ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন: শেখ হাসিনার আমলে বাংলাদেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার
- Update Time : ১২:০৭:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / ৩০২ Time View

ব্রিটিশ প্রভাবশালী দৈনিক ফিনান্সিয়াল টাইমস (FT) এক বিস্ফোরক অনুসন্ধানে দাবি করেছে, গত ১৫ বছরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের শাসনামলে বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ অবৈধভাবে পাচার হয়েছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ২৫ লাখ কোটি টাকা) পাচার হয়েছে।
অনুসন্ধানী ডকুমেন্টারি প্রকাশ
শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত FT-এর বিশেষ ডকুমেন্টারি “Bangladesh’s Missing Billions: Stolen in Plain Sight”–এ এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, ভুক্তভোগী ব্যাংকার এবং আন্দোলনকারীদের সাক্ষাৎকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ডকুমেন্টারিতে উল্লেখ করা হয়, শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে প্রতি বছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলার করে দেশ থেকে পাচার হয়েছে।
অর্থ পাচারের কৌশল
অর্থ পাচারের প্রধান পদ্ধতি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে—
- ওভার-ইনভয়েসিং ও আন্ডার-ইনভয়েসিং: আমদানি–রপ্তানি বাণিজ্যে পণ্যের দাম বাড়িয়ে বা কমিয়ে দেখানো,
- হুন্ডি চক্র: অবৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানো,
- বিদেশে সম্পদ বিনিয়োগ, বিশেষ করে যুক্তরাজ্যের আর্থিক খাত ও রিয়েল এস্টেট বাজারে বিপুল বিনিয়োগ।
FT জানায়, লন্ডন ইতোমধ্যেই বাংলাদেশি অর্থ পাচারের অন্যতম গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।
আলোচিত ব্যক্তিদের নাম
ডকুমেন্টারিতে শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানা ও মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক–এর নামও উল্লেখ করা হয়। টিউলিপ সিদ্দিক যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির এমপি এবং এক সময়ের মন্ত্রী হলেও, প্রতিবেদনে দাবি করা হয় দুর্নীতি-সংক্রান্ত এক মামলার পর তাকে মন্ত্রিত্ব ছাড়তে হয়। যদিও এই অভিযোগ এখনো বিচারাধীন এবং তাদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এছাড়া, যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী–এর নামে প্রায় ৩০০টির বেশি সম্পত্তি রয়েছে বলে দাবি করা হয়। ব্রিটিশ অপরাধ দমন সংস্থা (SCA) ইতোমধ্যেই ৩৫০টি সম্পত্তি জব্দ
ব্যাংক খাতের ওপর নিয়ন্ত্রণ
অভিযোগ রয়েছে, হাসিনা সরকারের সময়ে সেনা গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় বিভিন্ন ব্যাংক দখল করা হয়। অস্ত্রের মুখে পরিচালক ও চেয়ারম্যানদের পদত্যাগে বাধ্য করে ভুয়া ঋণের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে।
প্রতিক্রিয়া ও বিশ্লেষণ
বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে এই অভিযোগের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় তদন্ত চলছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এত বিপুল অর্থ বিদেশ থেকে ফেরত আনা কঠিন হলেও, সঠিক রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা থাকলে তা সম্ভব। অন্যদিকে, সরকারপন্থি ব্যক্তিরা এই তথ্যকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা বলে দাবি করেছেন।










