ফেসবুক পোস্ট ঘিরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ওসি প্রত্যাহার
- Update Time : ০৬:০৩:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / ১৯৫ Time View

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলকে ফেসবুকে শুভকামনা জানানোর অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোজাফফর হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন নাসিরনগর থানার ওসি আজহারুল ইসলাম।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে সোমবার গভীর রাতে ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে। ওসি মোজাফফর তার ব্যক্তিগত আইডি থেকে একটি ফটোকার্ড পোস্ট করেন, যেখানে লেখা ছিল ‘২১, ১৭ ও ০৮’। এগুলো আসলে ডাকসুর নির্বাচনে ছাত্রদল সমর্থিত ভিপি, জিএস এবং এজিএস প্রার্থীর প্রতীকী নম্বর। পোস্টটির ক্যাপশনে তিনি লেখেন—“মেধাবীদের জন্য শুভকামনা।” মুহূর্তেই পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা বা প্রকাশ্য সমর্থন জানানো আইনত নিষিদ্ধ। অথচ একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে এ ধরনের রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট মন্তব্যকে অনেকেই শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং গুরুতর অনৈতিক কাজ হিসেবে দেখেছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে ঘটনাটি আরও আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে।
যদিও সমালোচনা শুরু হতেই ওসি মোজাফফর দাবি করেন, তার ফেসবুক আইডি হ্যাকড হয়েছে এবং তার অজ্ঞাতসারে ওই পোস্টটি দেওয়া হয়েছে। তিনি বিষয়টি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিতও করেন। তবুও জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া এবং প্রশাসনিক বিব্রতকর পরিস্থিতির কারণে দ্রুত পদক্ষেপ হিসেবে তাকে প্রত্যাহার করা হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম এম রকিব উর রেজা গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কিত পোস্টের পরিপ্রেক্ষিতে সদর থানার ওসিকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।
ঘটনাটি আবারও প্রশ্ন তুলেছে সরকারি কর্মকর্তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সচেতনতা ও নিরপেক্ষতার বিষয়ে। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কাছ থেকে জনগণ সবসময়ই নিরপেক্ষ ভূমিকা প্রত্যাশা করে। অথচ একটি অসতর্ক পোস্ট কীভাবে প্রশাসনিক শাস্তি ডেকে আনতে পারে, এ ঘটনা তারই প্রমাণ।











