সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দাবি মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রীর: ভারতকে দুই মাসের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১০:১৩:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ১৮২ Time View

37108ef77ba296b1cd143f757e362ba2 68bba29ce86e1

37108ef77ba296b1cd143f757e362ba2 68bba29ce86e1

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ভূরাজনীতিতে ক্রমশই উত্তেজনা বাড়ছে। বিশেষ করে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের বর্ধিত জ্বালানি বাণিজ্য যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। এমন প্রেক্ষাপটে মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তার দাবি, ভারত সর্বোচ্চ দুই মাসের মধ্যেই রাশিয়ার জ্বালানি কেনা বন্ধ করবে এবং শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ক্ষমা চেয়ে নতুন বাণিজ্য চুক্তির টেবিলে বসতে বাধ্য হবে।

ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে লুটনিক বলেন, আমার দৃঢ় বিশ্বাস, এক বা দুই মাসের মধ্যে ভারত আলোচনার টেবিলে ফিরবে। তারা বলবে—আমরা দুঃখিত, আমাদের ভুল হয়েছে, এখন আমরা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নতুন করে চুক্তি করতে চাই।”

শুল্কের কঠোর হুমকি

মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী আরও সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যদি ভারত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সমর্থন না জানায় এবং রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করবে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি নির্ভর ভারতীয় শিল্পখাত মারাত্মক সংকটে পড়তে পারে। বিশেষত টেক্সটাইল, আইটি পণ্য, ফার্মাসিউটিক্যালস এবং কৃষিপণ্যের মতো সেক্টরগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

ট্রাম্পের ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে লেখেন, মনে হচ্ছে আমরা ভারত রাশিয়াকে গভীর অন্ধকার চীনের কাছে হারিয়েছি। আমি তিন দেশেরই সফলতা কামনা করি।”
ট্রাম্পের এই মন্তব্য মূলত ইঙ্গিত করে যে, ওয়াশিংটন এখন ভারতকে এক ধরনের সতর্কবার্তা দিচ্ছে—চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ালে তার বড় মাশুল গুনতে হবে।

ভারত নিয়ে ‘কঠোর’ সুর

ট্রাম্পের পোস্টের পরপরই লুটনিক ভারত প্রসঙ্গে আরও তীব্র মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ভারতের বর্তমান অবস্থান আসলে শুধুই আস্ফালন। সবচেয়ে বড় ক্রেতা দেশের সঙ্গে বিরোধে জড়ানো হয়তো রাজনৈতিকভাবে দারুণ শোনায়।

কিন্তু বাস্তবে ব্যবসা বাঁচাতে হলে ভারতকেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করতে হবে।”

তিনি আরও যোগ করেন, ভারত যদি তাদের বাজারকে উন্মুক্ত না করে, রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ না করে এবং ব্রিকস জোট থেকেও আলাদা না হয়, তাহলে সেটা তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। তারা চাইলে রাশিয়া চীনের সঙ্গে নতুন মেলবন্ধন গড়ুক। কিন্তু যদি তা ব্যর্থ হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ডলারকেই সমর্থন জানাতে হবে—কারণ আমেরিকাই তাদের সবচেয়ে বড় গ্রাহক। অন্যথায় ভারতকে প্রস্তুত থাকতে হবে ৫০ শতাংশ শুল্ক দেওয়ার জন্য। তখন দেখা যাবে, এই লড়াই আসলে কতটা দীর্ঘস্থায়ী হয়।”

বিশ্লেষণ

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ওয়াশিংটন ভারতের ওপর চাপ বাড়াতে চাইছে। বর্তমানে ভারত বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি এবং রাশিয়ার সস্তা জ্বালানির ওপর তাদের নির্ভরশীলতা অনেক বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ভারতকে পুরোপুরি চীনের দিকে ঠেলে দেওয়া কৌশলগতভাবে বিপজ্জনক হলেও, ওয়াশিংটন চাইছে নয়াদিল্লিকে এক ধরনের সীমারেখা’ বুঝিয়ে দিতে।

এখন প্রশ্ন হলো—ভারত কি সত্যিই দুই মাসের মধ্যে মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রীর ভবিষ্যদ্বাণীর মতো ক্ষমা চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তিতে বসবে, নাকি তারা চীন-রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে ভিন্ন এক মেরু গঠনের পথে হাঁটবে?

সূত্র: ব্লুমবার্গ

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

দাবি মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রীর: ভারতকে দুই মাসের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে

Update Time : ১০:১৩:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

37108ef77ba296b1cd143f757e362ba2 68bba29ce86e1

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ভূরাজনীতিতে ক্রমশই উত্তেজনা বাড়ছে। বিশেষ করে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের বর্ধিত জ্বালানি বাণিজ্য যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। এমন প্রেক্ষাপটে মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তার দাবি, ভারত সর্বোচ্চ দুই মাসের মধ্যেই রাশিয়ার জ্বালানি কেনা বন্ধ করবে এবং শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ক্ষমা চেয়ে নতুন বাণিজ্য চুক্তির টেবিলে বসতে বাধ্য হবে।

ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে লুটনিক বলেন, আমার দৃঢ় বিশ্বাস, এক বা দুই মাসের মধ্যে ভারত আলোচনার টেবিলে ফিরবে। তারা বলবে—আমরা দুঃখিত, আমাদের ভুল হয়েছে, এখন আমরা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নতুন করে চুক্তি করতে চাই।”

শুল্কের কঠোর হুমকি

মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী আরও সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যদি ভারত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সমর্থন না জানায় এবং রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করবে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি নির্ভর ভারতীয় শিল্পখাত মারাত্মক সংকটে পড়তে পারে। বিশেষত টেক্সটাইল, আইটি পণ্য, ফার্মাসিউটিক্যালস এবং কৃষিপণ্যের মতো সেক্টরগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

ট্রাম্পের ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে লেখেন, মনে হচ্ছে আমরা ভারত রাশিয়াকে গভীর অন্ধকার চীনের কাছে হারিয়েছি। আমি তিন দেশেরই সফলতা কামনা করি।”
ট্রাম্পের এই মন্তব্য মূলত ইঙ্গিত করে যে, ওয়াশিংটন এখন ভারতকে এক ধরনের সতর্কবার্তা দিচ্ছে—চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ালে তার বড় মাশুল গুনতে হবে।

ভারত নিয়ে ‘কঠোর’ সুর

ট্রাম্পের পোস্টের পরপরই লুটনিক ভারত প্রসঙ্গে আরও তীব্র মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ভারতের বর্তমান অবস্থান আসলে শুধুই আস্ফালন। সবচেয়ে বড় ক্রেতা দেশের সঙ্গে বিরোধে জড়ানো হয়তো রাজনৈতিকভাবে দারুণ

শোনায়। কিন্তু বাস্তবে ব্যবসা বাঁচাতে হলে ভারতকেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করতে হবে।”

তিনি আরও যোগ করেন, ভারত যদি তাদের বাজারকে উন্মুক্ত না করে, রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ না করে এবং ব্রিকস জোট থেকেও আলাদা না হয়, তাহলে সেটা তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। তারা চাইলে রাশিয়া চীনের সঙ্গে নতুন মেলবন্ধন গড়ুক। কিন্তু যদি তা ব্যর্থ হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ডলারকেই সমর্থন জানাতে হবে—কারণ আমেরিকাই তাদের সবচেয়ে বড় গ্রাহক। অন্যথায় ভারতকে প্রস্তুত থাকতে হবে ৫০ শতাংশ শুল্ক দেওয়ার জন্য। তখন দেখা যাবে, এই লড়াই আসলে কতটা দীর্ঘস্থায়ী হয়।”

বিশ্লেষণ

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ওয়াশিংটন ভারতের ওপর চাপ বাড়াতে চাইছে। বর্তমানে ভারত বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি এবং রাশিয়ার সস্তা জ্বালানির ওপর তাদের নির্ভরশীলতা অনেক বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ভারতকে পুরোপুরি চীনের দিকে ঠেলে দেওয়া কৌশলগতভাবে বিপজ্জনক হলেও, ওয়াশিংটন চাইছে নয়াদিল্লিকে এক ধরনের সীমারেখা’ বুঝিয়ে দিতে।

এখন প্রশ্ন হলো—ভারত কি সত্যিই দুই মাসের মধ্যে মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রীর ভবিষ্যদ্বাণীর মতো ক্ষমা চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তিতে বসবে, নাকি তারা চীন-রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে ভিন্ন এক মেরু গঠনের পথে হাঁটবে?

সূত্র: ব্লুমবার্গ