সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডাকসু নির্বাচন: হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ বহাল, বুধবার আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৫:২৭:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ১১৩ Time View

ef51b96d82ed16ff9f48546cf41d2097 68b6c184c9b37

ef51b96d82ed16ff9f48546cf41d2097 68b6c184c9b37

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ওপর হাইকোর্টের দেওয়া স্থগিতাদেশের মেয়াদ আগামীকাল বুধবার পর্যন্ত বহাল থাকবে। এ বিষয়ে আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পূর্ণাঙ্গ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব এই আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আইনজীবী শিশির মনির। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে লিখেছেন, “ডাকসু নির্বাচনে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ বহাল রয়েছে। আগামীকাল বিষয়টি ফুল কোর্টে শুনানি হবে।”

এর আগে সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে হাইকোর্টের দেওয়া স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে আবেদন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। হাতে লেখা একটি জরুরি আবেদনপত্রের শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে দেন। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নিয়মিতভাবে আপিল বিভাগে আবেদন করার নির্দেশ দেন আদালত। এর প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিয়মিত আবেদন দায়ের করলে মঙ্গলবার চেম্বার আদালত বিষয়টি পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন।

হাইকোর্টের আদেশে সোমবার বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করা হয়। বিচারপতি হাবিবুল গণি ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর হাইকোর্ট বেঞ্চে এই আদেশ আসে।

এই রিট আবেদনটি করেছিলেন বামজোট মনোনীত প্যানেলের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক প্রার্থী বিএম ফাহমিদা আলম। তিনি ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের জিএস পদপ্রার্থী এস এম ফরহাদের প্রার্থিতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেন। হাইকোর্ট তার রায়ে রিটকারীকে ১৫ দিনের মধ্যে ডাকসুর নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে ফরহাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগসমূহ জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

এ বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশের পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে চেম্বার আদালতে আবেদন করে এবং পরবর্তী সময়ে নিয়মিত আবেদন করে আপিল বিভাগের হস্তক্ষেপ প্রার্থনা করে।

ডাকসু নির্বাচনকে ঘিরে এই আইনি জটিলতা নতুন মাত্রা নিয়েছে। দীর্ঘদিন পর ডাকসু নির্বাচনের আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও এবার তা স্থগিত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে এস এম ফরহাদের প্রার্থিতাকে কেন্দ্র করে যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, তা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ডাকসুর মতো ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি সংগঠনের নির্বাচন স্থগিত হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। ডাকসুর নির্বাচনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক চর্চার ক্ষেত্র তৈরি হওয়ার কথা থাকলেও, প্রার্থীদের যোগ্যতা নিয়ে এই বিরোধ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বন্দ্বকেও সামনে নিয়ে এসেছে।

বুধবার আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি শেষে নির্বাচন আয়োজনের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা স্পষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ডাকসু নির্বাচন: হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ বহাল, বুধবার আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি

Update Time : ০৫:২৭:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ef51b96d82ed16ff9f48546cf41d2097 68b6c184c9b37

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ওপর হাইকোর্টের দেওয়া স্থগিতাদেশের মেয়াদ আগামীকাল বুধবার পর্যন্ত বহাল থাকবে। এ বিষয়ে আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পূর্ণাঙ্গ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব এই আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আইনজীবী শিশির মনির। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে লিখেছেন, “ডাকসু নির্বাচনে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ বহাল রয়েছে। আগামীকাল বিষয়টি ফুল কোর্টে শুনানি হবে।”

এর আগে সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে হাইকোর্টের দেওয়া স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে আবেদন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। হাতে লেখা একটি জরুরি আবেদনপত্রের শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে দেন। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নিয়মিতভাবে আপিল বিভাগে আবেদন করার নির্দেশ দেন আদালত। এর প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিয়মিত আবেদন দায়ের করলে মঙ্গলবার চেম্বার আদালত বিষয়টি পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন।

হাইকোর্টের আদেশে সোমবার বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করা হয়। বিচারপতি হাবিবুল গণি ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর হাইকোর্ট বেঞ্চে এই আদেশ আসে।

এই রিট আবেদনটি করেছিলেন বামজোট মনোনীত প্যানেলের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক প্রার্থী বিএম ফাহমিদা আলম। তিনি ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের জিএস পদপ্রার্থী এস এম ফরহাদের প্রার্থিতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেন। হাইকোর্ট তার রায়ে রিটকারীকে ১৫ দিনের মধ্যে ডাকসুর নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে ফরহাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগসমূহ জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

এ বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশের পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে চেম্বার আদালতে আবেদন করে এবং পরবর্তী সময়ে নিয়মিত আবেদন করে আপিল বিভাগের হস্তক্ষেপ প্রার্থনা করে।

ডাকসু নির্বাচনকে ঘিরে এই আইনি জটিলতা নতুন মাত্রা নিয়েছে। দীর্ঘদিন পর ডাকসু নির্বাচনের আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও এবার তা স্থগিত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে এস এম ফরহাদের প্রার্থিতাকে কেন্দ্র করে যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, তা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ডাকসুর মতো ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি সংগঠনের নির্বাচন স্থগিত হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। ডাকসুর নির্বাচনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক চর্চার ক্ষেত্র তৈরি হওয়ার কথা থাকলেও, প্রার্থীদের যোগ্যতা নিয়ে এই বিরোধ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বন্দ্বকেও সামনে নিয়ে এসেছে।

বুধবার আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি শেষে নির্বাচন আয়োজনের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা স্পষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।