এস আলম ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংকট: “একজন এস আলমের কাছে হেরে গেল বাংলাদেশ”
- Update Time : ১২:২৬:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / ১৭৮ Time View

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে এস আলম গ্রুপের ঋণ কেলেঙ্কারি দেশের অর্থনীতির জন্য এক কালো অধ্যায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি শুধু ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা ও জনগণের আস্থাকেই ক্ষতিগ্রস্ত করেনি, বরং জাতীয় অর্থনীতির জন্যও এক বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠেছে।
ঋণের পরিমাণ ও বেনামী লেনদেন
এস আলম গ্রুপের নামে সরাসরি ঋণ রয়েছে প্রায় ৯২,৬৭৭ কোটি টাকা, আর বেনামী প্রতিষ্ঠানের নামে নেওয়া ঋণের পরিমাণ প্রায় ৯৭,৪৮৬ কোটি টাকা। এছাড়া ভুয়া প্রতিষ্ঠান ও পরোক্ষ সুবিধাভোগীদের মাধ্যমে নেওয়া ঋণের পরিমাণ প্রায় ৩৪,৮৬৭ কোটি টাকা। এই বিপুল পরিমাণ অর্থের বেশিরভাগই বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এস আলম গ্রুপের ঋণ কেলেঙ্কারি দেশের ব্যাংকিং খাতে এক বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি করেছে। এই বিপুল পরিমাণ ঋণ খেলাপির কারণে ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকটে পড়েছে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়েছে। এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে অর্থ ফেরত পাওয়ার চেষ্টা চলছে, তবে এই প্রক্রিয়া দীর্ঘ এবং জটিল হতে পারে।
ব্যাংক খাতে সংকট
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বেসরকারি ব্যাংক ছিল। ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর ব্যাংকটি থেকে নামে-বেনামে ও স্বার্থসংশ্লিষ্টদের নামে অন্তত ৫০ হাজার কোটি টাকা লুট করে এস আলম গ্রুপ। ঋণ হিসেবে নেওয়া এই অর্থ আর ফেরত না আসায় দীর্ঘ সময় ধরে তারল্য সংকটে ভুগছে দেশের অন্যতম বড় এই ব্যাংক। (Prothomalo)
আইনি পদক্ষেপ ও তদন্ত
বাংলাদেশ ব্যাংক, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), সিআইডি ও এনবিআরের যৌথ অনুসন্ধানে এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। এস আলমের প্রাক্তন ব্যক্তিগত সহকারী পিএস আকিজ উদ্দিন এই কেলেঙ্কারির সাথে সরাসরি জড়িত ছিলেন। ইসলামী ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) পদে বসার পর তার ও পরিবারের নামে শতাধিক বেনামী অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছিল। এই অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ১,২৬৬ কোটি টাকা অস্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে।
সরকারের ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ
সরকার এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এস আলম গ্রুপের প্রভাব থাকা ইসলামী ব্যাংকগুলোকে একদিনে ৩৫ হাজার কোটি টাকা তারল্য সহায়তা দিয়েছে। (News Bangla 24) তবে, এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ ও অর্থ ফেরত পাওয়ার জন্য সরকারের কার্যকর ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি।
এস আলম গ্রুপের ঋণ কেলেঙ্কারি বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দুর্নীতি হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। এই ধরনের লুট ও অর্থপাচারের কারণে সাধারণ আমানতকারীরা ঝুঁকির মুখে পড়েছেন। বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা ও জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে স্বচ্ছ ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে।










