সময়: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে সাঈদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা হয়’: শেখ হাসিনাসহ ৪০ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৭:৪০:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ১৩২ Time View

BeFunky collage 2025 09 03T190727572 2509031309

BeFunky collage 2025 09 03T190727572 2509031309

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে নির্যাতন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪০ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনজন সাক্ষী। বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে গিয়ে তারা এই অভিযোগ জমা দেন।

অভিযোগকারী তিন সাক্ষী হলেন মাহবুবুল আলম হাওলাদার, মাহতাব উদ্দিন এবং আলতাফ হাওলাদার। তাদের পক্ষে অভিযোগটি জমা দেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট পারভেজ হোসেন।

অভিযুক্তদের তালিকা

অভিযোগে শেখ হাসিনা ছাড়াও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম, সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ, সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, ট্রাইব্যুনালের সাবেক বিচারক বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির, পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য একেএম আউয়াল ওরফে সাইদুর রহমানসহ মোট ৪০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগের বিবরণ

অ্যাডভোকেট পারভেজ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ২০০৯ সালে স্থানীয় সাংসদ একেএম আউয়াল মাহবুবুল আলম হাওলাদারকে ডেকে এনে আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তাব দেন। মাহবুবুল এতে রাজি না হলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা তাকে তৎকালীন পাবলিক প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। নির্যাতনের একপর্যায়ে মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে তাকে সাঈদীর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালীন অপরাধে জড়িত থাকার মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করতে বাধ্য করা হয়।

পরবর্তীতে এই মামলা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন হলে মাহবুবুলকে প্রথম সাক্ষী হিসেবে আদালতে হাজির করা হয়। তখনও তাকে যাত্রাবাড়ী থানার অধীনে কথিত “সেইফ হোমে” রেখে ভয়াবহ নির্যাতনের মাধ্যমে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা হয়। অন্যান্য দুই সাক্ষী মাহতাব উদ্দিন ও আলতাফ হাওলাদারের ক্ষেত্রেও একই ধরনের নির্যাতন ও জোরপূর্বক জবানবন্দি নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তারা দাবি করেছেন, তৎকালীন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিম এই জবানবন্দি গ্রহণে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিল।

style="text-align: justify;">আগের অভিযোগ

এর আগে, ২১ আগস্ট আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে নির্যাতন, গুমের হুমকি ও জোরপূর্বক মিথ্যা সাক্ষ্যের দায়ে শেখ হাসিনাসহ ৩২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন আরেক সাক্ষী সুখরঞ্জন বালি। সেদিন তিনি একই সঙ্গে শেখ হাসিনা এবং জড়িত অন্যান্যদের বিচারের দাবি জানান।

প্রেক্ষাপট

আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী ছিলেন বাংলাদেশের একজন শীর্ষ আলেম, যাকে ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল, যা পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্ট যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তরিত করে। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শুরু থেকেই বিতর্কিত ছিল এবং দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলো একে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার ঘাটতিযুক্ত বলে সমালোচনা করেছে। সাম্প্রতিক অভিযোগগুলো আবারও ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়ার নৈতিকতা ও বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

আইনজীবী পারভেজ হোসেন বলেন, “যে কোনো বিচারপ্রক্রিয়ায় সাক্ষীকে ভয়ভীতি বা নির্যাতনের মাধ্যমে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”

এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

‘মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে সাঈদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা হয়’: শেখ হাসিনাসহ ৪০ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

Update Time : ০৭:৪০:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

BeFunky collage 2025 09 03T190727572 2509031309

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে নির্যাতন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪০ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনজন সাক্ষী। বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে গিয়ে তারা এই অভিযোগ জমা দেন।

অভিযোগকারী তিন সাক্ষী হলেন মাহবুবুল আলম হাওলাদার, মাহতাব উদ্দিন এবং আলতাফ হাওলাদার। তাদের পক্ষে অভিযোগটি জমা দেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট পারভেজ হোসেন।

অভিযুক্তদের তালিকা

অভিযোগে শেখ হাসিনা ছাড়াও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম, সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ, সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, ট্রাইব্যুনালের সাবেক বিচারক বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির, পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য একেএম আউয়াল ওরফে সাইদুর রহমানসহ মোট ৪০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগের বিবরণ

অ্যাডভোকেট পারভেজ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ২০০৯ সালে স্থানীয় সাংসদ একেএম আউয়াল মাহবুবুল আলম হাওলাদারকে ডেকে এনে আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তাব দেন। মাহবুবুল এতে রাজি না হলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা তাকে তৎকালীন পাবলিক প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। নির্যাতনের একপর্যায়ে মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে তাকে সাঈদীর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালীন অপরাধে জড়িত থাকার মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করতে বাধ্য করা হয়।

পরবর্তীতে এই মামলা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন হলে মাহবুবুলকে প্রথম সাক্ষী হিসেবে আদালতে হাজির করা হয়। তখনও তাকে যাত্রাবাড়ী থানার অধীনে কথিত “সেইফ হোমে” রেখে ভয়াবহ নির্যাতনের মাধ্যমে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা হয়। অন্যান্য দুই সাক্ষী মাহতাব উদ্দিন ও আলতাফ হাওলাদারের ক্ষেত্রেও একই ধরনের নির্যাতন ও জোরপূর্বক জবানবন্দি নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তারা দাবি করেছেন, তৎকালীন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিম এই জবানবন্দি গ্রহণে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিল।

style="text-align: justify;">আগের অভিযোগ

এর আগে, ২১ আগস্ট আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে নির্যাতন, গুমের হুমকি ও জোরপূর্বক মিথ্যা সাক্ষ্যের দায়ে শেখ হাসিনাসহ ৩২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন আরেক সাক্ষী সুখরঞ্জন বালি। সেদিন তিনি একই সঙ্গে শেখ হাসিনা এবং জড়িত অন্যান্যদের বিচারের দাবি জানান।

প্রেক্ষাপট

আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী ছিলেন বাংলাদেশের একজন শীর্ষ আলেম, যাকে ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল, যা পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্ট যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তরিত করে। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শুরু থেকেই বিতর্কিত ছিল এবং দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলো একে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার ঘাটতিযুক্ত বলে সমালোচনা করেছে। সাম্প্রতিক অভিযোগগুলো আবারও ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়ার নৈতিকতা ও বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

আইনজীবী পারভেজ হোসেন বলেন, “যে কোনো বিচারপ্রক্রিয়ায় সাক্ষীকে ভয়ভীতি বা নির্যাতনের মাধ্যমে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”

এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।