৩৩ বছর পর আজ জাকসু নির্বাচনে ভোট হচ্ছে
- Update Time : ১২:০২:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / ১৮০ Time View

দীর্ঘ ৩৩ বছর পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচন। বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি আবাসিক হল সংসদের ভোটও অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১১ হাজার ৭৪৭ জন। কেন্দ্রীয় সংসদের বিভিন্ন পদে মোট ১৭৮ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৯ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ৯ জন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (নারী) পদে ৬ জন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (পুরুষ) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১০ জন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি হলের ২২৪টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে—যার মধ্যে ১০টি ছাত্রী হল ও ১১টি ছাত্র হল। প্রতিটি কেন্দ্রে একজন রিটার্নিং কর্মকর্তা, ৬৭ জন পোলিং কর্মকর্তা ও ৬৭ জন সহকারী পোলিং কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। ভোটাররা কেন্দ্রীয় সংসদ ও হল সংসদ মিলিয়ে মোট ৪০টি ব্যালটে টিক চিহ্ন দেবেন এবং ভোট গণনায় ব্যবহার করা হবে বিশেষ ওএমআর মেশিন।
উল্লেখযোগ্য দিক হলো, জাকসু নির্বাচনে এবারও নারী প্রার্থীদের অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে কম। ভিপি পদে কোনো নারী প্রার্থী না থাকলেও জিএস পদে ১৫ জনের মধ্যে মাত্র ২ জন নারী প্রার্থী রয়েছেন। চারটি গুরুত্বপূর্ণ পদে একেবারেই কোনো নারী প্রার্থী নেই। সবগুলো হল সংসদ মিলিয়ে মোট প্রার্থীর মধ্যে ২৪ দশমিক ৪ শতাংশ ছাত্রী প্রার্থী হলেও মেয়েদের হলের মধ্যে পাঁচটিতে ১৫টি পদে কোনো প্রার্থীই নেই।
নির্বাচনে মোট আটটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এর মধ্যে বামপন্থী, ইসলামী ছাত্রশিবির, ছাত্রদল ও স্বতন্ত্র সমর্থিত প্যানেলগুলো প্রধান। ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল থেকে ভিপি পদে শেখ সাদী হাসান ও জিএস পদে তানজিলা হোসেন বৈশাখী লড়ছেন। বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র ঐক্য (বাগাছাস) সমর্থিত ‘শিক্ষার্থী ঐক্য ফোরাম’-এর নেতৃত্বে রয়েছেন আরিফুজ্জামান উজ্জ্বল (ভিপি) ও আবু তৌহিদ মোহাম্মদ সিয়াম (জিএস)। স্বতন্ত্র শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্যানেল থেকে ভিপি পদে লড়ছেন আব্দুর রশিদ জিতু এবং জিএস পদে মো. শাকিল আলী। ইসলামী ছাত্রশিবিরের সমর্থিত ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট’-এর ভিপি প্রার্থী আরিফুল্লাহ আদিব ও জিএস পদে মাজহারুল ইসলাম।
এ ছাড়া ‘সম্প্রীতির ঐক্য’ প্যানেল থেকে জিএস পদে শরণ এহসান, এজিএস (পুরুষ) পদে নুর এ তামীম স্রোত ও এজিএস (নারী) পদে ফারিয়া জামান নিকি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে এই প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী অমর্ত্য রায় জনের প্রার্থিতা আদালতের আদেশে বাতিল হয়েছে। ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্র ফ্রন্টের সমন্বয়ে গঠিত ‘সংশপ্তক পর্যদ’-এর জিএস প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম ঈমন এবং এজিএস (নারী) পদে সোহাগী সামিয়া জান্নাতুল ফেরদৌস লড়ছেন।
দীর্ঘ বিরতির পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে। অনেকেই এটিকে ক্যাম্পাসের গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনরুদ্ধারের সুযোগ হিসেবে দেখছেন। নির্বাচনের ফলাফল শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় ও নেতৃত্বের নতুন ধারা গঠনে কতটা ভূমিকা রাখবে, তা এখন সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।










