বিচারকাজ দ্রুত শেষ করতে তৃতীয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠনের সম্ভাবনা: আইন উপদেষ্টা
- Update Time : ০২:২১:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / ১৫০ Time View

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার লক্ষ্যে তৃতীয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠনের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেছেন, এই মামলাগুলির বিচারকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং ইতোমধ্যেই বিচার কার্যক্রম সন্তোষজনক গতিতে এগোচ্ছে।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান। আইন উপদেষ্টা বলেন, “মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলি বিচার ইতিহাসে এক অনন্য উদাহরণ। এই বিচার প্রক্রিয়াকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করার জন্য আমরা প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিচ্ছি। তৃতীয় ট্রাইব্যুনাল গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে আমরা সক্রিয়ভাবে আলোচনা করছি।”
উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের উপস্থিতি
এ সময় আইন উপদেষ্টার সঙ্গে ছিলেন গৃহায়ন, গণপূর্ত ও শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম। কর্মকর্তারা ট্রাইব্যুনালের চলমান কার্যক্রম ও অবকাঠামোগত পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত করার জন্য বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
চলমান মামলাগুলির অগ্রগতি
আইন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একাধিক মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। বেশ কিছু মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের কাজ শুরু হয়েছে, যার মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে দায়ের হওয়া মামলাগুলির সাক্ষ্যগ্রহণ প্রায় শেষ পর্যায়ে।
বর্তমানে ট্রাইব্যুনাল-১ এবং ট্রাইব্যুনাল-২-এ এসব মামলার বিচারকাজ চলছে। তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মূল ভবনের সংস্কার কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল-২ বর্তমানে টিনশেডে অস্থায়ীভাবে পরিচালিত হচ্ছে। আইন উপদেষ্টা বলেন, “বিচারপ্রক্রিয়ার গতি বাড়াতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রশাসনিক পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে।”
ন্যায়বিচার নিশ্চিতে সরকারের অঙ্গীকার
ড. আসিফ নজরুল আরও বলেন, “মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুধু ন্যায়বিচারের স্বার্থে নয়, ইতিহাসের দায়বদ্ধতার প্রতিফলন হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ। সরকার এই বিচারের গতি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।” তিনি ইঙ্গিত দেন, মামলার সংখ্যা বাড়তে থাকায় এবং বিচারকাজ দ্রুত শেষ করার প্রয়োজনীয়তার কারণে তৃতীয় ট্রাইব্যুনাল গঠনের সিদ্ধান্ত শিগগিরই বাস্তবায়িত হতে পারে।
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তৃতীয় ট্রাইব্যুনাল গঠন হলে মামলার চাপ আরও কমবে এবং বিচারপ্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত হবে। এতে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দ্রুত ন্যায়বিচার পাবে এবং দেশ মানবতাবিরোধী অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।










