ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকায় গ্যাস সংকট: ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ
- Update Time : ০৩:০৪:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / ২৫৪ Time View

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই ভয়াবহ গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। শুধু রাতের বেলায় নয়, দিনের বেলাতেও গ্যাসের চরম ঘাটতি অব্যাহত থাকায় শহরের সাধারণ মানুষের জীবন এখন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। স্বাভাবিক অবস্থায় গ্যাস লাইনে ৪৫ প্রেশার থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে মাত্র ৫-৬ এ। ফলে রান্না-বান্না থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী, কর্মজীবী ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিদিন ভোর ৫টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত গ্যাসের চাপ এতটাই কম থাকে যে খাবার রান্না করাই সম্ভব হয় না। এতে গৃহিণীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীরা নাশতা ছাড়া বের হতে বাধ্য হচ্ছেন। অফিস বা ক্লাসে সময়মতো পৌঁছানোও তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রতিদিনের এই অনিশ্চয়তা এখন পরিবারগুলোর জন্য অসহনীয় কষ্টে পরিণত হয়েছে। অনেক পরিবার বিকল্প হিসেবে সিলিন্ডার বা বিদ্যুতচালিত কুকার ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন, তবে সেগুলোও ব্যয়বহুল হওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের পক্ষে তা বহন করা সম্ভব হচ্ছে না।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা বা নোটিশ ছাড়াই হঠাৎ করে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত করা হয়েছে। এতে তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, “যারা ইচ্ছাকৃতভাবে এভাবে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ বা চাপ কমিয়ে দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়া জরুরি।” অনেকেই বলেছেন, এই পরিস্থিতি শুধু দৈনন্দিন জীবনকে নয়, ছোট ব্যবসা ও হোটেল-রেস্তোরাঁকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
এ অবস্থায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাধারণ মানুষ জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও গ্যাস বিতরণকারী কর্তৃপক্ষের প্রতি জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। তারা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন। শহরজুড়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এই সংকট, কারণ মানুষ মনে করছেন অবিলম্বে এ সমস্যার সমাধান না হলে জনজীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পৌর এলাকায় গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় একেবারেই কম। স্থানীয়রা বলছেন, “এভাবে চলতে থাকলে রান্না-বান্না তো দূরের কথা, নিত্যদিনের জীবনযাপনই অসম্ভব হয়ে পড়বে।” তাই অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন তারা।










