যৌনকর্মী থেকে চারবারের এমপি: ফিনিশ সংসদ সদস্য আননা কন্টুলার খোলামেলা স্বীকারোক্তি
- Update Time : ১১:০৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / ১২৩ Time View

ফিনল্যান্ডের সংসদ সদস্য আননা কন্টুলা নিজের অতীত জীবনের এক গোপন অধ্যায় প্রকাশ্যে এনে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মজীবন শেষে তিনি খোলাখুলি স্বীকার করেছেন, রাজনীতিতে আসার আগে তিনি দীর্ঘ সময় যৌনকর্মে যুক্ত ছিলেন।
শনিবার প্রকাশিত ফিনল্যান্ডের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক হেলসিঙ্গিন সানোমাত-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কন্টুলা বলেন, মাত্র ১৬ বছর বয়সে ছাত্রাবাসে থাকার সময় আর্থিক সংকট ও কৌতূহলের কারণে তিনি ‘এসকর্ট’ হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন।
বর্তমানে ৪৮ বছর বয়সী কন্টুলা ফিনল্যান্ডের সংসদে চতুর্থ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করছেন। যৌনকর্মীদের অধিকার রক্ষায় তিনি দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন, তবে এবারই প্রথম নিজ জীবনের এই অধ্যায়টি জনসমক্ষে তুলে ধরলেন। তাঁর ভাষায়, প্রায় দুই দশক ধরে তিনি অনিয়মিতভাবে যৌনকর্মে যুক্ত ছিলেন।
যৌনকর্মীদের অধিকার রক্ষার আন্দোলন
২০০২ সালে কন্টুলা যৌনকর্মীদের সংগঠন ‘সালি’ সহ-প্রতিষ্ঠা করেন। একইসঙ্গে বিভিন্ন প্রবন্ধ ও গবেষণার মাধ্যমে তিনি সমাজে প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানান। ২০০৬ সালে ফিনল্যান্ডে যৌন কেনাবেচা আংশিকভাবে সীমিত করার আইন পাস হলে কন্টুলা এটিকে “আংশিক বিজয়” হিসেবে দেখেছিলেন। কারণ, এই আইনের মাধ্যমে মানব পাচারের শিকারদের সুরক্ষার বিশেষ ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়।
রাজনৈতিক যাত্রা
২০১১ সাল থেকে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং ইতোমধ্যে চারবার নির্বাচিত হয়েছেন। তবে সম্প্রতি তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, আর সংসদ সদস্য পদে লড়বেন না। বর্তমানে তিনি সামাজিক কর্মী হিসেবে নতুনভাবে ক্যারিয়ার গড়ছেন, যেখানে নিরাপদ যৌন শিক্ষা এবং সামাজিক সুরক্ষার বিষয়গুলো বিশেষভাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সমালোচনা ও বিতর্ক
কন্টুলার এই খোলামেলা স্বীকারোক্তি ফিনল্যান্ডে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। হেলসিঙ্গিন সানোমাত-এ প্রকাশিত একটি মতামত নিবন্ধে আইনি মনোবিজ্ঞানী পিয়া পুয়োলাক্কা লিখেছেন—“যৌনকর্মকে অন্য পেশার মতো স্বাভাবিকভাবে উপস্থাপন করা উদ্বেগজনক। এটি সমাজকে স্বাধীন বা ন্যায্য করে না। বরং একটি সভ্য রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো এমন পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে কাউকে তার অন্তরঙ্গতা বিক্রি করতে না হয়।”
style="text-align: justify;">আইনি প্রেক্ষাপট
ফিনল্যান্ডে যৌনকর্ম বৈধ হলেও এর সঙ্গে কিছু সীমাবদ্ধতা জুড়ে দেওয়া হয়েছে। ২০০৬ সালের আইন অনুযায়ী, অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছ থেকে যৌনসেবা কেনা, মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের ব্যবহার করা কিংবা দালালির মাধ্যমে নিয়োজিত যৌনকর্মে অংশগ্রহণ করা—সবকিছুই অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।
নতুন আলোচনার সূচনা
আননা কন্টুলার স্বীকারোক্তি শুধু ব্যক্তিগত সাহসিকতা নয়, বরং ফিনল্যান্ডে যৌনকর্ম নিয়ে নতুন করে সামাজিক বিতর্ক শুরু করেছে। কেউ এটিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন—যেখানে একজন নারী নিজের অতীত লুকিয়ে না রেখে সরাসরি প্রকাশ করেছেন। আবার অনেকে মনে করছেন, এ ধরনের বক্তব্য যৌনকর্মকে সামাজিকভাবে বৈধতা দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।
কন্টুলা অবশ্য স্পষ্ট করে বলেছেন, তাঁর লক্ষ্য যৌনকর্মকে প্রচার করা নয়; বরং খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে একটি নিরাপদ ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা।
সোর্স: আরটি










