সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এস আলম ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংকট: “একজন এস আলমের কাছে হেরে গেল বাংলাদেশ”

বিল্লাল হোসেন
  • Update Time : ১২:২৬:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ১৭৮ Time View

resize 600x315x1x0 image 156891 1737339651

 

resize 600x315x1x0 image 156891 1737339651

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে এস আলম গ্রুপের ঋণ কেলেঙ্কারি দেশের অর্থনীতির জন্য এক কালো অধ্যায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি শুধু ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা ও জনগণের আস্থাকেই ক্ষতিগ্রস্ত করেনি, বরং জাতীয় অর্থনীতির জন্যও এক বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠেছে।

ঋণের পরিমাণ বেনামী লেনদেন

এস আলম গ্রুপের নামে সরাসরি ঋণ রয়েছে প্রায় ৯২,৬৭৭ কোটি টাকা, আর বেনামী প্রতিষ্ঠানের নামে নেওয়া ঋণের পরিমাণ প্রায় ৯৭,৪৮৬ কোটি টাকা। এছাড়া ভুয়া প্রতিষ্ঠান ও পরোক্ষ সুবিধাভোগীদের মাধ্যমে নেওয়া ঋণের পরিমাণ প্রায় ৩৪,৮৬৭ কোটি টাকা। এই বিপুল পরিমাণ অর্থের বেশিরভাগই বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এস আলম গ্রুপের ঋণ কেলেঙ্কারি দেশের ব্যাংকিং খাতে এক বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি করেছে। এই বিপুল পরিমাণ ঋণ খেলাপির কারণে ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকটে পড়েছে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়েছে। এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে অর্থ ফেরত পাওয়ার চেষ্টা চলছে, তবে এই প্রক্রিয়া দীর্ঘ এবং জটিল হতে পারে।

ব্যাংক খাতে সংকট

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বেসরকারি ব্যাংক ছিল। ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর ব্যাংকটি থেকে নামে-বেনামে ও স্বার্থসংশ্লিষ্টদের নামে অন্তত ৫০ হাজার কোটি টাকা লুট করে এস আলম গ্রুপ। ঋণ হিসেবে নেওয়া এই অর্থ আর ফেরত না আসায় দীর্ঘ সময় ধরে তারল্য সংকটে ভুগছে দেশের অন্যতম বড় এই ব্যাংক। (Prothomalo)

 আইনি পদক্ষেপ তদন্ত

বাংলাদেশ ব্যাংক, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), সিআইডি ও এনবিআরের যৌথ অনুসন্ধানে এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। এস আলমের প্রাক্তন ব্যক্তিগত সহকারী পিএস আকিজ উদ্দিন এই কেলেঙ্কারির সাথে সরাসরি জড়িত ছিলেন। ইসলামী ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) পদে বসার পর তার ও পরিবারের নামে শতাধিক বেনামী অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছিল। এই অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ১,২৬৬ কোটি টাকা অস্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে।

সরকারের ভূমিকা ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ

সরকার এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এস আলম গ্রুপের প্রভাব থাকা ইসলামী ব্যাংকগুলোকে একদিনে ৩৫ হাজার কোটি টাকা তারল্য সহায়তা দিয়েছে। (News Bangla 24) তবে, এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ ও অর্থ ফেরত পাওয়ার জন্য সরকারের কার্যকর ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি।

এস আলম গ্রুপের ঋণ কেলেঙ্কারি বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দুর্নীতি হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। এই ধরনের লুট ও অর্থপাচারের কারণে সাধারণ আমানতকারীরা ঝুঁকির মুখে পড়েছেন। বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা ও জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে স্বচ্ছ ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

বিল্লাল হোসেন

বিল্লাল হোসেন, একজন প্রজ্ঞাবান পেশাজীবী, যিনি গণিতের ওপর স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং ব্যাংকার, অর্থনীতিবিদ, ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিশেষজ্ঞ হিসেবে একটি সমৃদ্ধ ও বহুমুখী ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন। তার আর্থিক খাতে যাত্রা তাকে নেতৃত্বের ভূমিকায় নিয়ে গেছে, বিশেষ করে সৌদি আরবের আল-রাজি ব্যাংকিং Inc. এবং ব্যাংক-আল-বিলাদে বিদেশী সম্পর্ক ও করেসপন্ডেন্ট মেইন্টেনেন্স অফিসার হিসেবে। প্রথাগত অর্থনীতির গণ্ডির বাইরে, বিল্লাল একজন প্রখ্যাত লেখক ও বিশ্লেষক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন, বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টালে মননশীল কলাম ও গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করে। তার দক্ষতা বিস্তৃত বিষয় জুড়ে রয়েছে, যেমন অর্থনীতির জটিলতা, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, প্রবাসী শ্রমিকদের দুঃখ-কষ্ট, রেমিটেন্স, রিজার্ভ এবং অন্যান্য সম্পর্কিত দিক। বিল্লাল তার লেখায় একটি অনন্য বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসেন, যা ব্যাংকিং ক্যারিয়ারে অর্জিত বাস্তব জ্ঞানকে একত্রিত করে একাডেমিক কঠোরতার সাথে। তার প্রবন্ধগুলো শুধুমাত্র জটিল বিষয়গুলির উপর গভীর বোঝাপড়ার প্রতিফলন নয়, বরং পাঠকদের জন্য জ্ঞানপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে, যা তত্ত্ব ও বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে। বিল্লাল হোসেনের অবদান তার প্রতিশ্রুতি প্রদর্শন করে যে, তিনি আমাদের আন্তঃসংযুক্ত বিশ্বের জটিলতাগুলি উন্মোচন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের একটি বিস্তৃত এবং আরও সূক্ষ্ম বোঝাপড়ার দিকে মূল্যবান অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে।

এস আলম ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংকট: “একজন এস আলমের কাছে হেরে গেল বাংলাদেশ”

Update Time : ১২:২৬:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

 

resize 600x315x1x0 image 156891 1737339651

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে এস আলম গ্রুপের ঋণ কেলেঙ্কারি দেশের অর্থনীতির জন্য এক কালো অধ্যায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি শুধু ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা ও জনগণের আস্থাকেই ক্ষতিগ্রস্ত করেনি, বরং জাতীয় অর্থনীতির জন্যও এক বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠেছে।

ঋণের পরিমাণ বেনামী লেনদেন

এস আলম গ্রুপের নামে সরাসরি ঋণ রয়েছে প্রায় ৯২,৬৭৭ কোটি টাকা, আর বেনামী প্রতিষ্ঠানের নামে নেওয়া ঋণের পরিমাণ প্রায় ৯৭,৪৮৬ কোটি টাকা। এছাড়া ভুয়া প্রতিষ্ঠান ও পরোক্ষ সুবিধাভোগীদের মাধ্যমে নেওয়া ঋণের পরিমাণ প্রায় ৩৪,৮৬৭ কোটি টাকা। এই বিপুল পরিমাণ অর্থের বেশিরভাগই বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এস আলম গ্রুপের ঋণ কেলেঙ্কারি দেশের ব্যাংকিং খাতে এক বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি করেছে। এই বিপুল পরিমাণ ঋণ খেলাপির কারণে ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকটে পড়েছে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়েছে। এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে অর্থ ফেরত পাওয়ার চেষ্টা চলছে, তবে এই প্রক্রিয়া দীর্ঘ এবং জটিল হতে পারে।

ব্যাংক খাতে সংকট

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বেসরকারি ব্যাংক ছিল। ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর ব্যাংকটি থেকে নামে-বেনামে ও স্বার্থসংশ্লিষ্টদের নামে অন্তত ৫০ হাজার কোটি টাকা লুট করে এস আলম গ্রুপ। ঋণ হিসেবে নেওয়া এই অর্থ আর ফেরত না আসায় দীর্ঘ সময় ধরে তারল্য সংকটে ভুগছে দেশের অন্যতম বড় এই ব্যাংক। (Prothomalo)

 আইনি পদক্ষেপ তদন্ত

বাংলাদেশ ব্যাংক, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), সিআইডি ও এনবিআরের যৌথ অনুসন্ধানে এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। এস আলমের প্রাক্তন ব্যক্তিগত সহকারী পিএস আকিজ উদ্দিন এই কেলেঙ্কারির সাথে সরাসরি জড়িত ছিলেন। ইসলামী ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) পদে বসার পর তার ও পরিবারের নামে শতাধিক বেনামী অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছিল। এই অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ১,২৬৬ কোটি টাকা অস্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে।

সরকারের ভূমিকা ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ

সরকার এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এস আলম গ্রুপের প্রভাব থাকা ইসলামী ব্যাংকগুলোকে একদিনে ৩৫ হাজার কোটি টাকা তারল্য সহায়তা দিয়েছে। (News Bangla 24) তবে, এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ ও অর্থ ফেরত পাওয়ার জন্য সরকারের কার্যকর ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি।

এস আলম গ্রুপের ঋণ কেলেঙ্কারি বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দুর্নীতি হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। এই ধরনের লুট ও অর্থপাচারের কারণে সাধারণ আমানতকারীরা ঝুঁকির মুখে পড়েছেন। বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা ও জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে স্বচ্ছ ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে।