মন্ত্রীদের জন্য ৬০টি বিলাসবহুল গাড়ি কেনার প্রস্তাবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি, সমালোচনায় তাসনুভা জাবিন
- Update Time : ০৫:৫৮:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / ১৮৫ Time View

আগামী সরকারের মন্ত্রীদের জন্য মোট ৬০টি নতুন বিলাসবহুল গাড়ি কেনার প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। মিতসুবিশি পাজেরো কিউএক্স (২৪২৭ সিসি) মডেলের প্রতিটি গাড়ির দাম ধরা হয়েছে এক কোটি ৬৯ লাখ টাকা। এই গাড়ি কেনায় সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ১০১ কোটি ৬১ লাখ টাকা। সমালোচকরা বলছেন, দেশের চলমান অর্থনৈতিক সংকট, জনগণের কষ্ট এবং রাজনীতির অস্থিতিশীলতার মধ্যে এমন সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের কাছে অগ্রহণযোগ্য এবং বিলাসী মনোভাবের প্রতিফলন।
এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক তাসনুভা জাবিন। বৃহস্পতিবার তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে লিখেছেন, “অর্থ উপদেষ্টা কতটা কেয়ারিং আর কৃতজ্ঞ বন্ধুর প্রতি! বন্ধু মন্ত্রী হওয়ার সাথে সাথেই যাতে নতুন গাড়িতে চড়তে পারেন, তার আগাম ব্যবস্থা করে রেখেছেন।”
তিনি আরও লেখেন, “আগামী সরকারের মন্ত্রীদের জন্য ১০১ কোটি টাকার ৬০টি পাজেরো গাড়ি কেনার প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। যে গণঅভ্যুত্থানের রক্ত ও ত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে সরকার ক্ষমতায় এসেছে, সেই শহীদ-আহতদের নিরাপত্তা, ন্যূনতম সঠিক তালিকা প্রকাশ, কিংবা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার মতো কাজগুলো এখনো সম্পন্ন করতে পারেনি সরকার। অথচ মন্ত্রীদের জন্য বিলাসবহুল গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি জনগণের সঙ্গে তীব্র বৈপরীত্য তৈরি করছে।”
তাসনুভা জাবিন সরকারের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন ইমেজেরও সমালোচনা করেন। তিনি লিখেছেন, “এই সরকার নাকি ছাত্রদের সরকার! বিস্ময়ের বিষয়, সরকারের সব ব্যর্থতার দায় ভাগ হয় ছাত্রদের ঘাড়ে, কিন্তু গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব ছাত্রদের দেওয়া হয় কেবল সামান্য অংশে। অথচ ছাত্রদের রক্তে প্রতিষ্ঠিত এই সরকারের প্রথম বড় সিদ্ধান্ত হচ্ছে নিজেদের বিলাসিতা বাড়ানো।”

অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী, শুধু মন্ত্রীদের জন্যই নয়, আগামী নির্বাচনে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করবেন এমন কর্মকর্তাদের জন্যও ১৯৫টি পাজেরো গাড়ি কেনা হবে। মোট ২২০টি নতুন গাড়ি কেনার এই প্রক্রিয়ায় ব্যয় হবে প্রায় ৩৪৩ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে সরকারের নতুন গাড়ি কেনায় ব্যয় হবে আনুমানিক ৪৪৫ কোটি টাকা।
এর আগে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য ক্যামরি ও ল্যান্সার গাড়ি কেনা হয়েছিল। মন্ত্রীরা ক্যামরি গাড়ি ব্যবহার করতেন, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা ব্যবহার করতেন ল্যান্সার। বর্তমানে উপদেষ্টারা সেই গাড়িগুলো ঢাকায় ব্যবহার করছেন, আর ঢাকার বাইরে গেলে বিভিন্ন দপ্তরের জিপ গাড়ির ওপর নির্ভর করছেন। সমালোচকরা বলছেন, এসব গাড়ি এখনও কার্যকর, ফলে নতুন গাড়ি কেনার যৌক্তিকতা নেই।
সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি সমকালকে বলেন, “পরবর্তী সরকার বা মন্ত্রীরা কী গাড়ি ব্যবহার করবেন, কী গাড়ি কিনবেন; তার সিদ্ধান্ত বর্তমান সরকারের নেওয়া উচিত নয়। এটি অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নয়। বর্তমান সরকার কীভাবে জানল যে পরবর্তী মন্ত্রিসভায় ৬০ জন মন্ত্রী থাকবেন? এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও স্বচ্ছতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপে সরকারের অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দেশের অর্থনীতি বর্তমানে একদিকে বৈদেশিক মুদ্রার সংকট, অন্যদিকে রাজস্ব ঘাটতিতে জর্জরিত। এমন পরিস্থিতিতে মন্ত্রীদের জন্য বিলাসবহুল গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ণ করবে এবং নতুন সরকারের প্রতি আস্থা তৈরির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।










