সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, বিচার হবে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে: নীতিগত অনুমোদন পেল খসড়া অধ্যাদেশ

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১১:২৭:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫
  • / ২০২ Time View

061f46f7149142b72dd8e5c674a722aa 68b0aff52762d

061f46f7149142b72dd8e5c674a722aa 68b0aff52762d

গুম প্রতিরোধে কঠোর আইন প্রণয়নের পথে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। ‘গুম প্রতিরোধ, প্রতিকার ও সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। প্রস্তাবিত এই আইন অনুযায়ী গুমকে সংজ্ঞায়িত করে এটিকে চলমান গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং এর সর্বোচ্চ শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড। গোপন আটককেন্দ্র স্থাপন বা ব্যবহারকেও সরাসরি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে খসড়াটি নীতিগত অনুমোদন পায়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। বৈঠক শেষে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, এটি এখনো নীতিগত অনুমোদন পর্যায়ে রয়েছে। প্রস্তাবিত আইন নিয়ে আরও আলোচনা ও সংশোধনের পর খসড়াটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আবারও উপদেষ্টা পরিষদে তোলা হবে।

খসড়া আইন অনুযায়ী, গুমসংক্রান্ত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে এবং অভিযোগ গঠনের ১২০ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা থাকবে। আইনটিতে ভুক্তভোগী, সাক্ষী এবং তথ্যদাতাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ এবং আইনগত সহায়তার বিধানও রাখা হয়েছে।

শফিকুল আলম বলেন, “গুম প্রতিরোধ, প্রতিকার ও সুরক্ষা অধ্যাদেশে গুমকে সংজ্ঞায়িত করে কঠোর শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া গোপন আটক কেন্দ্র পরিচালনা ও ব্যবহারকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে গুম সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্ত করার ক্ষমতা দেওয়া হবে।”

প্রস্তাবিত আইন তৈরির প্রক্রিয়ায় গুম-সংক্রান্ত কমিশনের মতামত, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের সুপারিশ এবং আইন ও বিচার বিভাগ কর্তৃক আয়োজিত দুটি মতবিনিময় সভার পরামর্শ বিবেচনা করে খসড়াটি চূড়ান্ত করা হয়েছে।

তিনটি স্থলবন্দর বন্ধ, একটি স্থগিত

উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়াধীন দেশের তিনটি স্থলবন্দর বন্ধ ঘোষণা এবং একটি স্থলবন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রাখার প্রস্তাবও অনুমোদন পায়। বন্ধ ঘোষিত স্থলবন্দরগুলো হলো—নীলফামারীর চিলাহাটি স্থলবন্দর, চুয়াডাঙ্গার দৌলতগঞ্জ স্থলবন্দর এবং রাঙামাটির তেগামুখ স্থলবন্দর। এছাড়া হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার বাল্লা স্থলবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হবে।

প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, দেশের বেশ কিছু স্থলবন্দর রাজনৈতিক বিবেচনায় অনুমোদন দেওয়া হলেও প্রত্যাশিত বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় এগুলো সরকারের জন্য আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব বন্দর রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মকর্তাদের পোস্টিংয়ে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হচ্ছে। তিনি জানান, বর্তমানে কার্যক্রমহীন আরও চারটি স্থলবন্দর রয়েছে, যেগুলো নিয়ে ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস সরকারি দিবস হিসেবে স্বীকৃত

একই বৈঠকে ১৭ অক্টোবর লালন সাঁইয়ের ‘তিরোধান দিবস’কে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত সরকারি দিবস ঘোষণার প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এবং সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ উপস্থিত ছিলেন।

এই নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগকে মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে গুম নিয়ে দেশে ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা মোকাবেলায় এই আইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, বিচার হবে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে: নীতিগত অনুমোদন পেল খসড়া অধ্যাদেশ

Update Time : ১১:২৭:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫

061f46f7149142b72dd8e5c674a722aa 68b0aff52762d

গুম প্রতিরোধে কঠোর আইন প্রণয়নের পথে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। ‘গুম প্রতিরোধ, প্রতিকার ও সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। প্রস্তাবিত এই আইন অনুযায়ী গুমকে সংজ্ঞায়িত করে এটিকে চলমান গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং এর সর্বোচ্চ শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড। গোপন আটককেন্দ্র স্থাপন বা ব্যবহারকেও সরাসরি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে খসড়াটি নীতিগত অনুমোদন পায়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। বৈঠক শেষে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, এটি এখনো নীতিগত অনুমোদন পর্যায়ে রয়েছে। প্রস্তাবিত আইন নিয়ে আরও আলোচনা ও সংশোধনের পর খসড়াটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আবারও উপদেষ্টা পরিষদে তোলা হবে।

খসড়া আইন অনুযায়ী, গুমসংক্রান্ত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে এবং অভিযোগ গঠনের ১২০ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা থাকবে। আইনটিতে ভুক্তভোগী, সাক্ষী এবং তথ্যদাতাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ এবং আইনগত সহায়তার বিধানও রাখা হয়েছে।

শফিকুল আলম বলেন, “গুম প্রতিরোধ, প্রতিকার ও সুরক্ষা অধ্যাদেশে গুমকে সংজ্ঞায়িত করে কঠোর শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া গোপন আটক কেন্দ্র পরিচালনা ও ব্যবহারকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে গুম সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্ত করার ক্ষমতা দেওয়া হবে।”

প্রস্তাবিত আইন তৈরির প্রক্রিয়ায় গুম-সংক্রান্ত কমিশনের মতামত, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের সুপারিশ এবং আইন ও বিচার বিভাগ কর্তৃক আয়োজিত দুটি মতবিনিময় সভার পরামর্শ বিবেচনা করে খসড়াটি চূড়ান্ত করা হয়েছে।

তিনটি স্থলবন্দর বন্ধ, একটি স্থগিত

উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়াধীন দেশের তিনটি স্থলবন্দর বন্ধ ঘোষণা এবং একটি স্থলবন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রাখার প্রস্তাবও অনুমোদন পায়। বন্ধ ঘোষিত স্থলবন্দরগুলো হলো—নীলফামারীর চিলাহাটি স্থলবন্দর, চুয়াডাঙ্গার দৌলতগঞ্জ স্থলবন্দর এবং রাঙামাটির তেগামুখ স্থলবন্দর। এছাড়া হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার বাল্লা স্থলবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হবে।

প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, দেশের বেশ কিছু স্থলবন্দর রাজনৈতিক বিবেচনায় অনুমোদন দেওয়া হলেও প্রত্যাশিত বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় এগুলো সরকারের জন্য আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব বন্দর রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মকর্তাদের পোস্টিংয়ে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হচ্ছে। তিনি জানান, বর্তমানে কার্যক্রমহীন আরও চারটি স্থলবন্দর রয়েছে, যেগুলো নিয়ে ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস সরকারি দিবস হিসেবে স্বীকৃত

একই বৈঠকে ১৭ অক্টোবর লালন সাঁইয়ের ‘তিরোধান দিবস’কে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত সরকারি দিবস ঘোষণার প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এবং সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ উপস্থিত ছিলেন।

এই নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগকে মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে গুম নিয়ে দেশে ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা মোকাবেলায় এই আইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।