ্ট্রের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো বিঘ্ন না ঘটে, সেদিকে নজর রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।










