সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইতিহাস গড়ে ডাকসুতে জয়ী স্বামী-স্ত্রী: বললেন‘অর্জন মনে করি না, দায়িত্বই আমাদের বড়’

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০২:১১:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ২৫২ Time View

5c0176c7ad4c989e24ebe7ebfcfb9012 68c115ecd2096

5c0176c7ad4c989e24ebe7ebfcfb9012 68c115ecd2096

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে এক নতুন ইতিহাস রচিত হয়েছে। একইসঙ্গে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হয়েছেন শিবির সমর্থিত প্যানেলের এক দম্পতি। ডাকসুর শতবর্ষের ইতিহাসে এই প্রথম স্বামী-স্ত্রী একই নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়ী হওয়ার নজির তৈরি করলেন তারা। এ ঘটনাকে অনেকেই ব্যতিক্রমী সাফল্য ও স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে দেখছেন।

বিজয়ী দম্পতি হলেন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী রায়হান উদ্দীন ও উম্মে ছালমা। রায়হান উদ্দীন ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং তিনি কার্যকরী সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে তার স্ত্রী উম্মে ছালমা, যিনি ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী, কমন রুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া বিষয়ক সম্পাদক পদে বিপুল ভোটে জয় লাভ করেছেন। নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা যায়, ছালমা পেয়েছেন ৯ হাজার ৯২০ ভোট এবং রায়হান পেয়েছেন ৫ হাজার ৮২ ভোট।

জয়ের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দম্পতি বলেন, “প্রথমেই আমরা আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। আল্লাহ আমাদের এই সুযোগ দিয়েছেন এবং শিক্ষার্থীরা আমাদের ওপর আস্থা রেখেছেন। এটি যেমন আনন্দের, তেমনি আমাদের ওপর বাড়তি দায়বদ্ধতাও তৈরি করেছে।” তারা আরও যোগ করেন, “আমরা কোনো রকম আনুষ্ঠানিক উদযাপন করব না। আমাদের প্রকৃত উদযাপন হবে কাজের মাধ্যমে। এই জয়কে আমরা কোনো অর্জন হিসেবে দেখি না। দিনশেষে শিক্ষার্থীরা যদি বলে, তোমরা ভালো কাজ করেছো—তাহলেই সেটি হবে আমাদের প্রকৃত অর্জন।”

এর আগে রায়হান উদ্দীন নির্বাচনী প্রচারণার সময় বলেছিলেন, “আমি ও আমার স্ত্রী দুজনেই শিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট থেকে মনোনয়ন পেয়েছি। আমরা অতীতেও শিক্ষার্থীদের স্বার্থে কাজ করেছি এবং ভবিষ্যতেও একইভাবে কাজ চালিয়ে যেতে চাই।”

এই ব্যতিক্রমী সাফল্যের মধ্য দিয়ে রায়হান ও উম্মে ছালমা কেবল ডাকসুর ইতিহাসে নয়, বরং বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতিতেও এক অনন্য নজির স্থাপন করলেন। তাদের জয় অনেক শিক্ষার্থীর কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠছে যে, দাম্পত্য জীবন ও সামাজিক দায়িত্ব একসঙ্গে সামলিয়েও জনস্বার্থে কাজ করা সম্ভব।

 

 

 

 

 

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ইতিহাস গড়ে ডাকসুতে জয়ী স্বামী-স্ত্রী: বললেন‘অর্জন মনে করি না, দায়িত্বই আমাদের বড়’

Update Time : ০২:১১:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

5c0176c7ad4c989e24ebe7ebfcfb9012 68c115ecd2096

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে এক নতুন ইতিহাস রচিত হয়েছে। একইসঙ্গে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হয়েছেন শিবির সমর্থিত প্যানেলের এক দম্পতি। ডাকসুর শতবর্ষের ইতিহাসে এই প্রথম স্বামী-স্ত্রী একই নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়ী হওয়ার নজির তৈরি করলেন তারা। এ ঘটনাকে অনেকেই ব্যতিক্রমী সাফল্য ও স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে দেখছেন।

বিজয়ী দম্পতি হলেন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী রায়হান উদ্দীন ও উম্মে ছালমা। রায়হান উদ্দীন ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং তিনি কার্যকরী সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে তার স্ত্রী উম্মে ছালমা, যিনি ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী, কমন রুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া বিষয়ক সম্পাদক পদে বিপুল ভোটে জয় লাভ করেছেন। নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা যায়, ছালমা পেয়েছেন ৯ হাজার ৯২০ ভোট এবং রায়হান পেয়েছেন ৫ হাজার ৮২ ভোট।

জয়ের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দম্পতি বলেন, “প্রথমেই আমরা আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। আল্লাহ আমাদের এই সুযোগ দিয়েছেন এবং শিক্ষার্থীরা আমাদের ওপর আস্থা রেখেছেন। এটি যেমন আনন্দের, তেমনি আমাদের ওপর বাড়তি দায়বদ্ধতাও তৈরি করেছে।” তারা আরও যোগ করেন, “আমরা কোনো রকম আনুষ্ঠানিক উদযাপন করব না। আমাদের প্রকৃত উদযাপন হবে কাজের মাধ্যমে। এই জয়কে আমরা কোনো অর্জন হিসেবে দেখি না। দিনশেষে শিক্ষার্থীরা যদি বলে, তোমরা ভালো কাজ করেছো—তাহলেই সেটি হবে আমাদের প্রকৃত অর্জন।”

এর আগে রায়হান উদ্দীন নির্বাচনী প্রচারণার সময় বলেছিলেন, “আমি ও আমার স্ত্রী দুজনেই শিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট থেকে মনোনয়ন পেয়েছি। আমরা অতীতেও শিক্ষার্থীদের স্বার্থে কাজ করেছি এবং ভবিষ্যতেও একইভাবে কাজ চালিয়ে যেতে চাই।”

এই ব্যতিক্রমী সাফল্যের মধ্য দিয়ে রায়হান ও উম্মে ছালমা কেবল ডাকসুর ইতিহাসে নয়, বরং বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতিতেও এক অনন্য নজির স্থাপন করলেন। তাদের জয় অনেক শিক্ষার্থীর কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠছে যে, দাম্পত্য জীবন ও সামাজিক দায়িত্ব একসঙ্গে সামলিয়েও জনস্বার্থে কাজ করা সম্ভব।