সময়: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষ ‘ভাত খেতে গিয়েছি বলার পরও গেট খোলেননি দারোয়ান’—অভিযোগ সেই ছাত্রীর

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১১:৪২:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ১৫২ Time View

3b1c4aa57563a00feb1db6de5e7e77ec 68bd0185bd20a

3b1c4aa57563a00feb1db6de5e7e77ec 68bd0185bd20a

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকার একটি ভাড়া বাসায় অবস্থানরত এক ছাত্রীকে দারোয়ানের হাতে মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি ঘটে গত ৩০ আগস্ট রাত সোয়া ১২টা থেকে শুরু হয়ে টানা পরদিন দুপুর পর্যন্ত দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এই সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন, প্রক্টর অধ্যাপক তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফসহ প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। পাশাপাশি অন্তত ১০–১২ জন স্থানীয় বাসিন্দাও হামলার শিকার হন। সংঘর্ষের পর থেকে অভিযুক্ত দারোয়ান পলাতক রয়েছেন, ফলে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।

ছাত্রীর অভিযোগ

প্রথম বর্ষের ওই ছাত্রী গণমাধ্যমকে জানান, ৩০ আগস্ট রাতে তাদের বাসায় গ্যাস ফুরিয়ে যাওয়ায় তিনি রাত ১০টা ৪০ মিনিটে বাইরে খেতে যান এবং প্রায় ১১টা ১৫ মিনিটে ফিরে আসেন। ফিরে এসে তিনি দেখেন গেট বন্ধ। বারবার ডাকাডাকি করলেও দারোয়ান গেট খোলেননি। ছাত্রী বলেন, আমি বারবার বলেছি ভাত খেতে গিয়েছিলাম, তবুও তিনি গেট খুললেন না।”

তিনি আরও জানান, সহপাঠীকে ফোন করলে রুমমেট নিচে নামেন। কিন্তু তখনও দারোয়ান জেদ ধরে বলেন, ওই মেয়েকে ঢুকতে দেব না, আজকে বাইরে থাকুক।” পরে ছাত্রী ও তার সহপাঠী জোর করে প্রবেশ করতে চাইলে দারোয়ান নাকি গেট চাপা দেন, এতে ওই ছাত্রী আঘাত পান। পরবর্তী মুহূর্তে দারোয়ান তাকে গালে থাপ্পড়, বুকে ঘুষি এবং পেটে লাথি দেন। এতে তিনি মাটিতে পড়ে যান। স্থানীয় কয়েকজন প্রবীণ বিচার করার আশ্বাস দিলে রাত প্রায় ১২টা ৪০ মিনিটে তিনি তার রুমে ফিরে আসেন।

দারোয়ানের পাল্টা দাবি

অভিযুক্ত দারোয়ান অবশ্য নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, রাতে দেরি করে ফেরা নিয়ে প্রশ্ন করায় ছাত্রীই তাকে প্রথমে থাপ্পড় দেন। তিনি কারও গায়ে হাত তোলেননি। তবে শিক্ষার্থীরা এ দাবি মানতে নারাজ।

style="text-align: justify;">সংঘর্ষের সূত্রপাত

রাতে ঘটনাটি জানাজানি হলে শিক্ষার্থীরা দারোয়ানকে খুঁজতে বের হন। কিন্তু তিনি পালিয়ে যান। তখন উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করতে থাকলে স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একজন শিক্ষার্থী দারোয়ানকে ধরতে গেলে স্থানীয়রা তাকে মারধর করে। এর পরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। হঠাৎ মাইকিং করে শিক্ষার্থীদের ওপর সমন্বিত হামলা চালানো হয়, ফলে সংঘর্ষ আরও দীর্ঘায়িত হয়।

ছাত্রীর ভয় ও ক্ষোভ

ছাত্রী বলেন, আমরা ওই ভবনে অনেক ছাত্রী থাকি। হামলার সময় সবাই ছাদে উঠে ঘটনাগুলো দেখেছি। আমরা চিৎকার করছিলাম, সাহায্য চাইছিলাম। ভয় পেয়ে আমি রাতেই কাপড় নিয়ে বাসা ছেড়ে চলে যাই। পরে বৃহস্পতিবার এক সহপাঠীর সঙ্গে আবার ফিরে এসেছি।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সংঘর্ষের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় যে মামলা দায়ের করেছে, তাতে দারোয়ানের নাম নেই। এ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমি দারোয়ানের বিচার চাই। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার বিচার চাই। একজন ছাত্রীর কি রাতে জরুরি কোনো কাজ থাকতে পারে না? আমাকে নিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। আমি চাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সত্যিটা তদন্ত করে বের করুক।”

প্রশাসনের অবস্থান

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংঘর্ষ ঠেকাতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হলেও শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ও দাবি এখনও বহাল রয়েছে। আহত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযুক্ত দারোয়ানকে এখনও গ্রেপ্তার না করায় পরিস্থিতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

এই ঘটনার পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন আবাসিক এলাকায় থাকা নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রহরীদের আচরণবিধি কঠোরভাবে নির্ধারণ করা এখন সময়ের দাবি।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষ ‘ভাত খেতে গিয়েছি বলার পরও গেট খোলেননি দারোয়ান’—অভিযোগ সেই ছাত্রীর

Update Time : ১১:৪২:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

3b1c4aa57563a00feb1db6de5e7e77ec 68bd0185bd20a

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকার একটি ভাড়া বাসায় অবস্থানরত এক ছাত্রীকে দারোয়ানের হাতে মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি ঘটে গত ৩০ আগস্ট রাত সোয়া ১২টা থেকে শুরু হয়ে টানা পরদিন দুপুর পর্যন্ত দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এই সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন, প্রক্টর অধ্যাপক তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফসহ প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। পাশাপাশি অন্তত ১০–১২ জন স্থানীয় বাসিন্দাও হামলার শিকার হন। সংঘর্ষের পর থেকে অভিযুক্ত দারোয়ান পলাতক রয়েছেন, ফলে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।

ছাত্রীর অভিযোগ

প্রথম বর্ষের ওই ছাত্রী গণমাধ্যমকে জানান, ৩০ আগস্ট রাতে তাদের বাসায় গ্যাস ফুরিয়ে যাওয়ায় তিনি রাত ১০টা ৪০ মিনিটে বাইরে খেতে যান এবং প্রায় ১১টা ১৫ মিনিটে ফিরে আসেন। ফিরে এসে তিনি দেখেন গেট বন্ধ। বারবার ডাকাডাকি করলেও দারোয়ান গেট খোলেননি। ছাত্রী বলেন, আমি বারবার বলেছি ভাত খেতে গিয়েছিলাম, তবুও তিনি গেট খুললেন না।”

তিনি আরও জানান, সহপাঠীকে ফোন করলে রুমমেট নিচে নামেন। কিন্তু তখনও দারোয়ান জেদ ধরে বলেন, ওই মেয়েকে ঢুকতে দেব না, আজকে বাইরে থাকুক।” পরে ছাত্রী ও তার সহপাঠী জোর করে প্রবেশ করতে চাইলে দারোয়ান নাকি গেট চাপা দেন, এতে ওই ছাত্রী আঘাত পান। পরবর্তী মুহূর্তে দারোয়ান তাকে গালে থাপ্পড়, বুকে ঘুষি এবং পেটে লাথি দেন। এতে তিনি মাটিতে পড়ে যান। স্থানীয় কয়েকজন প্রবীণ বিচার করার আশ্বাস দিলে রাত প্রায় ১২টা ৪০ মিনিটে তিনি তার রুমে ফিরে আসেন।

দারোয়ানের পাল্টা দাবি

অভিযুক্ত দারোয়ান অবশ্য নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, রাতে দেরি করে ফেরা নিয়ে প্রশ্ন করায় ছাত্রীই তাকে প্রথমে থাপ্পড় দেন। তিনি কারও গায়ে হাত তোলেননি। তবে শিক্ষার্থীরা এ দাবি মানতে নারাজ।

style="text-align: justify;">সংঘর্ষের সূত্রপাত

রাতে ঘটনাটি জানাজানি হলে শিক্ষার্থীরা দারোয়ানকে খুঁজতে বের হন। কিন্তু তিনি পালিয়ে যান। তখন উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করতে থাকলে স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একজন শিক্ষার্থী দারোয়ানকে ধরতে গেলে স্থানীয়রা তাকে মারধর করে। এর পরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। হঠাৎ মাইকিং করে শিক্ষার্থীদের ওপর সমন্বিত হামলা চালানো হয়, ফলে সংঘর্ষ আরও দীর্ঘায়িত হয়।

ছাত্রীর ভয় ও ক্ষোভ

ছাত্রী বলেন, আমরা ওই ভবনে অনেক ছাত্রী থাকি। হামলার সময় সবাই ছাদে উঠে ঘটনাগুলো দেখেছি। আমরা চিৎকার করছিলাম, সাহায্য চাইছিলাম। ভয় পেয়ে আমি রাতেই কাপড় নিয়ে বাসা ছেড়ে চলে যাই। পরে বৃহস্পতিবার এক সহপাঠীর সঙ্গে আবার ফিরে এসেছি।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সংঘর্ষের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় যে মামলা দায়ের করেছে, তাতে দারোয়ানের নাম নেই। এ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমি দারোয়ানের বিচার চাই। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার বিচার চাই। একজন ছাত্রীর কি রাতে জরুরি কোনো কাজ থাকতে পারে না? আমাকে নিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। আমি চাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সত্যিটা তদন্ত করে বের করুক।”

প্রশাসনের অবস্থান

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংঘর্ষ ঠেকাতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হলেও শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ও দাবি এখনও বহাল রয়েছে। আহত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযুক্ত দারোয়ানকে এখনও গ্রেপ্তার না করায় পরিস্থিতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

এই ঘটনার পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন আবাসিক এলাকায় থাকা নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রহরীদের আচরণবিধি কঠোরভাবে নির্ধারণ করা এখন সময়ের দাবি।