সাংবাদিক ইলিয়াসের চাঞ্চল্যকর দাবি: আওয়ামী লীগের প্রত্যক্ষ মদদে চবি শিক্ষার্থীদের ওপর নৃশংস হামলা!
- Update Time : ০৩:০৫:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / ২৮২ Time View

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শিক্ষার্থীদের ওপর সম্প্রতি সংঘটিত নৃশংস হামলার পেছনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সরাসরি মদদ রয়েছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন প্রবাসী অনুসন্ধানী সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের অফিসিয়াল পেজে প্রকাশিত এক পোস্ট এবং ভিডিওচিত্রে তিনি এই অভিযোগ করেন। ভিডিওটিতে হামলাকারীদের হাতে দেশীয় অস্ত্র, হেলমেট, লাঠি-সোটা, রামদা ও চাপাতি নিয়ে প্রকাশ্যে হামলা চালানোর দৃশ্য উঠে এসেছে।
ইলিয়াস হোসাইন দাবি করেন, “নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসীরা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। তারা শুধু হামলাই চালায়নি, শিক্ষার্থীদের ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া, ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করার মতো ভয়াবহ ঘটনা ঘটিয়েছে।” তিনি উল্লেখ করেন, শনিবার রাতে শুরু হওয়া এই সন্ত্রাস রবিবার সারাদিন অব্যাহত থাকে, অথচ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা ছিল দেরিতে ও প্রশ্নবিদ্ধ।
হামলার ভয়াবহতা: হেলমেট বাহিনীর সন্ত্রাসী তাণ্ডব
ভিডিওচিত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় দেখা যায়, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে দিতে হেলমেটধারী হামলাকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস, হল, অলিগলি—কোনো স্থানকেই নিরাপদ রাখেনি। রামদা, চাপাতি, লাঠি-সোটা নিয়ে তারা সংঘবদ্ধভাবে ছাত্রদের ওপর হামলা চালায়। হামলার নৃশংসতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীরা নিজেদের জীবন বাঁচাতে দৌড়ে পালাতে বাধ্য হয়। ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলোতে হামলাকারীদের সহিংসতা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
ঘটনার সূত্রপাত: ছাত্রীকে মারধরের অভিযোগ
ঘটনার সূত্রপাত হয় শনিবার (৩০ আগস্ট) রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই নম্বর গেট সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় থাকা দর্শন বিভাগের এক ছাত্রীকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ রয়েছে, রাত সাড়ে ১১টার দিকে ওই শিক্ষার্থী বাসায় প্রবেশ করতে গেলে দারোয়ান তাকে বাধা দেন এবং একপর্যায়ে মারধর করেন। বিষয়টি দ্রুত ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর রাতেই স্থানীয় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী ক্যাডারদের ডেকে আনা হয়। তারা রাতভর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়।
রবিবার দিনভর সন্ত্রাস
রবিবার (৩১ আগস্ট) সকাল থেকেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে অবস্থান নেয় এবং শতাধিক শিক্ষার্থীর ওপর হামলা চালায়। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। প্রবাসী সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইনের ভিডিও প্রতিবেদনে দেখা যায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেরিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং তাদের ভূমিকা ছিল সন্দেহজনকভাবে নিষ্ক্রিয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থার অবনতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
সাংবাদিক ইলিয়াসের সমালোচনা
ভিডিওতে ইলিয়াস হোসাইন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “যে দলের নেতারা ২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নিরীহ ছাত্রদের হত্যা করেছিল, সেই দল এখনো ছাত্রদের ওপর একই ধরনের নৃশংস হামলা চালাচ্ছে।” তিনি আরও দাবি করেন, আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগ-যুবলীগ এখন সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলেছে, যারা ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ ধ্বংস করে আতঙ্কের রাজত্ব কায়েম করছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ
এই হামলার ঘটনায় দেশের অন্যতম শীর্ষ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র সমালোচনা উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তুলছেন, “প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি যথাসময়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিত, তবে এত বড় সহিংসতা ঘটত না।” সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলো দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে রাজনৈতিক দমনপীড়নের নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশ্লেষণ
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের প্রভাব ও তাদের অঙ্গসংগঠনের দাপট নিয়ে নানা সমালোচনা হয়ে আসছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক সন্ত্রাস ও দলীয় প্রভাবশালী গোষ্ঠীর তৎপরতা শিক্ষার্থীদের জন্য ভয়াবহ সংকট তৈরি করেছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক এই সহিংসতা তারই সর্বশেষ উদাহরণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত না করলে এবং ক্যাম্পাসে স্বাধীন শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত না করলে এ ধরনের সহিংসতা আরও বাড়বে।










