জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত না হলে পুনরায় ফ্যাসিবাদের জন্ম হবে: মিয়া গোলাম পরওয়ার
- Update Time : ১১:১৬:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / ১৩০ Time View

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র সেক্রেটারি জেনারেল ও ফোরাম অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (এফডিইবি) কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, “প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচন (পিআর পদ্ধতি) এবং জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত না হলে দেশে আবারও ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটবে। দেশের মানুষ কোনোভাবেই সংস্কারবিহীন নির্বাচন মেনে নেবে না।”
সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এফডিইবি আয়োজিত ‘পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন ও জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, “দেশের প্রায় ৭১ শতাংশ মানুষ পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন চায়। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে ছাত্র-জনতার রক্তদান বিফলে যাবে। যেসব গোষ্ঠী আওয়ামী আমলের মতো স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসন ফিরিয়ে আনতে চায়, তারাই সংস্কার ছাড়া নির্বাচনের পক্ষে। জুলাই বিপ্লবের পর যাদের জনগণ ক্ষমতায় বসিয়েছে তারাও আজ ফ্যাসিবাদের সাথে আপস করছে। তাই দেশে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে পিআর পদ্ধতির বিকল্প নেই।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেডএনআরএফ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও গবেষক ড. সৈয়দ আব্দুল আজিজ বলেন, “পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন কার্যকর হলে জাতীয় সংসদে ক্ষুদ্র দল ও ভিন্নমতের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে। এর মাধ্যমে গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হবে। অন্যদিকে জুলাই সনদ বাংলাদেশের রাজনীতি ও সাংবিধানিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা, যার আইনগত ভিত্তি ও বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করতে জাতীয় ঐকমত্য প্রয়োজন।”
বক্তারা বলেন, বর্তমানে বিশ্বের ৯১টি দেশে পিআর পদ্ধতি চালু রয়েছে। বাংলাদেশে এই পদ্ধতি বাস্তবায়িত হলে রাজনৈতিক ফ্যাসিবাদ রোধ হবে, সংলাপের সংস্কৃতি গড়ে উঠবে এবং বহুদলীয় অংশগ্রহণমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা সহজ হবে। তারা মনে করেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং পিআর পদ্ধতি প্রবর্তন দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সভাপতিত্ব করেন ফোরাম অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রকৌশলী মো. আব্দুছ ছাত্তার শাহ এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী জয়নুল আবেদীন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ইঞ্জিনিয়ার সাইফুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন বাংলাদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী শেখ আল আমিন, সাপ্তাহিক সোনার বাংলার চেয়ারম্যান মো. রফিকুন্নবী, এফডিইবির সহ-সভাপতি প্রকৌশলী মির্জা মিজানুর রহমান, প্রকৌশলী তৈয়েবুর রহমান জাহাঙ্গির এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আব্দুল বাতেন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানটি ছিল দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও নির্বাচনী সংস্কার নিয়ে চলমান জাতীয় আলোচনার অংশ, যা বিভিন্ন পেশাজীবী ও রাজনৈতিক সংগঠনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।










