সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেখ হাসিনার মতো আর কাউকে একনায়ক হতে দেওয়া হবে না : সারজিস আলম

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১০:৪০:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ১৪৯ Time View

1 20250906094411

1 20250906094411

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে আজও অনিয়ম, দুর্নীতি, হুমকি ও অপকর্ম অব্যাহতভাবে চলমান। এর ফলে সাধারণ মানুষ আবারও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আস্থা হারাতে শুরু করেছে। তিনি স্পষ্ট করে ঘোষণা দেন—যেই হোক চোর, বাটপার, চাঁদাবাজ বা হুমকিদাতা, তাদের নাম-পরিচয়সহ তালিকা প্রকাশ করা হবে। আর দেশের কোথাও শেখ হাসিনার মতো আর কাউকে একনায়ক হয়ে উঠতে দেওয়া হবে না।

শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে পঞ্চগড় সরকারি অডিটোরিয়ামে এনসিপির পঞ্চগড় জেলা শাখা আয়োজিত বিচার, সংস্কার গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সংবিধান’ শীর্ষক কর্মশালা ও সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সারজিস আলম এসব কথা বলেন।

বিএনপির হুমকির অভিযোগ

সারজিস আলম অভিযোগ করে বলেন, পঞ্চগড়ের বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়নে এনসিপির নতুন কর্মীদের বিএনপির নেতাকর্মীরা হুমকি দিচ্ছেন। বিশেষ করে দেবীগঞ্জ উপজেলার শালডাঙ্গা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান, বিএনপি সমর্থিত ফরিদুল ইসলাম সম্প্রতি এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারীর বাড়িতে গিয়ে তাকে এবং তার বাবাকে প্রকাশ্যে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছেন। তার মতে, এই ঘটনাই প্রমাণ করে—বাংলাদেশের রাজনীতির স্থিতিশীলতা ভয়ংকর হুমকির মুখে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনীতি নিষিদ্ধ করার আহ্বান

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা ও তার ছাত্রলীগ যেটা করতে পারেনি, সেটি আজ বিএনপির ছাত্রদল শুরু করেছে—স্কুল পর্যায়ে কমিটি গঠন। সারজিস আলম স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আমরা কোনোভাবেই স্কুল-কলেজে রাজনীতির নামে নোংরা চর্চা ঢুকতে দেব না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কলুষিত করার যেকোনো চেষ্টা আমরা সর্বাত্মকভাবে প্রতিরোধ করব।”

প্রতিপক্ষ নয়, প্রতিযোগিতা ভালো কাজের

তার ভাষায়, এনসিপির প্রতিপক্ষ কোনো রাজনৈতিক দল নয়। বিএনপি কিংবা অন্য কোনো দল যদি ভালো কাজ করে, তবে তাদের গলায় মালা পরিয়ে সম্মান জানানো হবে। কিন্তু কোনো অপকর্ম হলে তা প্রতিরোধ করা হবে যে কোনো মূল্যে। তিনি বলেন, যে অপকর্মে অতিষ্ঠ

হয়ে জনগণ গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়েছে, সেই ধরনের অপচেষ্টা আর সহ্য করা হবে না।”

স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার দাবি

সারজিস আলম দেশের নিয়োগ পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি পরীক্ষা—প্রিলিমিনারি, রিটেন, ভাইভা—সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় হতে হবে এবং নিয়োগ দিতে হবে মেধার ভিত্তিতে। আমার নিজের পরিবারের কেউ যদি মেধার পরীক্ষায় টিকতে না পারে, তবে তার কোনো প্রয়োজন নেই।”
তিনি অভিযোগ করেন, বহু বছর ধরে অযোগ্যরা সুপারিশের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সিস্টেম দখল করেছে, যার কারণে দেশ ধ্বংসের পথে গেছে। আগামীতে যদি একই অবস্থা বজায় থাকে, তাহলে বাংলাদেশের প্রকৃত পরিবর্তন কখনো আসবে না।

দলীয় নেতাদের সতর্কতা

তিনি এনসিপি নেতাদের উদ্দেশে কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, কোনোভাবেই সুপারিশ করবেন না, অন্য কারও সুপারিশও মেনে নেবেন না। যদি এমন কিছু হয়, তবে তা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করতে হবে।

ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের ডাক

সারজিস আলম বলেন, আমরা কারও সঙ্গে অযথা বিরোধে যেতে চাই না। যে দল হাত বাড়াবে, আমরা তাদের সঙ্গে হাত মিলাব। তবে যদি কোনো পক্ষ পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া শুরু করে, তারা যদি ১০০ জন হয় আর আপনারা ১০ জন হন, তবুও ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। নইলে একদিন এই অন্যায়-অপরাধ থেকে শুরু হবে গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড। আর এই সুযোগ কাউকেই দেওয়া হবে না।”

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

শেখ হাসিনার মতো আর কাউকে একনায়ক হতে দেওয়া হবে না : সারজিস আলম

Update Time : ১০:৪০:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

1 20250906094411

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে আজও অনিয়ম, দুর্নীতি, হুমকি ও অপকর্ম অব্যাহতভাবে চলমান। এর ফলে সাধারণ মানুষ আবারও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আস্থা হারাতে শুরু করেছে। তিনি স্পষ্ট করে ঘোষণা দেন—যেই হোক চোর, বাটপার, চাঁদাবাজ বা হুমকিদাতা, তাদের নাম-পরিচয়সহ তালিকা প্রকাশ করা হবে। আর দেশের কোথাও শেখ হাসিনার মতো আর কাউকে একনায়ক হয়ে উঠতে দেওয়া হবে না।

শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে পঞ্চগড় সরকারি অডিটোরিয়ামে এনসিপির পঞ্চগড় জেলা শাখা আয়োজিত বিচার, সংস্কার গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সংবিধান’ শীর্ষক কর্মশালা ও সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সারজিস আলম এসব কথা বলেন।

বিএনপির হুমকির অভিযোগ

সারজিস আলম অভিযোগ করে বলেন, পঞ্চগড়ের বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়নে এনসিপির নতুন কর্মীদের বিএনপির নেতাকর্মীরা হুমকি দিচ্ছেন। বিশেষ করে দেবীগঞ্জ উপজেলার শালডাঙ্গা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান, বিএনপি সমর্থিত ফরিদুল ইসলাম সম্প্রতি এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারীর বাড়িতে গিয়ে তাকে এবং তার বাবাকে প্রকাশ্যে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছেন। তার মতে, এই ঘটনাই প্রমাণ করে—বাংলাদেশের রাজনীতির স্থিতিশীলতা ভয়ংকর হুমকির মুখে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনীতি নিষিদ্ধ করার আহ্বান

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা ও তার ছাত্রলীগ যেটা করতে পারেনি, সেটি আজ বিএনপির ছাত্রদল শুরু করেছে—স্কুল পর্যায়ে কমিটি গঠন। সারজিস আলম স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আমরা কোনোভাবেই স্কুল-কলেজে রাজনীতির নামে নোংরা চর্চা ঢুকতে দেব না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কলুষিত করার যেকোনো চেষ্টা আমরা সর্বাত্মকভাবে প্রতিরোধ করব।”

প্রতিপক্ষ নয়, প্রতিযোগিতা ভালো কাজের

তার ভাষায়, এনসিপির প্রতিপক্ষ কোনো রাজনৈতিক দল নয়। বিএনপি কিংবা অন্য কোনো দল যদি ভালো কাজ করে, তবে তাদের গলায় মালা পরিয়ে সম্মান জানানো হবে। কিন্তু কোনো অপকর্ম হলে তা প্রতিরোধ করা হবে যে কোনো মূল্যে। তিনি বলেন, যে অপকর্মে

অতিষ্ঠ হয়ে জনগণ গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়েছে, সেই ধরনের অপচেষ্টা আর সহ্য করা হবে না।”

স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার দাবি

সারজিস আলম দেশের নিয়োগ পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি পরীক্ষা—প্রিলিমিনারি, রিটেন, ভাইভা—সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় হতে হবে এবং নিয়োগ দিতে হবে মেধার ভিত্তিতে। আমার নিজের পরিবারের কেউ যদি মেধার পরীক্ষায় টিকতে না পারে, তবে তার কোনো প্রয়োজন নেই।”
তিনি অভিযোগ করেন, বহু বছর ধরে অযোগ্যরা সুপারিশের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সিস্টেম দখল করেছে, যার কারণে দেশ ধ্বংসের পথে গেছে। আগামীতে যদি একই অবস্থা বজায় থাকে, তাহলে বাংলাদেশের প্রকৃত পরিবর্তন কখনো আসবে না।

দলীয় নেতাদের সতর্কতা

তিনি এনসিপি নেতাদের উদ্দেশে কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, কোনোভাবেই সুপারিশ করবেন না, অন্য কারও সুপারিশও মেনে নেবেন না। যদি এমন কিছু হয়, তবে তা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করতে হবে।

ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের ডাক

সারজিস আলম বলেন, আমরা কারও সঙ্গে অযথা বিরোধে যেতে চাই না। যে দল হাত বাড়াবে, আমরা তাদের সঙ্গে হাত মিলাব। তবে যদি কোনো পক্ষ পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া শুরু করে, তারা যদি ১০০ জন হয় আর আপনারা ১০ জন হন, তবুও ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। নইলে একদিন এই অন্যায়-অপরাধ থেকে শুরু হবে গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড। আর এই সুযোগ কাউকেই দেওয়া হবে না।”