ডাকসু নির্বাচনের আগমুহূর্তে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা ভিসির
- Update Time : ০৯:০৩:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / ২১৩ Time View

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের একদিন আগে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান। সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় তিনি শিক্ষার্থীদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে এসে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “নির্ভয়ে তোমরা ভোট দিতে আসবে, আমরা তোমাদের জন্য অপেক্ষা করছি। ডাকসু তোমরা চেয়েছো, গভীরভাবে প্রত্যাশা করেছো; এটি গণঅভ্যুত্থানের মৌলিক মূল্যবোধের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিবাদের জন্য একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে ডাকসু অত্যন্ত জরুরি।”
উপাচার্য আরও বলেন, সারাদেশের দৃষ্টি এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে। দেশের মানুষ শুভকামনা জানাচ্ছেন। তাই শিক্ষার্থীদের প্রতি তার প্রত্যাশা—একটি সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে তারা গণতন্ত্রের বিকাশ ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার যে প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয় পালন করছে, তাতে সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন।
নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, “নারী ভোটারদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তারা নির্ভয়ে এসে ভোট দিতে পারবেন। সারাদেশ তোমাদের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করেছে। সেই বিশ্বাসের প্রতিদান তোমরা দেবে।”
প্রায় ১১ মাসের দীর্ঘ প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, আগামীকাল (৯ সেপ্টেম্বর) সেই বহুল প্রতীক্ষিত দিন। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ। কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ও হল সংসদের নির্বাচন একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে, যা এ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ঐতিহাসিক সুযোগ।
অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান জানান, এবারের নির্বাচন ঢাবির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আয়োজন। প্রথমবারের মতো হল থেকে বেরিয়ে এসে কেন্দ্রীয়ভাবে ৮টি কেন্দ্রে ভোট আয়োজন করা হচ্ছে। থাকবে ৮১০টি বুথ এবং প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থী ভোট দেবেন। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ক্যামেরা, তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রশিক্ষিত পোলিং কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচনী কর্মকর্তারা নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। ভিন্ন মতাদর্শের হলেও তারা সমাজে গ্রহণযোগ্য এবং সবার আস্থা অর্জন করেছেন। ভোট গণনা উন্মুক্ত রাখতে এলইডি স্ক্রিনে সরাসরি ফলাফল প্রদর্শনের ব্যবস্থা থাকবে, সঙ্গে সাংবাদিকদের উপস্থিতি পুরো প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করবে।
জয়-পরাজয় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ—এটি স্মরণ করিয়ে দিয়ে উপাচার্য বলেন, “কিছু প্রার্থী জিতবেন, কিছু প্রার্থী জিতবেন না। কিন্তু বিজয়ী ও পরাজিত—উভয়েরই দায়িত্ব আছে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে সক্রিয় ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে। বহু বছর পর আমরা এই ঐতিহাসিক নির্বাচন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। তাই জয়-পরাজয় যাই হোক না কেন, সক্রিয় অংশগ্রহণই হবে সবচেয়ে বড় সাফল্য।”










