এই বিচার ইতিহাসে স্থান পাবে: চিফ প্রসিকিউটর
- Update Time : ০২:৪২:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / ২৬৪ Time View

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন, আশুলিয়ায় ছয়জন আন্দোলনকারীকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় শুরু হওয়া এই বিচার কেবল একটি মামলার নিষ্পত্তি নয়, বরং এটি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিশ্বের কাছে একটি শক্ত বার্তা। এ বিচার প্রমাণ করবে—বাংলাদেশ ন্যায়বিচারে বিশ্বাসী, আইনের শাসনে অঙ্গীকারবদ্ধ এবং কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। তিনি বলেন, “এই বিচার হবে ইতিহাসের অংশ। এটি সেই সব শহীদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা, যাঁরা ন্যায়বিচারের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। এই ট্রাইব্যুনাল দেখিয়ে দেবে, বাংলাদেশ একটি মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র।”
আজ রবিবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ এই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। এ সময় অপর দুই বিচারক ছিলেন মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। আগামীকাল সোমবার থেকে এই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
এই মামলায় মোট ১৬ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে আটজন ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার হয়েছেন। গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলাম, ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফী, ঢাকা জেলা পুলিশের ডিবির সাবেক পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন, আশুলিয়া থানার সাবেক উপপরিদর্শক আবদুল মালেক, আরাফাত উদ্দীন, কামরুল হাসান, শেখ আবজালুল হক এবং সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার। এছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ আরও আটজন আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন।
চিফ প্রসিকিউটর তাঁর বক্তব্যে ইতিহাসের নানা উদাহরণ টেনে বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে বহু স্বৈরাচার পালিয়েছে, বাংলাদেশেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। তিনি উল্লেখ করেন, এখানে শুধু স্বৈরশাসকই নয়, তার মন্ত্রিসভা, দলীয় নেতা-কর্মী, সংসদ সদস্য, পুলিশ কর্মকর্তা এমনকি উচ্চ আদালতের কিছু বিচারকও পালিয়ে গেছেন। এর মাধ্যমে প্রমাণ হয়, অপরাধী যত বড়ই হোক, আইনের মুখোমুখি হতে হয়েই যায়।
তাজুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালের কাছে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “মাননীয় ট্রাইব্যুনাল, আপনারা যেন নিরপেক্ষ, সঠিক এবং দৃঢ় রায় দেন। অপরাধীরা যেন যথাযথ শাস্তি পায়। এ বিচার জনগণের মাঝে আস্থা ফিরিয়ে আনবে, এবং ভবিষ্যতের জন্য এটি একটি শক্ত বার্তা হয়ে থাকবে—কোনো অপরাধী ন্যায়বিচার এড়িয়ে যেতে পারবে না।”
প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যে বলা হয়, আসামিদের বিরুদ্ধে সংগৃহীত প্রমাণ শুধু বিশ্বাসযোগ্য নয়, বরং অকাট্য। এ প্রমাণ বিচ্ছিন্ন কোনো তথ্য নয়, বরং একটি শক্ত প্রমাণশৃঙ্খল—যার মধ্যে রয়েছে চাক্ষুষ সাক্ষ্য, ডিজিটাল রেকর্ড, সরকারি চিঠিপত্র এবং ফরেনসিক প্রতিবেদন। প্রতিটি প্রমাণ অন্যটির সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে মামলার পূর্ণাঙ্গ চিত্র দাঁড় করিয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর জোর দিয়ে বলেন, “এ বিচার কেবল বর্তমানের জন্য নয়, ভবিষ্যতের জন্যও শিক্ষা। যেন রাষ্ট্রের কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা ক্ষমতাশালী অপরাধী কখনোই মনে না করে যে তারা শাস্তি এড়াতে পারবে। বাংলাদেশ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারবদ্ধ, এবং এই বিচার তার অন্যতম সাক্ষ্য হয়ে থাকবে।”











