ডাকসু নির্বাচন: ছাত্রদলের প্রার্থীদের পক্ষে ওসির ফেসবুক পোস্টে সমালোচনার ঝড়
- Update Time : ০২:৫২:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / ১৭৮ Time View

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোজাফ্ফর হোসেনের একটি ফেসবুক পোস্ট। তিনি ছাত্রদল মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে শুভকামনা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার পর তা ঘিরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ২টার দিকে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে তিনি একটি ফটোকার্ড পোস্ট করেন। কার্ডে লেখা ছিল, “শুভ কামনা রইল ২১, ১৭, ০৮”। ক্যাপশনে তিনি লিখেন, “মেধাবীদের জন্য শুভ কামনা রইল।” এই পোস্ট প্রকাশের পর মুহূর্তের মধ্যেই তা ভাইরাল হয়ে যায় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা মহলের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
উল্লেখ্য, ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল থেকে ২১ নম্বর ব্যালটে ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আবিদুল ইসলাম আবিদ, ১৭ নম্বর ব্যালটে জিএস প্রার্থী তানভীর বারী হামিম এবং ৮ নম্বর ব্যালটে এজিএস পদে লড়ছেন তানভির আল হাদী মায়েদ। ফলে ওসির পোস্টটি সরাসরি ছাত্রদলের প্রার্থীদের সমর্থন হিসেবেই ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার এমন পদক্ষেপকে রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট এবং অনভিপ্রেত বলে মন্তব্য করেছেন বিভিন্ন মহল। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, নির্বাচনের মতো সংবেদনশীল সময়ে প্রশাসনের কর্মকর্তারা যদি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে অবস্থান নেন, তবে নিরপেক্ষতা কীভাবে নিশ্চিত হবে?
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসিন্দা মুখলেসুর রহমান নামে একজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মন্তব্য করেন, “আপনি জনগণের সেবক, কোনো দলের চাকর নন। দেশ ও জনগণের জন্য কাজ করুন। যদি রাজনীতি করতে চান, তবে চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে আসুন। জনগণের টাকায় বেতন নিয়ে জনগণের জানমালের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করুন—রাজনীতি নয়।”
এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা এনসিপির সদস্য আসাদুজ্জামান খোকন ওসির পোস্টের স্ক্রিনশট প্রকাশ করে লিখেছেন, “ডাকসুতেই যদি এই অবস্থা হয়, তবে জাতীয় নির্বাচনে কী হবে?” একইভাবে এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) মোহাম্মদ আতাউল্লাহ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “একজন
প্রতিক্রিয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মুহাম্মদ মোবারক হোসাইন বলেন, “একজন পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্বশীল জায়গা থেকে এমন মন্তব্য করা অনভিপ্রেত। অতীতেও তিনি পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
তবে এ বিষয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন ওসি মোহাম্মদ মোজাফ্ফর হোসেন। তার দাবি, তার ফেসবুক আইডি হ্যাকড হয়েছে এবং এ কারণেই এমন পোস্ট গেছে। তিনি এ নিয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলেও জানিয়েছেন।
ডাকসু নির্বাচনের মতো জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়ায় পুলিশের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় ইতোমধ্যেই বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়—ওসির এই ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কোনো তদন্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় কিনা।










