সময়: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘আমরা জমিদার’ মন্তব্যে হাটহাজারী উপজেলা আমিরকে অব্যাহতি দিল জামায়াত

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১১:৪৮:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ১৫৭ Time View

jamayat neta mo sirajul islam 1757255107 1 2509071833

jamayat neta mo sirajul islam 1757255107 1 2509071833

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও পার্শ্ববর্তী এলাকা নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য দেওয়ার কারণে হাটহাজারী উপজেলা জামায়াতের আমির ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলামকে পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের এক জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) সংগঠনের প্রচার সম্পাদক অধ্যাপক ফজলুল করিম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। তিনি বলেন, কেন্দ্রের নির্দেশনা এবং জেলা আমীর মো. আলাউদ্দিন সিকদারের সভাপতিত্বে জরুরি কর্মপরিষদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সিরাজুল ইসলামকে তাৎক্ষণিকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তার বক্তব্য আমরা শুনেছি, বিষয়ে তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।”

শোকজ ছাড়াই অব্যাহতি

সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সিরাজুল ইসলামকে শোকজ করা হয়নি, কারণ তার মন্তব্য এতটাই বিতর্কিত ও সংগঠনের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল যে, তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

জামায়াতের অবস্থান

সংগঠনের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সিরাজুল ইসলামের বক্তব্য সম্পূর্ণ “ব্যক্তিগত” এবং জামায়াতের নীতি ও আদর্শের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ ধরনের মন্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার ও স্থানীয়রা বিক্ষুব্ধ হয়েছেন, যা সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে। একইসঙ্গে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও পাশ্ববর্তী জোবরা গ্রামের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক অতীতেও ছিল এবং ভবিষ্যতেও তা বজায় থাকবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের প্রতি সমবেদনা জানায় জামায়াত।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পদক্ষেপ

ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার হিসেবে কর্মরত। তার বিতর্কিত মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও বিষয়টি আমলে নিয়েছে। ইতোমধ্যে তার কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তাকে তিন দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।

বিতর্কিত মন্তব্যের প্রেক্ষাপট

গত বৃহস্পতিবার জোবরা গ্রামবাসীর সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় সিরাজুল ইসলাম বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের পৈতৃক সম্পত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। আমরা জমিদার, আমাদের ওপর কেউ হস্তক্ষেপ করবে—এটা আমরা মেনে নেব না। সম্মান করতে হবে, নইলে জনগণ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তার এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষাঙ্গনের সুশীল মহল মনে করছে, এমন মন্তব্য শুধু বিভাজন সৃষ্টি করে না, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।

সমালোচনা ও প্রতিক্রিয়া

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বলেছেন, একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতার মুখ থেকে এ ধরনের বক্তব্য আসা দুঃখজনক। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘ব্যক্তিগত সম্পত্তি’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা জনমনে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জামায়াতের দ্রুত পদক্ষেপ সংগঠনটির ভাবমূর্তি রক্ষার একটি কৌশল। তবে এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল যে, রাজনৈতিক ব্যক্তিদের জনসমক্ষে দেওয়া বক্তব্যের প্রভাব কতটা সুদূরপ্রসারী হতে পারে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

‘আমরা জমিদার’ মন্তব্যে হাটহাজারী উপজেলা আমিরকে অব্যাহতি দিল জামায়াত

Update Time : ১১:৪৮:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

jamayat neta mo sirajul islam 1757255107 1 2509071833

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও পার্শ্ববর্তী এলাকা নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য দেওয়ার কারণে হাটহাজারী উপজেলা জামায়াতের আমির ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলামকে পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের এক জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) সংগঠনের প্রচার সম্পাদক অধ্যাপক ফজলুল করিম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। তিনি বলেন, কেন্দ্রের নির্দেশনা এবং জেলা আমীর মো. আলাউদ্দিন সিকদারের সভাপতিত্বে জরুরি কর্মপরিষদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সিরাজুল ইসলামকে তাৎক্ষণিকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তার বক্তব্য আমরা শুনেছি, বিষয়ে তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।”

শোকজ ছাড়াই অব্যাহতি

সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সিরাজুল ইসলামকে শোকজ করা হয়নি, কারণ তার মন্তব্য এতটাই বিতর্কিত ও সংগঠনের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল যে, তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

জামায়াতের অবস্থান

সংগঠনের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সিরাজুল ইসলামের বক্তব্য সম্পূর্ণ “ব্যক্তিগত” এবং জামায়াতের নীতি ও আদর্শের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ ধরনের মন্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার ও স্থানীয়রা বিক্ষুব্ধ হয়েছেন, যা সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে। একইসঙ্গে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও পাশ্ববর্তী জোবরা গ্রামের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক অতীতেও ছিল এবং ভবিষ্যতেও তা বজায় থাকবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের প্রতি সমবেদনা জানায় জামায়াত।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পদক্ষেপ

ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার হিসেবে কর্মরত। তার বিতর্কিত মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও বিষয়টি আমলে নিয়েছে। ইতোমধ্যে তার কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তাকে তিন দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।

style="text-align: justify;">বিতর্কিত মন্তব্যের প্রেক্ষাপট

গত বৃহস্পতিবার জোবরা গ্রামবাসীর সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় সিরাজুল ইসলাম বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের পৈতৃক সম্পত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। আমরা জমিদার, আমাদের ওপর কেউ হস্তক্ষেপ করবে—এটা আমরা মেনে নেব না। সম্মান করতে হবে, নইলে জনগণ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তার এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষাঙ্গনের সুশীল মহল মনে করছে, এমন মন্তব্য শুধু বিভাজন সৃষ্টি করে না, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।

সমালোচনা ও প্রতিক্রিয়া

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বলেছেন, একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতার মুখ থেকে এ ধরনের বক্তব্য আসা দুঃখজনক। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘ব্যক্তিগত সম্পত্তি’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা জনমনে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জামায়াতের দ্রুত পদক্ষেপ সংগঠনটির ভাবমূর্তি রক্ষার একটি কৌশল। তবে এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল যে, রাজনৈতিক ব্যক্তিদের জনসমক্ষে দেওয়া বক্তব্যের প্রভাব কতটা সুদূরপ্রসারী হতে পারে।