সময়: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদি যুবরাজ যেন সিনেমার রহস্যময় চরিত্র!

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৩:২৫:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ২৫৭ Time View

soudi siliman 2509040823

soudi siliman 2509040823

বিশ্ব রাজনীতির অঙ্গনে কিছু নেতার উত্থান এমনভাবে ঘটে যে তা যেন কোনো থ্রিলার সিনেমার কাহিনি। সৌদি আরবের বর্তমান ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান—যাকে বিশ্বমঞ্চে সাধারণত এমবিএস নামে পরিচিত—এর রাজনৈতিক উত্থান, ক্ষমতার শীর্ষে একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা এবং বিরোধীদের নির্মমভাবে সরিয়ে দেওয়ার কৌশল একদিকে আধুনিকতার ছদ্মাবরণে নতুন সৌদি আরবের চিত্র আঁকে, অন্যদিকে তুলে ধরে অস্বচ্ছ, রহস্যময় ও শাসনকেন্দ্রিক এক সাম্রাজ্যের রূপরেখা।

ক্ষমতার দরজা খোলার শুরু

২০১৫ সালে বাদশাহ সালমান ক্ষমতা গ্রহণের পর তার অল্পবয়সী ছেলে মোহাম্মদ বিন সালমানকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্স হিসেবে নিয়োগ দেন। তখন মাত্র ২৯ বছর বয়সী এই তরুণ প্রিন্স আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রায় অচেনা এক নাম। কিন্তু খুব দ্রুতই তিনি সৌদি রাজনীতিতে কেন্দ্রীয় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হন। লেখক ডেভিড বি. ওটাও তার গবেষণায় উল্লেখ করেছেন, এমবিএস তার বাবাকে প্রভাবিত করে রাজপরিবারের ঐতিহ্যবাহী ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট করেন। এমনকি বাদশাহ সালমানকে পরিবারের অনেক সদস্য ও তার মায়ের থেকেও আলাদা করে দেন—যা সৌদি রাজনীতিতে নজিরবিহীন ঘটনা।

সিংহাসনের পথে বাধা সরানোর নাটকীয় অভিযান

২০১৭ সালে এমবিএস তার বড় প্রতিদ্বন্দ্বী ও তৎকালীন ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন নায়েফকে নাটকীয়ভাবে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেন। মক্কার সাফা প্রাসাদে বৈঠকের নামে ডেকে তাকে কার্যত গৃহবন্দী করা হয়। চিকিৎসাজনিত জটিলতা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের ফলে নায়েফ বাধ্য হন পদত্যাগ করতে। পরবর্তীতে তাকে জেদ্দার প্রাসাদে স্থায়ীভাবে বন্দী রাখা হয়। নায়েফের বিরুদ্ধে মাদকাসক্তি ও প্রশাসনিক অযোগ্যতার অভিযোগ আনা হলেও তা কখনোই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত হয়নি। এই পদক্ষেপ সৌদি আরবে ক্ষমতার উত্তরাধিকারের প্রচলিত রীতি ভেঙে এমবিএসকে সিংহাসনের একমাত্র উত্তরসূরি করে তোলে।

যুদ্ধনীতি ও আঞ্চলিক কূটনীতি

প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরই ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেন এমবিএস। প্রথমে তাকে একজন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ও কৌশলী নেতা হিসেবে দেখা হলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই অভিযান মানবিক বিপর্যয়ের প্রতীক হয়ে ওঠে। হাজার হাজার বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি, আন্তর্জাতিক সমালোচনা এবং সৌদি আরবের কূটনৈতিক ভাবমূর্তির অবনতি এমবিএসের যুদ্ধনীতিকে কঠোর সমালোচনার মুখে ফেলে।

style="text-align: justify;">দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের আড়ালে ক্ষমতার কুক্ষিগতকরণ

২০১৭ সালেই রিৎজ-কার্লটন হোটেলকে কার্যত একটি বিলাসবহুল কারাগারে রূপান্তর করা হয়। এখানে অন্তরীণ করা হয় প্রায় ৩৮০ জন প্রিন্স, ব্যবসায়ী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে। সরকারি ভাষ্যে এটি দুর্নীতিবিরোধী অভিযান হলেও বাস্তবে এটি ছিল ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ ও বিরোধীদের নিয়ন্ত্রণে রাখার এক অভিনব কৌশল। মুক্তি পেতে অনেক প্রিন্স ও ব্যবসায়ীকে বিপুল অঙ্কের অর্থ ও সম্পদ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে হয়। একই বছরে লেবাননের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরিকেও সৌদি সফরের সময় পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ ওঠে—যা মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিতে নজিরবিহীন এক ঘটনা।

সংস্কারের আড়ালে শাসনব্যবস্থার রূপান্তর

এমবিএস নারী অধিকার, সামাজিক উদারীকরণ ও বিনোদন শিল্পের প্রসারে কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিলেও মানবাধিকার সংগঠনগুলো দাবি করে যে এসব সংস্কার মূলত অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য আনতে এবং তেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে নেওয়া। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও সিপিজে’র (CPJ) প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদিতে শত শত মানুষ এখনও বিচার ছাড়াই বন্দী রয়েছেন, প্রায় ১,০০০ নাগরিকের ওপর রয়েছে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা। সৌদি রাজপরিবারের ঐতিহ্যবাহী শুরা বা পরামর্শ প্রথাকে কার্যত অচল করে এমবিএস সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে পুরোপুরি কেন্দ্রীভূত করেছেন।

ব্যক্তিগত জীবন: বিলাসিতা ও বিতর্ক

রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষের পাশাপাশি এমবিএসের ব্যক্তিগত জীবনও সমানভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ক্রাউন প্রিন্স হওয়ার আগেই তিনি প্রায় ৫০ কোটি ডলারে একটি বিলাসবহুল ইয়ট এবং ৪৫ কোটি ডলারে লিওনার্দো দা ভিঞ্চির বিখ্যাত চিত্রকর্ম ‘স্যালভেটর মুন্ডি’ কেনেন। এই শিল্পকর্মটি পরবর্তীতে তার ব্যক্তিগত ইয়টে প্রদর্শিত হয়, যদিও তিনি বলেছিলেন এটি আবুধাবির একটি জাদুঘরে দেওয়া হবে।

আধুনিকীকরণ বনাম লৌহশাসন

তরুণ সৌদিদের মধ্যে বিনোদন, প্রযুক্তি ও সংস্কারপন্থী ভাবধারা প্রচারের মাধ্যমে এমবিএস নতুন প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। তবে তার কঠোর শাসননীতি, ভিন্নমত দমনের নীতি এবং সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা তাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক রহস্যময়, বিতর্কিত এবং সমালোচিত নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিশ্লেষকরা মনে করেন, এমবিএস একদিকে সৌদি আরবকে আধুনিকায়নের পথে নিয়ে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, অন্যদিকে তিনি এমন এক শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলেছেন, যেখানে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ ও বিরোধীদের নির্মম দমন রাজনীতির নতুন স্বাভাবিকতায় পরিণত হয়েছে। তার গল্প তাই বাস্তবের রাজনীতি হলেও সিনেমার মতোই নাটকীয় ও রহস্যময়।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সৌদি যুবরাজ যেন সিনেমার রহস্যময় চরিত্র!

Update Time : ০৩:২৫:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

soudi siliman 2509040823

বিশ্ব রাজনীতির অঙ্গনে কিছু নেতার উত্থান এমনভাবে ঘটে যে তা যেন কোনো থ্রিলার সিনেমার কাহিনি। সৌদি আরবের বর্তমান ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান—যাকে বিশ্বমঞ্চে সাধারণত এমবিএস নামে পরিচিত—এর রাজনৈতিক উত্থান, ক্ষমতার শীর্ষে একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা এবং বিরোধীদের নির্মমভাবে সরিয়ে দেওয়ার কৌশল একদিকে আধুনিকতার ছদ্মাবরণে নতুন সৌদি আরবের চিত্র আঁকে, অন্যদিকে তুলে ধরে অস্বচ্ছ, রহস্যময় ও শাসনকেন্দ্রিক এক সাম্রাজ্যের রূপরেখা।

ক্ষমতার দরজা খোলার শুরু

২০১৫ সালে বাদশাহ সালমান ক্ষমতা গ্রহণের পর তার অল্পবয়সী ছেলে মোহাম্মদ বিন সালমানকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্স হিসেবে নিয়োগ দেন। তখন মাত্র ২৯ বছর বয়সী এই তরুণ প্রিন্স আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রায় অচেনা এক নাম। কিন্তু খুব দ্রুতই তিনি সৌদি রাজনীতিতে কেন্দ্রীয় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হন। লেখক ডেভিড বি. ওটাও তার গবেষণায় উল্লেখ করেছেন, এমবিএস তার বাবাকে প্রভাবিত করে রাজপরিবারের ঐতিহ্যবাহী ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট করেন। এমনকি বাদশাহ সালমানকে পরিবারের অনেক সদস্য ও তার মায়ের থেকেও আলাদা করে দেন—যা সৌদি রাজনীতিতে নজিরবিহীন ঘটনা।

সিংহাসনের পথে বাধা সরানোর নাটকীয় অভিযান

২০১৭ সালে এমবিএস তার বড় প্রতিদ্বন্দ্বী ও তৎকালীন ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন নায়েফকে নাটকীয়ভাবে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেন। মক্কার সাফা প্রাসাদে বৈঠকের নামে ডেকে তাকে কার্যত গৃহবন্দী করা হয়। চিকিৎসাজনিত জটিলতা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের ফলে নায়েফ বাধ্য হন পদত্যাগ করতে। পরবর্তীতে তাকে জেদ্দার প্রাসাদে স্থায়ীভাবে বন্দী রাখা হয়। নায়েফের বিরুদ্ধে মাদকাসক্তি ও প্রশাসনিক অযোগ্যতার অভিযোগ আনা হলেও তা কখনোই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত হয়নি। এই পদক্ষেপ সৌদি আরবে ক্ষমতার উত্তরাধিকারের প্রচলিত রীতি ভেঙে এমবিএসকে সিংহাসনের একমাত্র উত্তরসূরি করে তোলে।

যুদ্ধনীতি ও আঞ্চলিক কূটনীতি

প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরই ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেন এমবিএস। প্রথমে তাকে একজন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ও কৌশলী নেতা হিসেবে দেখা হলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই অভিযান মানবিক বিপর্যয়ের প্রতীক হয়ে ওঠে। হাজার হাজার বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি, আন্তর্জাতিক সমালোচনা এবং সৌদি আরবের কূটনৈতিক ভাবমূর্তির অবনতি এমবিএসের যুদ্ধনীতিকে কঠোর সমালোচনার মুখে ফেলে।

style="text-align: justify;">দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের আড়ালে ক্ষমতার কুক্ষিগতকরণ

২০১৭ সালেই রিৎজ-কার্লটন হোটেলকে কার্যত একটি বিলাসবহুল কারাগারে রূপান্তর করা হয়। এখানে অন্তরীণ করা হয় প্রায় ৩৮০ জন প্রিন্স, ব্যবসায়ী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে। সরকারি ভাষ্যে এটি দুর্নীতিবিরোধী অভিযান হলেও বাস্তবে এটি ছিল ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ ও বিরোধীদের নিয়ন্ত্রণে রাখার এক অভিনব কৌশল। মুক্তি পেতে অনেক প্রিন্স ও ব্যবসায়ীকে বিপুল অঙ্কের অর্থ ও সম্পদ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে হয়। একই বছরে লেবাননের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরিকেও সৌদি সফরের সময় পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ ওঠে—যা মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিতে নজিরবিহীন এক ঘটনা।

সংস্কারের আড়ালে শাসনব্যবস্থার রূপান্তর

এমবিএস নারী অধিকার, সামাজিক উদারীকরণ ও বিনোদন শিল্পের প্রসারে কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিলেও মানবাধিকার সংগঠনগুলো দাবি করে যে এসব সংস্কার মূলত অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য আনতে এবং তেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে নেওয়া। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও সিপিজে’র (CPJ) প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদিতে শত শত মানুষ এখনও বিচার ছাড়াই বন্দী রয়েছেন, প্রায় ১,০০০ নাগরিকের ওপর রয়েছে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা। সৌদি রাজপরিবারের ঐতিহ্যবাহী শুরা বা পরামর্শ প্রথাকে কার্যত অচল করে এমবিএস সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে পুরোপুরি কেন্দ্রীভূত করেছেন।

ব্যক্তিগত জীবন: বিলাসিতা ও বিতর্ক

রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষের পাশাপাশি এমবিএসের ব্যক্তিগত জীবনও সমানভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ক্রাউন প্রিন্স হওয়ার আগেই তিনি প্রায় ৫০ কোটি ডলারে একটি বিলাসবহুল ইয়ট এবং ৪৫ কোটি ডলারে লিওনার্দো দা ভিঞ্চির বিখ্যাত চিত্রকর্ম ‘স্যালভেটর মুন্ডি’ কেনেন। এই শিল্পকর্মটি পরবর্তীতে তার ব্যক্তিগত ইয়টে প্রদর্শিত হয়, যদিও তিনি বলেছিলেন এটি আবুধাবির একটি জাদুঘরে দেওয়া হবে।

আধুনিকীকরণ বনাম লৌহশাসন

তরুণ সৌদিদের মধ্যে বিনোদন, প্রযুক্তি ও সংস্কারপন্থী ভাবধারা প্রচারের মাধ্যমে এমবিএস নতুন প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। তবে তার কঠোর শাসননীতি, ভিন্নমত দমনের নীতি এবং সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা তাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক রহস্যময়, বিতর্কিত এবং সমালোচিত নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিশ্লেষকরা মনে করেন, এমবিএস একদিকে সৌদি আরবকে আধুনিকায়নের পথে নিয়ে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, অন্যদিকে তিনি এমন এক শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলেছেন, যেখানে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ ও বিরোধীদের নির্মম দমন রাজনীতির নতুন স্বাভাবিকতায় পরিণত হয়েছে। তার গল্প তাই বাস্তবের রাজনীতি হলেও সিনেমার মতোই নাটকীয় ও রহস্যময়।