ডাকসু-জাকসু-রাকসু-চাকসু হতেই হবে: সারজিস আলম
- Update Time : ০৬:০০:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / ১৩২ Time View

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন নিয়ে চলমান উত্তেজনা এবং আলোচনার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিকে সুসংহত করতে শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নয়, বরং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) এবং দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচন জরুরি।
সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে সারজিস আলম লেখেন, “বাংলাদেশের স্বার্থে ডাকসু, জাকসু, রাকসু, চাকসু হতেই হবে। যারা শিক্ষার্থীদের সংসদকে ভয় পায়, তারা জনগণের সংসদকেও ভয় পায়। তাদের উদ্দেশ্য অসৎ। তাদেরকে প্রতিরোধ করতে হবে।” তাঁর এই বক্তব্য শিক্ষাঙ্গন এবং রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, হাইকোর্টের একটি রায়ে ডাকসু নির্বাচন স্থগিত করে আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করা হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। হাইকোর্টের বিচারপতি হাবিবুল গণি ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর বেঞ্চ এ সিদ্ধান্ত দেন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ছড়িয়ে পড়লেও একইদিন বিকেলে আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত হাইকোর্টের রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করে, ফলে ডাকসু নির্বাচনের পথ পুনরায় সুগম হয়।
ডাকসু নির্বাচনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ডাকসু এবং হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এবার ডাকসুর মোট ২৮টি পদের বিপরীতে ৪৭১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৬২। সদস্যপদে সবচেয়ে বেশি ২১৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যদিকে ১৮টি হলে ১৩টি পদে মোট ১,০৩৫ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে লড়াইয়ে নামবেন। এ তথ্য থেকে বোঝা যাচ্ছে যে দীর্ঘ বিরতির পর অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব বিকাশে একটি বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে। ডাকসু, জাকসু, রাকসু বা চাকসুর মতো ঐতিহাসিক ছাত্র সংসদগুলো দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তাই সারজিস আলমের মতো রাজনৈতিক সংগঠকদের আহ্বান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নেতৃত্ব গঠনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিতে পারে।
এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ডাকসু নির্বাচনের জন্য ইতিমধ্যে প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রার্থীদের পোস্টার, ম্যানিফেস্টো ও প্রচার কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে নির্বাচনী আমেজ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, যদি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, তবে এটি দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।










