রিজার্ভ চুরির তদন্ত প্রতিবেদন ফের পেছাল: ৮৮ বার সময় চাওয়ায় প্রশ্ন তদন্ত অগ্রগতিতে
- Update Time : ০৫:৩১:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৫
- / ৩০৪ Time View

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় আবারও পিছিয়ে গেল। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিন ধার্য থাকলেও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তা জমা দিতে না পারায় ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালত নতুন তারিখ হিসেবে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর ধার্য করেন। এর ফলে এই মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় ইতোমধ্যে ৮৮ বারের মতো পেছাল।
২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ঘটে দেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় সাইবার ডাকাতি। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে সুইফট কোড হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার, যা তৎকালীন সময়ে প্রায় ৬৫০ কোটি টাকার সমান, চুরি হয়। চুরি হওয়া অর্থের একটি বড় অংশ দ্রুত ফিলিপাইনে পাচার করা হয় এবং পরে ক্যাসিনো খাতে তা লোপাট হয়ে যায় বলে আন্তর্জাতিক তদন্তে উঠে আসে। এই ঘটনা বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তোলে এবং বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা ও আর্থিক খাতের তদারকি ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা উন্মোচন করে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা ধারণা করেন, শুধু আন্তর্জাতিক হ্যাকার চক্র নয়, দেশের ভেতরের একটি প্রভাবশালী চক্রও এই চুরির সঙ্গে জড়িত ছিল। ব্যাংকিং খাতের সাইবার নিরাপত্তার ঘাটতি ও অভ্যন্তরীণ ত্রুটি কাজে লাগিয়ে এই ডাকাতি সংঘটিত হয়।
ঘটনার পর ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং ডিপার্টমেন্টের উপ-পরিচালক জোবায়ের বিন হুদা বাদী হয়ে মতিঝিল থানায় মামলা করেন। মামলা দায়ের করা হয় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ (সংশোধনী ২০১৫)-এর ৪ ধারা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন-২০০৬-এর ৫৪ ধারা এবং দণ্ডবিধির ৩৭৯ ধারায়। মামলাটি শুরু থেকেই সিআইডির তদন্তাধীন থাকলেও দীর্ঘ নয় বছরের বেশি সময় পার হলেও কার্যকর কোনো প্রতিবেদন বা চার্জশিট আদালতে দাখিল হয়নি।
মামলার দীর্ঘসূত্রিতায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি অর্থনীতি বিশেষজ্ঞদের মধ্যে গভীর হতাশা দেখা দিয়েছে। তারা মনে করছেন, দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত আর্থিক অপরাধের বিচারহীনতা দেশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করছে। শুধু তাই নয়, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতেও বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে নেতিবাচক বার্তা যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রিজার্ভ চুরির ঘটনার মূল অপরাধীদের শনাক্ত ও বিচারের আওতায় আনতে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতেও এমন সাইবার হামলার ঝুঁকি থেকেই যাবে। উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় দেশের আর্থিক খাতে ডিজিটাল অবকাঠামো শক্তিশালী করা এবং দক্ষ সাইবার বিশেষজ্ঞ তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।
তদন্ত প্রতিবেদনের সময় বারবার পেছানোর ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। তারা মনে করেন, দেশের অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাতের জন্য এত বড় কলঙ্কজনক ঘটনার বিচার দ্রুত নিশ্চিত না হলে এর নেতিবাচক প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে দেশের আর্থিক সুনামের ওপর পড়বে।










