চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশে ১৪৪ ধারা জারি, সংঘর্ষে উত্তপ্ত ক্যাম্পাস
- Update Time : ০৫:৩২:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫
- / ২৬৬ Time View

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে সংঘর্ষের পরিপ্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন। রবিবার (৩১ আগস্ট) দুপুর ২টা থেকে শুরু হওয়া এই নির্দেশনা সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট বাজারের পূর্ব দিক থেকে রেলগেট পর্যন্ত রাস্তার উভয়পাশে জননিরাপত্তা ও শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। এ সময় ওই এলাকায় কোনো ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল, গণজমায়েত, বিস্ফোরক দ্রব্য, আগ্নেয়াস্ত্র বা দেশীয় অস্ত্র বহন নিষিদ্ধ থাকবে। পাশাপাশি একত্রে পাঁচ বা ততোধিক মানুষের অবস্থান ও চলাফেরাও সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সংঘর্ষে আহত অন্তত ২০ শিক্ষার্থী
রবিবার সকালে ফের শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে উভয়পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে যায়। এতে অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী আহত হন বলে জানা গেছে। সংঘর্ষ চলাকালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করতে গিয়ে স্থানীয়দের ধাওয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা চালাচ্ছে। সংঘর্ষের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক বন্ধ করে শিক্ষার্থীরা জিরো পয়েন্ট এলাকায় বিক্ষোভ শুরু করেছে। তারা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত শনিবার রাতে
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ক্যাম্পাস সংলগ্ন ২ নম্বর গেট এলাকার শাহাবুদ্দীন ভবন নামে একটি আবাসিক ভবনে এক প্রথম বর্ষের নারী শিক্ষার্থী দারোয়ানের হাতে নিগৃহীত হন। এ ঘটনার জেরেই রবিবার সকালে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই শিক্ষার্থী রাতে বাসায় ফেরার সময় দারোয়ান দরজা খুলতে অস্বীকৃতি জানান। পরে তার রুমমেটরা গেট খোলার জন্য চাপ দিলে দারোয়ান ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষার্থীর ওপর শারীরিকভাবে হামলা করেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, “আমি রাত ১১টা ২০ মিনিটে বাসায় পৌঁছাই। সাধারণত রাত ১২টা পর্যন্ত ঢোকার অনুমতি থাকে। কিন্তু অনেকক্ষণ ডাকাডাকির পরও দারোয়ান গেট খোলেননি। পরে আমার রুমমেটরা গেট খোলার জন্য বাধ্য করলে তিনি আমার ওপর চড়াও হন। আমার ঘাড়ে চড় মারেন।”
উত্তপ্ত পরিস্থিতি, ক্যাম্পাসজুড়ে উত্তেজনা
শিক্ষার্থী নিগ্রহের খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে শিক্ষার্থীরা দল বেঁধে ২ নম্বর গেট এলাকায় জড়ো হয়। স্থানীয়দের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থানে গেলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রবিবার সকালেও একই এলাকায় পুনরায় সংঘর্ষ বাধে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বর্তমানে এলাকায় টহল দিচ্ছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, উত্তেজনা প্রশমনের জন্য শিক্ষার্থী প্রতিনিধি ও স্থানীয়দের সঙ্গে একাধিক বৈঠকের চেষ্টা চলছে।










