মুক্তিযুদ্ধ অস্বীকার করা মানেই বাংলাদেশকে অস্বীকার করা: জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আযাদ
- Update Time : ০৫:৩৫:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / ১৮১ Time View

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধ ও দেশের স্বাধীনতার প্রতি তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, “মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করা মানেই বাংলাদেশ রাষ্ট্রকেই অস্বীকার করা।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, জামায়াত বাংলাদেশের সংবিধান ও প্রচলিত আইন মেনেই রাজনীতি করছে এবং স্বাধীনতাকে অস্বীকার করে রাজনীতির মাঠে টিকে থাকা সম্ভব নয়।
রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
স্বাধীনতা প্রশ্নে জামায়াতের অবস্থান
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “আমরা বারবার বলেছি—বাংলাদেশের স্বাধীনতা আমাদের সবার অর্জন। এটি অস্বীকার করা মানে রাষ্ট্রের অস্তিত্ব অস্বীকার করা। আমরা অতীতের কিছু বিতর্কিত প্রসঙ্গ টেনে এনে বর্তমানকে বিচার করার সুযোগ দেখি না। জামায়াত সংবিধান ও আইনি প্রক্রিয়াকে শ্রদ্ধা করেই রাজনীতি করে আসছে।”
তিনি মনে করিয়ে দেন যে, মুক্তিযুদ্ধের স্বীকৃতির প্রশ্নে কোনো বিভ্রান্তি থাকার সুযোগ নেই। জাতীয় জীবনে ঐতিহাসিক সত্যকে অস্বীকার করা মানে ভবিষ্যতকে অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি
জামায়াত নেতা আরও বলেন, রাজনৈতিক সংকট নিরসনে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনার ফলশ্রুতিতে যে “জুলাই সনদ” প্রণীত হয়েছে, তাকে অবশ্যই আইনি স্বীকৃতি দিতে হবে। “এই সনদ যদি রাষ্ট্রীয় দলিল হিসেবে স্বীকৃতি না পায়, তাহলে ভবিষ্যতে তা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। আমরা চাই, এটি আইনসম্মত কাঠামোর মধ্যে বাস্তবায়ন হোক, যাতে কেউ বাতিল বা চ্যালেঞ্জ করতে না পারে।”
তিনি জানান, তাদের লক্ষ্য একটি অংশগ্রহণমূলক, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন। ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনকে তিনি ‘ইতিহাসের সেরা নির্বাচন’ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সাংবিধানিক প্রস্তাব
হামিদুর রহমান আযাদ সংবিধানের ৭ নম্বর অনুচ্ছেদের উদাহরণ টেনে বলেন, জনগণই রাষ্ট্রের মালিক, তাদের অনুমোদনই সর্বোচ্চ ক্ষমতার উৎস। তাই একটি ‘কনস্টিটিউশনাল অর্ডার’ বা সাংবিধানিক আদেশের মাধ্যমে জুলাই সনদকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া যেতে পারে। প্রয়োজনে সরকার গণভোটের মাধ্যমে জনগণের অনুমোদনও নিতে পারে, যা হবে আরও শক্তিশালী ভিত্তি।
style="text-align: justify;">ভবিষ্যতের রাজনৈতিক কাঠামো
জামায়াতের পক্ষ থেকে প্রস্তাব রাখা হয়েছে, জুলাই সনদের ওপর ভিত্তি করে একটি পূর্ণাঙ্গ আইনি কাঠামো তৈরি করতে হবে এবং সেই কাঠামোর ভিত্তিতে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। এতে ভবিষ্যতে নির্বাচন বা সনদ প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার সুযোগ থাকবে না।
তাদের দাবি, একটি জবাবদিহিমূলক, কল্যাণমুখী ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার জন্য এই আইনি ভিত্তি অপরিহার্য। আযাদের ভাষায়, “আমরা চাই, আগামী প্রজন্মের জন্য একটি স্থিতিশীল ও টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে উঠুক। এ জন্য ঐকমত্যভিত্তিক আইনি কাঠামোর বিকল্প নেই।”










