বাংলাদেশ পুলিশে প্রথমবার সরাসরি এএসআই নিয়োগ: ন্যূনতম যোগ্যতা এইচএসসি, আসছে ৪ হাজার পদ
- Update Time : ০৫:৫২:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / ১৫১ Time View

বাংলাদেশ পুলিশে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই-নিরস্ত্র) পদে চার হাজার জনবল সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে দুই হাজার পদে কনস্টেবলদের পদোন্নতির মাধ্যমে এবং বাকি দুই হাজার পদে প্রথমবারের মতো সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হবে। এটি দেশের পুলিশ বাহিনীর নিয়োগ কাঠামোয় একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিয়োগের প্রক্রিয়া ও শর্ত
সরকারি প্রস্তাব অনুযায়ী, সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত এএসআই পদপ্রার্থীদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা হতে হবে এইচএসসি বা সমমান পাস। নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগেই প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে প্রশাসনিক উন্নয়ন-সংক্রান্ত সচিব কমিটির বৈঠকে প্রস্তাবটি শিগগিরই উত্থাপন করা হবে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গত জুলাইয়ের শেষ দিকে এবং অর্থ বিভাগ আগস্টে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে। সচিব কমিটির অনুমোদনের পর বিষয়টি প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে পাঠানো হবে। চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে এবং পুলিশ সদর দপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে।
প্রযুক্তিনির্ভর সেবার জন্য নতুন উদ্যোগ
নতুন এএসআই পদ যুক্ত হলে পুলিশ বাহিনীর বার্ষিক ব্যয় প্রায় ১৩৫ কোটি টাকা বাড়বে। প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে, অনলাইনে সাধারণ ডায়েরি (জিডি), মামলা দায়ের, তদন্ত এবং অন্যান্য সেবা আরও কার্যকর ও সহজ করার লক্ষ্যে এই পদগুলো সৃষ্টি করা হচ্ছে। নতুন নিয়োগপ্রাপ্তরা থানায় সরাসরি না গিয়েও নাগরিকদের অনলাইন সেবা প্রদানে সক্ষম হবেন।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ফিরোজ মিয়া বলেন, “যদি নিয়োগপ্রাপ্তরা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ হন, তাহলে পুলিশের অনলাইন সেবা ও তদন্ত কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। যোগ্য প্রার্থী স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ পেলে পুলিশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।”
পুলিশ ও প্রশাসনের মন্তব্য
পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি কাজী জিয়া উদ্দিন জানান, “অর্থ বিভাগ ইতোমধ্যেই চার হাজার এএসআই পদের অনুমোদন দিয়েছে। সচিব কমিটির বৈঠকে অনুমোদন পেলে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।”
প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব
বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশের কাঠামোতে অধিকাংশ এএসআই পদ কনস্টেবলদের পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। তবে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, সাইবার অপরাধ, প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত এবং অনলাইন সেবা প্রদানের চাহিদা বৃদ্ধির ফলে পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে সরাসরি নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে করে বাহিনীতে নতুন মেধাবী ও প্রযুক্তি-দক্ষ প্রার্থীদের অন্তর্ভুক্তির সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ পদক্ষেপকে অনেকেই বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়ন এবং পেশাদারিত্ব বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন।










