সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘুষ কেলেঙ্কারিতে সহকারী কর কমিশনার জান্নাতুল ফেরদৌস মিতু সাময়িক বরখাস্ত

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১১:০২:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ১৯৬ Time View

inqilab online desk 35 20250901201837

inqilab online desk 35 20250901201837

করদাতার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ নিয়ে গোপন কর সংক্রান্ত নথি সরবরাহের অভিযোগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সহকারী কর কমিশনার জান্নাতুল ফেরদৌস মিতুকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব এবং এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ বরখাস্তের বিষয়টি জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, কর অঞ্চল-৫, ঢাকার অধীন সার্কেল-৯৩-এ দায়িত্ব পালনকালে সহকারী কর কমিশনার জান্নাতুল ফেরদৌস মিতু করদাতা সালাহ উদ্দিন আহমেদের কাছ থেকে ৩৮ লাখ টাকা ঘুষ নেন। এর বিনিময়ে করদাতার মনোনীত প্রতিনিধি (আয়কর আইনজীবী বা আইটিপি)-কে গোপনীয় ও স্পর্শকাতর নথি সরবরাহ করা হয়। সরবরাহকৃত নথির মধ্যে ছিল পুরনো আয়কর রিটার্ন, অর্ডার শিট, কর নির্ধারণী আদেশ, আপিল ও ট্রাইব্যুনালের আদেশসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টস।

এই ঘটনা সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা সরাসরি লঙ্ঘন করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকার এ ঘটনায় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, ২০১৮ সালের বিধি-১২ অনুযায়ী তাকে এনবিআরের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দিয়ে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন সময় তিনি বিধি মোতাবেক খোরপোষ ভাতা পাবেন।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে আলাদা তদন্ত শুরু করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ঘটনায় কর প্রশাসনের অভ্যন্তরে সাড়া পড়ে গেছে। রাজস্ব সংক্রান্ত সংবেদনশীল নথি বাইরে চলে যাওয়ায় এনবিআর কর্মকর্তারা নিরাপত্তা ও তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজস্ব বোর্ডে দুর্নীতির নানা অভিযোগ উঠলেও সরাসরি প্রমাণের ভিত্তিতে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এমন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা খুব কমই নেওয়া হয়েছে। ফলে মিতুর বরখাস্তের ঘটনা প্রশাসনিক শুদ্ধি অভিযান জোরদারের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ঘুষ কেলেঙ্কারিতে সহকারী কর কমিশনার জান্নাতুল ফেরদৌস মিতু সাময়িক বরখাস্ত

Update Time : ১১:০২:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

inqilab online desk 35 20250901201837

করদাতার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ নিয়ে গোপন কর সংক্রান্ত নথি সরবরাহের অভিযোগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সহকারী কর কমিশনার জান্নাতুল ফেরদৌস মিতুকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব এবং এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ বরখাস্তের বিষয়টি জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, কর অঞ্চল-৫, ঢাকার অধীন সার্কেল-৯৩-এ দায়িত্ব পালনকালে সহকারী কর কমিশনার জান্নাতুল ফেরদৌস মিতু করদাতা সালাহ উদ্দিন আহমেদের কাছ থেকে ৩৮ লাখ টাকা ঘুষ নেন। এর বিনিময়ে করদাতার মনোনীত প্রতিনিধি (আয়কর আইনজীবী বা আইটিপি)-কে গোপনীয় ও স্পর্শকাতর নথি সরবরাহ করা হয়। সরবরাহকৃত নথির মধ্যে ছিল পুরনো আয়কর রিটার্ন, অর্ডার শিট, কর নির্ধারণী আদেশ, আপিল ও ট্রাইব্যুনালের আদেশসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টস।

এই ঘটনা সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা সরাসরি লঙ্ঘন করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকার এ ঘটনায় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, ২০১৮ সালের বিধি-১২ অনুযায়ী তাকে এনবিআরের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দিয়ে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন সময় তিনি বিধি মোতাবেক খোরপোষ ভাতা পাবেন।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে আলাদা তদন্ত শুরু করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ঘটনায় কর প্রশাসনের অভ্যন্তরে সাড়া পড়ে গেছে। রাজস্ব সংক্রান্ত সংবেদনশীল নথি বাইরে চলে যাওয়ায় এনবিআর কর্মকর্তারা নিরাপত্তা ও তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজস্ব বোর্ডে দুর্নীতির নানা অভিযোগ উঠলেও সরাসরি প্রমাণের ভিত্তিতে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এমন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা খুব কমই নেওয়া হয়েছে। ফলে মিতুর বরখাস্তের ঘটনা প্রশাসনিক শুদ্ধি অভিযান জোরদারের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।