সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘ভণ্ডামি বাদ দেন স্যার’— নুরুল হক নুরের ওপর হামলা নিয়ে আসিফ নজরুলকে তীব্র সমালোচনা হাসনাতের

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১১:১২:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫
  • / ১২৩ Time View

72a2847a1fc060e830a8c8541d218ee2 68b2217ae42bc

72a2847a1fc060e830a8c8541d218ee2 68b2217ae42bc

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও সাবেক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার ঘটনায় দলটির আইন উপদেষ্টা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তবে তার এই প্রতিবাদ ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ সরাসরি ড. আসিফ নজরুলকে আক্রমণ করে মন্তব্য করেছেন, “ভণ্ডামি বাদ দেন স্যার।”

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে এক পোস্টে ড. আসিফ নজরুল লেখেন, ভিপি নুরুল হক নুরের ওপর বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এই মন্তব্যের পরপরই এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ পোস্টটিতে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে লেখেন, প্রতিবাদের কাজ আপনার? ভণ্ডামি বাদ দেন স্যার। যেই জন্য বসানো হইছে সেটা না করে কী কী করছেন, এসবের হিসাব দিতে হবে। কে কোথায় কীভাবে কোন কাজে বাধা দিছে, এসব খবর আমাদের কাছে আছে। এসব প্রতিবাদের ভঙ না ধরে কাজটা করেন।

হাসনাত আবদুল্লাহর এই তীব্র প্রতিক্রিয়ায় রাজনৈতিক মহলে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ড. আসিফ নজরুলের রাজনৈতিক অবস্থান ও ভূমিকা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন।

এর আগে শুক্রবার রাতে রাজধানীর বিজয়নগরে জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পরে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ ও লাঠিপেটার ঘটনায় গুরুতর আহত হন নুরুল হক নুর। গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান সাংবাদিকদের জানান, আমরা সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। হঠাৎ করে পুলিশ এসে আমাদের ওপর লাঠিচার্জ করে। এতে নুর ভাইসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।

ড. আসিফ নজরুলের প্রতিবাদ পোস্ট সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই তার অবস্থানকে সাধুবাদ জানান এবং হামলার তীব্র নিন্দা করেন। তবে হাসনাত আবদুল্লাহর মন্তব্যে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সমীকরণ ও ব্যক্তিগত আক্রমণ নিয়ে আলোচনা আরও তীব্র হয়। কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, এই ধরনের মন্তব্য রাজনৈতিক দায় এড়ানোর চেষ্টা এবং ভিন্নমত দমন করার ইঙ্গিতবাহী।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নুরুল হক নুরকে ঘিরে প্রতিটি রাজনৈতিক ঘটনাই সরকারের নীতি, বিরোধী দলের কৌশল এবং তরুণ নেতৃত্বের প্রতি জনগণের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করে। এই ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে যে তর্ক-বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ব্যক্তিগত আক্রমণের সংস্কৃতির প্রতিফলন।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

‘ভণ্ডামি বাদ দেন স্যার’— নুরুল হক নুরের ওপর হামলা নিয়ে আসিফ নজরুলকে তীব্র সমালোচনা হাসনাতের

Update Time : ১১:১২:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫

72a2847a1fc060e830a8c8541d218ee2 68b2217ae42bc

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও সাবেক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার ঘটনায় দলটির আইন উপদেষ্টা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তবে তার এই প্রতিবাদ ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ সরাসরি ড. আসিফ নজরুলকে আক্রমণ করে মন্তব্য করেছেন, “ভণ্ডামি বাদ দেন স্যার।”

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে এক পোস্টে ড. আসিফ নজরুল লেখেন, ভিপি নুরুল হক নুরের ওপর বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এই মন্তব্যের পরপরই এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ পোস্টটিতে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে লেখেন, প্রতিবাদের কাজ আপনার? ভণ্ডামি বাদ দেন স্যার। যেই জন্য বসানো হইছে সেটা না করে কী কী করছেন, এসবের হিসাব দিতে হবে। কে কোথায় কীভাবে কোন কাজে বাধা দিছে, এসব খবর আমাদের কাছে আছে। এসব প্রতিবাদের ভঙ না ধরে কাজটা করেন।

হাসনাত আবদুল্লাহর এই তীব্র প্রতিক্রিয়ায় রাজনৈতিক মহলে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ড. আসিফ নজরুলের রাজনৈতিক অবস্থান ও ভূমিকা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন।

এর আগে শুক্রবার রাতে রাজধানীর বিজয়নগরে জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পরে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ ও লাঠিপেটার ঘটনায় গুরুতর আহত হন নুরুল হক নুর। গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান সাংবাদিকদের জানান, আমরা সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। হঠাৎ করে পুলিশ এসে আমাদের ওপর লাঠিচার্জ করে। এতে নুর ভাইসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।

ড. আসিফ নজরুলের প্রতিবাদ পোস্ট সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই তার অবস্থানকে সাধুবাদ জানান এবং হামলার তীব্র নিন্দা করেন। তবে হাসনাত আবদুল্লাহর মন্তব্যে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সমীকরণ ও ব্যক্তিগত আক্রমণ নিয়ে আলোচনা আরও তীব্র হয়। কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, এই ধরনের মন্তব্য রাজনৈতিক দায় এড়ানোর চেষ্টা এবং ভিন্নমত দমন করার ইঙ্গিতবাহী।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নুরুল হক নুরকে ঘিরে প্রতিটি রাজনৈতিক ঘটনাই সরকারের নীতি, বিরোধী দলের কৌশল এবং তরুণ নেতৃত্বের প্রতি জনগণের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করে। এই ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে যে তর্ক-বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ব্যক্তিগত আক্রমণের সংস্কৃতির প্রতিফলন।