সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়া মৃত্যুর গুজবের পর জনসমক্ষে হাজির ট্রাম্প
- Update Time : ১২:২৬:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫
- / ১৩৫ Time View

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর প্রথমবার জনসমক্ষে দেখা গেছে। গত কয়েকদিন ধরে তার স্বাস্থ্য নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছিল, যা ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর আরও তীব্র হয়।
শনিবার (৩০ আগস্ট) সকালে ওয়াশিংটন ডিসির হোয়াইট হাউসের সাউথ লন থেকে ট্রাম্পকে পরিবারের সঙ্গে গলফ ট্রিপে যেতে দেখা যায়। তিনি সাদা পলো শার্ট, কালো প্যান্ট এবং স্বাক্ষর লাল রঙের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ ক্যাপ পরে উপস্থিত হন। নাতি কাই ট্রাম্প (১৮) ও স্পেন্সার ট্রাম্প (১২)-এর সঙ্গে গাড়িতে ওঠেন ট্রাম্প। গাড়িবহর স্থানীয় সময় সকাল ৯টার কিছু পর ভার্জিনিয়ার স্টার্লিংয়ে অবস্থিত ট্রাম্প ন্যাশনাল গলফ কোর্সে পৌঁছায়।
গুজবের সূত্রপাত
ট্রাম্পের মৃত্যু নিয়ে গুজব শুরু হয় ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ২৭ আগস্ট ইউএসএ টুডেকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকার থেকে। সেখানে তিনি বলেন, যদি কোনো ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কমান্ডার-ইন-চিফের দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত। যদিও একই সাক্ষাৎকারে তিনি ট্রাম্পকে সুস্থ ও উদ্যমী বলে উল্লেখ করেছিলেন, তারপরও সামাজিক মাধ্যমে ‘ট্রাম্প মৃত’ ও ‘ট্রাম্প কোথায়’ হ্যাশট্যাগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
ভ্যান্স পরে জানান, “আমি প্রতিদিন রাতে ট্রাম্পের শেষ ফোন কলটি পাই এবং সকালে প্রথম ফোন কলটি তার কাছ থেকেই আসে। আমি আত্মবিশ্বাসী যে প্রেসিডেন্ট সুস্থ আছেন, মেয়াদ শেষ করবেন এবং জনগণের জন্য কাজ চালিয়ে যাবেন।” তবুও এই মন্তব্যের পর অনলাইনে গুজব থামেনি এবং বিশ্বজুড়ে শিরোনাম হয় ট্রাম্পের স্বাস্থ্যের বিষয়টি।
স্বাস্থ্যসংক্রান্ত পূর্ববর্তী উদ্বেগ
ট্রাম্পের শারীরিক অবস্থা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। গত জুলাইয়ে হোয়াইট হাউস জানিয়েছিল, তিনি ‘ক্রনিক ভেনাস ইনসাফিসিয়েন্সি’ রোগে ভুগছেন, যার কারণে তার পায়ে শিরায় রক্ত জমে ফুলে যায়। এছাড়া, দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচনী প্রচারণার সময় দু’বার তিনি হত্যাচেষ্টার শিকার হন, তবে সৌভাগ্যবশত তিনি প্রাণে বেঁচে যান।
অনলাইনে গুজবের ইতিহাস
ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে অনলাইনে ভুয়া মৃত্যুর খবর নতুন কিছু নয়। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ট্রাম্পপুত্র ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের এক্স (পূর্বে টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার পর সেখানে ট্রাম্পের মৃত্যুর ভুয়া পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছিল। তখন ট্রাম্প নিজেই একটি ভিডিওবার্তায় নিশ্চিত করেন যে তিনি বেঁচে আছেন। সাম্প্রতিক গুজবও সেই ইতিহাসেরই পুনরাবৃত্তি, যা প্রমাণ করে, রাজনৈতিক মেরুকরণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।
বিশ্লেষণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনমুখী রাজনীতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বাস্থ্য নিয়ে গুজব ছড়ানো আসলে একটি কৌশলগত প্রোপাগান্ডার অংশ হতে পারে। নির্বাচনী বছর ঘনিয়ে আসায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও বিভ্রান্তি বাড়ছে, যা জনমত প্রভাবিত করার বড় হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক জনসমক্ষে উপস্থিতি এবং তার পরিবারের সঙ্গে স্বাভাবিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়া এই গুজবের অবসান ঘটালেও এটি দেখিয়ে দিয়েছে কীভাবে ভুয়া খবর অনলাইনে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রভাব ফেলে।










