নির্বাচনের আগে আরও একাধিক সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনা: বিএনপির ড. আসাদুজ্জামান রিপন
- Update Time : ০৭:২৯:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / ১৪৬ Time View

বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই দেশে আরও একাধিক সরকার গঠনের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও দলটির অন্যতম মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপন। তিনি মনে করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দুর্বলতা, ক্ষমতার লোভ ও অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রের কারণে দেশ একটি অনিশ্চিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান’ বিষয়ক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। রিপন বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে কোনো দৃঢ়তা নেই। ক্ষমতার লোভ এবং রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানকে ব্যর্থতার মুখে ঠেলে দিয়েছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই হয়তো আমরা একাধিক সরকার পরিবর্তনের নাটক দেখতে পাব। যেমন সিনেমায় ‘বাহুবলী ওয়ান, টু, থ্রি’ সিক্যুয়েল হয়, তেমনি হয়তো দেখা যাবে ‘ইউনূস গভর্নমেন্ট ওয়ান, টু’। দেশের রাজনীতি এখন এমন এক সংকটময় সময় অতিক্রম করছে।”
গত ১৫ বছরের আওয়ামী লীগ সরকারের কঠোর সমালোচনা করে রিপন বলেন, “শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলে একটি পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছিল যেখানে জনগণকে বোঝানো হয়েছিল ক্ষমতার পরিবর্তন কোনোভাবেই সম্ভব নয়। রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতিটি স্তরে ভয় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল—হোক তা বড় ব্যবসায়ী, প্রশাসন, সেনাবাহিনী বা পুলিশ।”
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, “গত বছরের ৩০ মে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জের এক সমাবেশে আমি বলেছিলাম শেখ হাসিনা অনিবার্যভাবে পতনের দিকে যাচ্ছেন। আজ সেই বাস্তবতা প্রমাণিত হয়েছে।”
রিপনের মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। তবে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর বিএনপির সামনে দেশকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণের বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। তিনি বলেন, “শুধু ক্ষমতায় আসা নয়, দেশকে এই অচলাবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটানো এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করাই হবে সবচেয়ে বড় কাজ। বাংলাদেশ আজ ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক বিভাজন ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার মধ্যে রয়েছে। দক্ষ নেতৃত্ব ও ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমেই দেশকে রক্ষা করা সম্ভব।”
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, গণতন্ত্রকে পুনরুজ্জীবিত করতে হলে একটি শক্তিশালী, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে অবাধ নির্বাচনের আয়োজন করা জরুরি। তিনি দাবি করেন, “গত দেড় দশকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ভয়াবহ দমননীতির শিকার হয়েছে। এখন সময় এসেছে জনগণের প্রকৃত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার।”










