সময়: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাকসুর চূড়ান্ত ফল রাত ১১টার মধ্যে ঘোষণার আশাবাদ নির্বাচন কমিশনের

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০২:৪৮:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ৩৬৫ Time View

1757665874 38f6a211e24d8a377e11abaca370e1f2

1757665874 38f6a211e24d8a377e11abaca370e1f2

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের ভোট গণনা শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আজ রাত ১০টা থেকে ১১টার মধ্যেই চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা সম্ভব হবে। ইতোমধ্যে ২১টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৭টির ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছে, বাকি কেন্দ্রগুলোর কাজও দ্রুত এগোচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলেও ফল প্রকাশে দেরি হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। অনেক শিক্ষার্থী কেন্দ্রের সামনে রাতভর অপেক্ষা করে থেকেছেন কেবল ফল জানার জন্য।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও নির্বাচন কমিশনের সদস্যসচিব এ কে এম রাশিদুল আলম গণমাধ্যমকে জানান, “প্রথম দিকে যেসব কারণে ভোট গণনায় দেরি হচ্ছিল, তা কাটিয়ে উঠতে পেরেছি। বর্তমানে লোকবল যথেষ্ট রয়েছে, তাই আমরা বিকেলের মধ্যে প্রতিটি হলের ভোট গণনার হিসাব শেষ করার চেষ্টা করছি। সব কিছু ঠিক থাকলে রাত ১০টা থেকে ১১টার মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ ফলাফল ঘোষণা করা হবে।”

তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ওএমআর মেশিন ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোট গণনার প্রস্তুতি থাকলেও বেশ কয়েকজন প্রার্থীর আবেদনের প্রেক্ষিতে হাতে হাতে (ম্যানুয়ালি) ভোট গণনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে সময় বেশি লাগলেও গণনার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে।

ভোট গণনা বিলম্বের পেছনে কয়েকটি কারণও তুলে ধরেন রাশিদুল আলম। তাঁর ভাষায়, “কিছু হলে ভোট শুরুতে দেরি হয়, আবার কিছু হলে ভোট চলাকালীন সাময়িক স্থগিত থাকে। বিশেষ করে দুটি বড় হলে দুপুর পর্যন্ত ভোটার উপস্থিতি কম থাকলেও বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পাঁচটার দিকে হঠাৎ লাইন দীর্ঘ হয়। নিয়ম অনুযায়ী সবাইকে ভোট দেওয়ার সুযোগ দিতে গিয়ে ভোট গ্রহণ দেরি হয়। এরপর ব্যালট বাক্সগুলো নির্বাচন কমিশনে আসতে রাত সাড়ে ৯টা বেজে যায়। সব বাক্স আসা পর্যন্ত গণনা শুরু না করায় কার্যত রাত ১০টার পর থেকে ভোট গণনা শুরু হয়।”

তিনি আরও যোগ করেন, “যেহেতু শুরুতে ম্যানুয়াল গণনার অভিজ্ঞতা কম ছিল, তাই ধীরগতিতে কাজ এগোয়। তবে পরে গতি বেড়েছে এবং এখন আমরা দ্রুত কাজ শেষ করার পথে।”

উল্লেখ্য, এবারের জাকসু নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১১ হাজার ৭৪৩ জন। কেন্দ্রীয় সংসদের ২৫টি পদের জন্য ১৭৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে ভিপি পদে ৯ জন এবং জিএস পদে ৮ জন প্রার্থী ছিলেন। ছাত্রীদের ১০টি আবাসিক হলে ১৫০টি পদের মধ্যে ৫৯টিতে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল না। একক প্রার্থী থাকায় ৬৭টি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন প্রার্থীরা। ফলে মাত্র ২৪টি পদে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি হলে দুই হলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।

সব মিলিয়ে শিক্ষার্থীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে রাত ১১টার ঘোষণার জন্য, যা এবারের জাকসু নির্বাচনের ফলাফলের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটাবে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জাকসুর চূড়ান্ত ফল রাত ১১টার মধ্যে ঘোষণার আশাবাদ নির্বাচন কমিশনের

Update Time : ০২:৪৮:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

1757665874 38f6a211e24d8a377e11abaca370e1f2

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের ভোট গণনা শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আজ রাত ১০টা থেকে ১১টার মধ্যেই চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা সম্ভব হবে। ইতোমধ্যে ২১টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৭টির ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছে, বাকি কেন্দ্রগুলোর কাজও দ্রুত এগোচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলেও ফল প্রকাশে দেরি হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। অনেক শিক্ষার্থী কেন্দ্রের সামনে রাতভর অপেক্ষা করে থেকেছেন কেবল ফল জানার জন্য।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও নির্বাচন কমিশনের সদস্যসচিব এ কে এম রাশিদুল আলম গণমাধ্যমকে জানান, “প্রথম দিকে যেসব কারণে ভোট গণনায় দেরি হচ্ছিল, তা কাটিয়ে উঠতে পেরেছি। বর্তমানে লোকবল যথেষ্ট রয়েছে, তাই আমরা বিকেলের মধ্যে প্রতিটি হলের ভোট গণনার হিসাব শেষ করার চেষ্টা করছি। সব কিছু ঠিক থাকলে রাত ১০টা থেকে ১১টার মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ ফলাফল ঘোষণা করা হবে।”

তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ওএমআর মেশিন ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোট গণনার প্রস্তুতি থাকলেও বেশ কয়েকজন প্রার্থীর আবেদনের প্রেক্ষিতে হাতে হাতে (ম্যানুয়ালি) ভোট গণনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে সময় বেশি লাগলেও গণনার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে।

ভোট গণনা বিলম্বের পেছনে কয়েকটি কারণও তুলে ধরেন রাশিদুল আলম। তাঁর ভাষায়, “কিছু হলে ভোট শুরুতে দেরি হয়, আবার কিছু হলে ভোট চলাকালীন সাময়িক স্থগিত থাকে। বিশেষ করে দুটি বড় হলে দুপুর পর্যন্ত ভোটার উপস্থিতি কম থাকলেও বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পাঁচটার দিকে হঠাৎ লাইন দীর্ঘ হয়। নিয়ম অনুযায়ী সবাইকে ভোট দেওয়ার সুযোগ দিতে গিয়ে ভোট গ্রহণ দেরি হয়। এরপর ব্যালট বাক্সগুলো নির্বাচন কমিশনে আসতে রাত সাড়ে ৯টা বেজে যায়। সব বাক্স আসা পর্যন্ত গণনা শুরু না করায় কার্যত রাত ১০টার পর থেকে ভোট গণনা শুরু হয়।”

তিনি আরও যোগ করেন, “যেহেতু শুরুতে ম্যানুয়াল গণনার অভিজ্ঞতা কম ছিল, তাই ধীরগতিতে কাজ এগোয়। তবে পরে গতি বেড়েছে এবং এখন আমরা দ্রুত কাজ শেষ করার পথে।”

উল্লেখ্য, এবারের জাকসু নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১১ হাজার ৭৪৩ জন। কেন্দ্রীয় সংসদের ২৫টি পদের জন্য ১৭৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে ভিপি পদে ৯ জন এবং জিএস পদে ৮ জন প্রার্থী ছিলেন। ছাত্রীদের ১০টি আবাসিক হলে ১৫০টি পদের মধ্যে ৫৯টিতে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল না। একক প্রার্থী থাকায় ৬৭টি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন প্রার্থীরা। ফলে মাত্র ২৪টি পদে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি হলে দুই হলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।

সব মিলিয়ে শিক্ষার্থীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে রাত ১১টার ঘোষণার জন্য, যা এবারের জাকসু নির্বাচনের ফলাফলের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটাবে।