হঠাৎ অসুস্থ হয়ে শিক্ষকের মৃত্যু, শোকের ছায়ায় জাকসু ভোট গণনা
- Update Time : ০৩:০৬:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / ৩৫০ Time View

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের ভোট গণনার মাঝেই ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ঘটনা। চারুকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌস (৩১) হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের তৃতীয় তলায় ভোট গণনার কক্ষের সামনে তিনি হঠাৎ পড়ে যান। দ্রুত তাঁকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
জান্নাতুল ফেরদৌস প্রীতিলতা হল সংসদে পোলিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। নির্বাচনের কাজের চাপ সামলাতে তিনি টানা ব্যস্ত ছিলেন। বৃহস্পতিবার ভোট গ্রহণ শেষে সন্ধ্যায় বাসায় গেলেও পরদিন সকাল সাড়ে সাতটা থেকে আটটার মধ্যে পুনরায় ভোট গণনার কাজে অংশ নিতে সিনেট ভবনে আসেন। সেখানে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে সবাই হতবাক হয়ে যান।
চারুকলা বিভাগের সভাপতি শামীম রেজা বলেন, “আমি প্রীতিলতা হলে রিটার্নিং অফিসার ছিলাম, আর জান্নাতুল পোলিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সকালে ভোট গণনার জন্য আমি তাঁকে ফোন দিয়েছিলাম। কিন্তু গণনার কক্ষে প্রবেশের আগেই তিনি পড়ে যান। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাঁকে আর বাঁচানো যায়নি।”
অধ্যাপক জান্নাতুলের মৃত্যুর খবরে ভোট গণনার পরিবেশে শোকের ছায়া নেমে আসে। উপস্থিত পোলিং কর্মকর্তারা, প্রার্থীরা এবং অনেক শিক্ষার্থী কান্নায় ভেঙে পড়েন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও নির্বাচন কমিশনের সদস্যসচিব অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, “জান্নাতুল ফেরদৌস অত্যন্ত দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা ছিলেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যু আমাদের সবাইকে মর্মাহত করেছে। আমি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।”
তবে শোকাবহ পরিবেশেও দায়িত্বের কারণে ভোট গণনা থামানো হয়নি। জাকসু নির্বাচন কমিশনের সদস্য ড. রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা মাইকে উপস্থিতদের উদ্দেশে বলেন, “এই মুহূর্তে আমরা সবাইকে অনুরোধ করব, জান্নাতুল ফেরদৌসের জন্য দোয়া করবেন। আমরা যে কাজের মধ্যে আছি তা অসম্পূর্ণ রাখা সম্ভব নয়। তাই তাঁর দায়িত্বে থাকা প্রীতিলতা হলের ভোট গণনাকে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
নির্বাচনের ইতিহাসে এই ঘটনা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মনে গভীর বেদনা ছুঁয়ে দিয়েছে। শিক্ষকের মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করছে। অনেকেই মনে করছেন, টানা কাজের চাপ, মানসিক ক্লান্তি ও শারীরিক অবসাদ হয়তো এই আকস্মিক মৃত্যুর পেছনে ভূমিকা রেখেছে। তবে তাঁর দায়িত্ববোধ ও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কাজের প্রতি নিষ্ঠা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মনে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।










