এনবিআরে ১৮২ জন কর্মকর্তার দপ্তর পরিবর্তন, বাধ্যতামূলক অবসর একজন, সাময়িক বরখাস্ত আরেকজন
- Update Time : ১২:১৯:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / ১১১ Time View

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের পৃথক আদেশে কর প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল আনা হয়েছে। সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত ওই আদেশ অনুযায়ী, এনবিআরের আওতায় ১৮২ জন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তার দপ্তর পরিবর্তন করা হয়েছে। পাশাপাশি, একজন যুগ্ম কর কমিশনারকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে এবং একজন কর পরিদর্শককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব (কাস্টমস ও ভ্যাট প্রশাসন) তানভীর আহম্মেদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে ১৮২ জন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তার বদলির তালিকা প্রকাশ করা হয়। কর্মকর্তাদের এ ধরনের গণবদলি কর প্রশাসনের অভ্যন্তরে দীর্ঘদিন ধরেই চলমান প্রশাসনিক সংস্কার ও পুনর্বিন্যাস কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) এবং এনবিআর থেকে জারি করা আলাদা দুটি আদেশে আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
বাধ্যতামূলক অবসর
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ থেকে জারি করা এক চিঠিতে জানানো হয় যে, কর অঞ্চল-১৬ এ কর্মরত যুগ্ম কর কমিশনার মো. জাহাঙ্গীর আলমকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি সরকারি চাকরিতে ২৫ বছর পূর্ণ করেছেন এবং জনস্বার্থে সরকার তাকে অবসর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে তাকে এই অবসর দেওয়া হয়েছে। বিধি অনুযায়ী, তিনি অবসরকালীন সব আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা পাবেন। প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত সরকারি চাকরিতে কর্মদক্ষতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টার অংশ।
সাময়িক বরখাস্ত
অন্যদিকে, গাজীপুরে কর্মরত কর পরিদর্শক মিজ কাজী নূরে সোহেলাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ এবং ‘পলায়ন’-এর গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩ (খ) ও ৩ (গ) অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অংশ হিসেবে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।
আদেশে আরও বলা হয়, বরখাস্ত থাকা অবস্থায় তিনি গাজীপুর কর কমিশনারের কার্যালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এ সময়ে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরাকি ভাতা পাবেন। জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
প্রেক্ষাপট
প্রশাসনিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এনবিআরের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের বদলি, অবসর ও বরখাস্তের সিদ্ধান্ত কর প্রশাসনে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। নিয়মিত মূল্যায়নের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের কর্মদক্ষতা যাচাই করা হলে একদিকে যেমন প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ে, অন্যদিকে অসদাচরণ ও দায়িত্বে অবহেলার মতো কর্মকাণ্ডও কমে আসে।
কর প্রশাসনে এত বড় সংখ্যক বদলি এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থার খবরে একদিকে আলোচনার ঝড় উঠেছে, অন্যদিকে জনস্বার্থে নেওয়া এসব সিদ্ধান্তকে অনেকেই ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।










