২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা : তারেক রহমান-বাবরের খালাস বহাল রাখল আপিল বিভাগ
- Update Time : ০২:৪৮:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / ১৯৩ Time View

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে সংঘটিত ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ একাধিক আসামিকে খালাস দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া ঐতিহাসিক রায় বহাল রেখেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগ। দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত-সমালোচিত এই মামলার রায় ঘিরে দেশব্যাপী ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছিল। অবশেষে বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের আপিল বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল খারিজ করে এই রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে হাইকোর্টের পূর্ববর্তী রায় বহাল থাকলেও কিছু অংশ সংশোধন ও প্রত্যাহার করে পর্যবেক্ষণ যুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মূলত হাইকোর্টের খালাসাদেশ কার্যকর থাকে এবং মামলার দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় নতুন দিক উন্মোচিত হয়। আদালত জানায়, এই মামলায় তদন্ত ও অভিযোগপত্র প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু ত্রুটি ও প্রশ্নবিদ্ধ দিক রয়েছে, যা রায় ঘোষণার সময় পর্যবেক্ষণ আকারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে গত ২১ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলের ওপর দীর্ঘ শুনানি শেষে রায়ের জন্য ৪ সেপ্টেম্বর তারিখ ধার্য করা হয়। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আজ সকাল সাড়ে ১০টার কিছু আগে বিচারপতিরা এজলাসে আসন গ্রহণ করেন। সকাল ১০টা ৫ মিনিটে প্রধান বিচারপতি রায় ঘোষণা শুরু করেন এবং মাত্র ১৩ মিনিটের মধ্যেই রায় পাঠ শেষ করেন। এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ রায় ঘোষণার সময় আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবী, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যায়।
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশে এই গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। ভয়াবহ ওই হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন এবং শতাধিক নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন। রাজনৈতিক ইতিহাসে এই হামলাকে বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও নিরাপত্তার জন্য একটি ভয়াবহ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হয়।
মামলার দীর্ঘ তদন্ত প্রক্রিয়ায় বহুবার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন, সাক্ষ্যগ্রহণে বিলম্ব এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এই মামলাটি বছরের পর বছর ধরে আলোচনায় ছিল। হাইকোর্টের পূর্ববর্তী রায়ে তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি বলে তাদের খালাস দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপক্ষ এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে, যা আজ আপিল বিভাগে খারিজ হয়ে যায়।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দেবে। একদিকে এটি বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে দেখা হতে পারে, অন্যদিকে নিহতদের পরিবার ও আওয়ামী লীগের মধ্যে হতাশার সুর আরও গভীর হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এত বছরের তদন্ত ও বিচারিক লড়াইয়ের পর এই রায় দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।
এই মামলার রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে আবারও প্রমাণ হলো যে বাংলাদেশে উচ্চ আদালতের রায় রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হলেও আদালত নিজস্ব যুক্তি, সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং আইনগত কাঠামোর ওপর ভিত্তি করেই সিদ্ধান্ত দেয়। এখন দেশের রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষ রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে, যাতে আদালতের পর্যবেক্ষণ বিস্তারিতভাবে জানা যায় এবং এই মামলার ইতিহাস নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়।










